মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও জাতীয় পর্যায়ে একদল যুগোপযোগী মুহাক্কিক আলেম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘আরবী নেসাব’ (আরবি মাধ্যম) বিভাগ চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে এই নতুন বিভাগের আনুষ্ঠানিক ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে কুরআন ও হাদিসের প্রকৃত মর্ম অনুধাবন এবং বহির্বিশ্বে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আরবী ভাষার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই তা’মীরুল মিল্লাত তাদের টঙ্গী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এই আরবী নেসাব শাখাটি চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার নির্দেশনার পাশাপাশি আরবী ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) এবং আরবী ভাষায় অনর্গল কথা বলা ও লেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া দেশ-বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে মিশরের আল-আজহার, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বা উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে সহজেই পড়াশোনার সুযোগ পায়। হাতের সুন্দর লেখা ও নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই এই বিভাগের মূল লক্ষ্য।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ থেকে আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভর্তির ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার, বাদ জোহর)। সফলভাবে উত্তীর্ণদের নিয়ে ১৫ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে। ক্লাসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ২:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত। এছাড়া আগামী বছর থেকে আবাসিক ইনস্টিটিউট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরবী নেসাব বিভাগে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা এবং মাসিক কোর্স ফি ১৫০০ টাকা। ভর্তি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ (০১৬২২-৪১৬৬৮৫) বা মাওলানা আমিনুল হক আজহারী (০১৯২৭-২৮৯১৯২)-এর সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া হটলাইন নম্বর হিসেবে ০১৩০৯-১০৯০০৬ সচল রয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরবী ভাষায় আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন দক্ষতা অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।