সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতার অভিযোগ 'শত্রুতার জেরে ছেলে-মেয়েকে স্বর্ণ চুরির মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে' মিরসরাইয়ে পাহাড়ধসে সন্তানহারা পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ, স্থাপন করলেন নলকূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর-নুরুল আমিন এমপি রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন আদমদীঘিতে মাদক বেচা-কেনার অভিযোগ: হিজরাপট্টিতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা মেম্বার প্রার্থীর পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা ও গেঞ্জি বিতরণ আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে কৃষ্ণনগরে জি এম রবিউল্যাহ বাহারের কর্মী সমাবেশ, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু শেরপুরের শ্রীবরদীতে খাল থেকে ড্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত শ্যামনগরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কচুয়ায় সাচারে শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজার মন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি রাজশাহী কাটাখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডল ও ১.৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নগদ ১১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭০ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ মানবিক উদ্যোগে শেরপুরবাসীর আস্থা অর্জনে এগিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন লালপুরে মাজার ও মসজিদে চুরি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশা ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৪ উদ্যোগ সরকারের সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

গল্প: হেঁটে আসা বৈশাখ

সাকিবুল হাসান - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 26-04-2025 06:54:18 pm

বৈশাখের দ্বিতীয় দিন। দুপুরের খরতাপে যেন পুরো শহরটা ঘুমিয়ে পড়েছে। চারদিকে নীরবতা, কিন্তু ঋদুর ভেতরটা যেন উল্টো আগুন হয়ে জ্বলছিল। ঈদের ছুটি ছিল—মন চেয়েছিল একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়, একটু নিজের মতো করে বাঁচা। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, মানুষের ভিড়ে সে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিল। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই শহরে ফিরে আসতে হয়েছিল। শরীরটাও ভালো ছিল না। ভরদুপুরে বিছানায় শুয়ে থাকতেই হঠাৎ এক ফিসফিসে কণ্ঠ কানে আসে— “নিজের মন যা চায়, তাই কর।” অবাক হয়ে উঠে বসে, চারপাশে তাকায়—কেউ নেই। আবার শুয়ে পড়তেই কণ্ঠটা যেন আরও স্পষ্ট হয়। বুকের ভেতর কেমন যেন ভারী হয়ে আসে। শিক্ষার্থী, সজিব হোসেন হুট করে সিদ্ধান্ত নেয় ঋদু। আর কিছু না ভেবে ব্যাগ গুছিয়ে শেষ বিকেলের বাসে উঠে পড়ে। রাত গভীর হলে গ্রামের শেষ স্টপেজে নামে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। কোনো রিকশা নেই, ভ্যানও না। হাঁটতে হাঁটতে ধানক্ষেতের গন্ধ, ব্যাঙ আর ঝিঁঝিপোকার ডাক, রাতজাগা পাখির সুর—সবকিছু মিলিয়ে একটা শান্তির চাদরে মুড়ে ফেলে ঋদুকে। