◼️সাগর আহমেদ, ইতালি : ইতালির পার্লামেন্টে এখন একটাই আলোচনা প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ১০ ইউরো মজুরি। দেশটির বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দাবি নিয়ে মাঠে নামায় মেলোনি সরকার এখন কড়া চাপে পড়েছে। লক্ষাধিক প্রবাসী শ্রমিক, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন, তাকিয়ে আছেন রোমের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে।
ইতালির প্রধান বিরোধী দল পার্তিতো ডেমোক্রাতিকো (PD)-এর নেত্রী এলি শ্লিন এবং ফাইভ স্টার মুভমেন্ট (M5S)-এর নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে একজোট হয়ে ঘণ্টায় ১০ ইউরো ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে ১০ ইউরোর নিচে কাজ করা মানেই দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটানো।
বর্তমানে ইতালিতে কোনো জাতীয় আইনি ন্যূনতম মজুরি নেই। শিল্প খাতভিত্তিক যৌথ দরকষাকষি চুক্তি (CBA) অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টরে মজুরি নির্ধারিত হয়, যা সাধারণত ঘণ্টায় ৭ থেকে ৯ ইউরোর মধ্যে। কিন্তু বাস্তব চিত্র আরও করুণ। মজুরি-সুরক্ষিত খাতেও প্রায় ১০ শতাংশ শ্রমিক নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম বেতন পাচ্ছেন। পরিচ্ছন্নতা, কৃষি ও রেস্টুরেন্ট খাতে অনেক প্রবাসী ৫ থেকে ৭ ইউরোতেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুধু বিরোধী দল নয়, বাইরে থেকেও চাপ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ন্যূনতম মজুরি নির্দেশিকা অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোতে পর্যাপ্ত মজুরি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতালিতে কম মজুরির ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় দেশটির চুক্তি-নির্ভর মজুরি পদ্ধতি এখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি সরাসরি আইনি মজুরির বিরোধী। সরকারের বক্তব্য, মালিক-শ্রমিক যৌথ চুক্তির মাধ্যমেই মজুরি নির্ধারণ হোক। কিন্তু বিরোধী দলগুলো বলছে, শুধু চুক্তিতে হবে না আইন করে ১০ ইউরো নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৯ সাল থেকে আলোচনায় থাকা ঘণ্টায় ৯ ইউরো ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাবটি বারবার পার্লামেন্টে আলোচিত হলেও এ পর্যন্ত কোনো আইন পাস হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিল পাস হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন পরিচ্ছন্নতা, কৃষি, রেস্টুরেন্ট ও লজিস্টিকস খাতে কর্মরত প্রবাসীরা। ১০ ইউরো মজুরিতে মাসে ১৬০ ঘণ্টা কাজ করলে গ্রস বেতন হবে ১,৬০০ ইউরো। এতে "পেরমিতসো দি সজর্নো" নবায়ন ও পারিবারিক ভিসার আয়ের শর্তও সহজে পূরণ করা যাবে।
বিলটি এখনো পার্লামেন্টের আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত ভোট ও আইনে পরিণত হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা হয়নি। তবে রাজনৈতিক উত্তাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিসহ লক্ষাধিক অভিবাসী শ্রমিকের জীবনমান বদলে দিতে পারে এই একটি আইন, সেই প্রত্যাশায় এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন অনেকেই।
৩ দিন ১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৩ দিন ৪ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৪ দিন ১১ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৫ দিন ১২ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৯ দিন ৭ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১০ দিন ৭ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে