রংপুরের পীরগাছায় ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে পাথর মিশ্রিত, লালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাল বিতরণকালে এমন চিত্র দেখা যায় তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল পাথর মিশ্রিত চাল দেখে বিতরণ কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেন। সেই চাল খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় তা নিয়ে উপকারভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক উপকারভোগী হাতে পাওয়া বস্তা খুলে হতাশ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ চালগুলো পাথর মিশ্রিত, লালচে রঙের যা খাওয়ার জন্য উপযোগী নয়।
উপকারভোগী রেজিয়া বেগম বলেন, এই চাল গন্ধ করে খাওয়া যাবে না। মানুষ মারার জন্য এই চাল নিয়ে আসছেন। আমরা গরীব মানুষ এই চাল নষ্ট আমরা কিভাবে খাবো। মতিয়ার রহমান বলেন, এই চাল খাওয়া সম্ভব না। এই চাল গরুও খাবে না, মানুষ কি করে খাবে। বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বলেন, এই চালের অবস্থা খুবই ভয়ানক। যতক্ষণ ভালো চাল না আসে ততক্ষণ এই চাল বিতরণ করা হবে না। এসময় ফুলজার, খাইরুল, মেহেদী হাসান মারুফ, খলিল সহ আরও অনেকে একই অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের খাদ্য সহায়তা হিসাবে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। এরই মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ৯ ইউনিয়নের ২হাজার ৯৮৬ জন উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য তিন মাসের ৯০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। সে মোতাবেক গত ২১আগস্ট (জুলাই-আগস্ট) মাসের এবং ২২ সেপ্টেম্বর চলতি মাসের ডিও বা খাদ্য আদেশ হয়। পীরগাছা খাদ্য গুদাম থেকে এরই মধ্যে তিন মাসের জন্য ২৬৮.৭৪০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে নেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকরা। পুষ্টি/কার্ণেল মিশ্রনের কারণে একজন উপকারভোগী ৩০ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল পাবেন।
তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, পীরগাছা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে জুলাই-আগষ্ট মাসে ভিডব্লিউবি’র চাল উত্তোলন করা হয়। পরিষদের গুদামে চালগুলো আনার পর দেখা যায় অধিকাংশ বস্তায় পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবারহ করা হয়েছে। চালগুলো একেক বস্তায় একেক ধরনের। কৈকুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম মিয়া বলেন, পচা ও পাথর মিশ্রিত চাল সরবরাহ করা হয়েছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলোয়ারা বেগম বলেন, আমি কৈকুড়ী ইউনিয়নের একটি পাথর মিশ্রিত বস্তা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু ওই ওইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চাল ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। পীরগাছা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সুজা আহামেদ বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন, আগামি মাস হতে আমি নিজে মনিটরিং করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, আমি জানার পর সকল চেয়ারম্যানকে বলেছি নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হবেনা। নিম্নমানের বা পাথর মিশ্রিত চাল ফেরত দেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
৩ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ০ মিনিট আগে