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। বাড়িতে ঢুকতেই আম্মা দরজায়, মুচকি হেসে বলেন, “আসার আগে একটা ফোন তো করতে পারতি!” মামি জানায়, ভাত রাখা আছে। “মামা এলে খাব,” বলে ঋদু। ব্যাগ রেখে দৌড়ে যায় পুকুরপাড়ে—জামগাছের নিচে, তার প্রিয় জায়গায়। গাছের উপর থেকে এক পাখি উড়ে যায়। পুকুরের হাওয়ায় শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। আকাশে চাঁদ, মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে। হঠাৎ বাঁশ ঝাড়ের দিকে চোখ যায়—একটা হুতোম প্যাঁচার ডাক, বাঁশ নড়ে ওঠে। শরীরটা শিউরে ওঠে। ঠিক তখন পকেট vibrate করে—মামার ফোন। “ঋদু, এত রাতে কোথায়?” “আসছি,” শুধু এটুকুই বলে ফোন রেখে দেয়। সকালে ঘুম ভাঙে শিশু-কিশোরদের কোলাহলে। বাইরে বের হতেই সবার চমক— “ঋদু ভাই! এত সকালে?” কারও টিপ্পনী, কারও হাসি—ঋদু শুধু হেসে যায়। মনে মনে ভাবে, “কখনো কখনো, সবকিছুর বাইরে চলে যাওয়াটাই দরকার—শুধু নিজের মনের কথা শোনার জন্য।” দুপুরে বিছানায় শুয়ে ছিল। আচমকাই যেন কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, চুলগুলো ধীরে টেনে দেয়। হালকা ঠান্ডা বাতাসে শরীরটাও কেঁপে ওঠে। চোখের সামনে ফুটে ওঠে এক চেনা দৃষ্টি—বঙ্কিম হাসি, মৃদু ভঙ্গিমায় হেঁটে আসছে মেয়েটি। এসে বসে খাটের ডান পাশে। ঋদু তাকিয়ে দেখে—ডান কানের ঠিক দেড় ইঞ্চি নিচে সেই চিরচেনা তিলক। কখনো কোনো কথায় ধরা দেয়নি, অথচ এই তিলকে চোখ আটকে যেত বারবার। এই কি সেই? জীবনানন্দ হয়তো এমন একটি তিলকে ঘিরেই লিখতেন এক আশ্চর্য কবিতা। আর একজন ঔপন্যাসিক হয়তো সে তিলক বর্ণনায় লিখে ফেলতেন গোটা উপন্যাস। বিকট শব্দে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। টিনের চালায় আমগাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। বারান্দায় গিয়ে দেখে বিচ্ছু বাহিনী বৃষ্টিতে ভিজে আম কুড়াচ্ছে। “এই তোরা বৃষ্টিতে ভিজতেছিস কেন? লাঠি কই? দাঁড়া আসতেছি... জ্বর হলে কি করবি?” বাচ্চারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর ঋদুর মাথায় ঘুরতে থাকে সেই দৃষ্টি। বিকেলে বড় ভাতিজা এসে বলে, “চলেন চাচা, গ্রামটা একটু ঘুরে আসি।” চাচা-ভাতিজা মিলে গ্রামের পথে হাঁটে। পুরনো জায়গা, নতুন চেহারা। নতুন বিল্ডিং, কিন্তু পুরোনো মানসিকতা— অহংকারে ভরা কিছু মানুষ, তুচ্ছ বিষয়ে অশান্তি, ক্ষমতার দাপট। বুক ভারী হয়ে ওঠে। ভাবে, এই গ্রামটা কবে বদলাবে? পরের দিন বাজারে বৈশাখী মেলা বসে। বিচ্ছু বাহিনী খেলনায় খুশি। গ্রামের বিকেলগুলো ভরে ওঠে হাসিতে, আড্ডায়। ঋদু কিছুদিন থেকে যায়। শেষ বিকেলে হঠাৎ মনে হয়—ছুটি শেষ, ফিরতে হবে। বিকালের চায়ের আসরে আম ভর্তা দিয়ে শেষ হয় বৈশাখী আড্ডা। চোখ খুঁজে বেড়ায় ভাইয়ার মুখ—এবার আর এল না। ঋদু ফিরে আসে শহরের পথে—এক মহা শূন্যতা নিয়ে। চোখের সামনে ভাসে সেই মোহময়ী দৃষ্টি। কে ছিল সে? স্বপ্ন? স্মৃতি? বাস্তব? নাকি শুধুই এক আকাঙ্ক্ষার রূপ? বৈশাখ কেটে যায়, কিন্তু কিছু দৃষ্টি হৃদয়ে থেকে যায়। যেমন হেঁটে আসা সেই বৈশাখ, রয়ে যায় শুধু স্মৃতির ফ্রেমে।
Tag
আরও খবর
deshchitro-6ad260f203dd2-161026113754.webp
আল-আমিন হোসেনের লেখা কবিতা "মেঘকন্যা"

৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে



6ab2088728d48-220926104807.webp
আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

৩১ দিন ১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে


6aad3c200ff72-180926072656.webp
শরৎ বিকেল - ইফতেখার রবিন

৩৪ দিন ১৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে




deshchitro-6a7c71c1882b3-120826071441.webp
কাজী এহসানুল হক জিহাদের লেখা কবিতা "দরদাম"

৭১ দিন ১৭ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে