◾মু. সায়েম আহমাদ : জীবন এক রহস্যময় পথচলা। জন্মের প্রথম কান্না থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের অদৃশ্য এক গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ যতই শক্তিশালী হোক, যতই স্বপ্নে বিভোর থাকুক, এই সত্যের কাছে সবাই সমানভাবে নত। জীবন ও মৃত্যুর এই উপলব্ধি মানুষকে অহংকার থেকে বিনয়ী করে তোলে, উদাসীনতা থেকে সচেতন করে তোলে এবং অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো দেখায়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
এই আয়াত যেন মানুষের অহংকার ভেঙে দিয়ে এটা মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়, বরং ক্ষণস্থায়ী এক পরীক্ষাগার।
আমাদের বাস্তব জীবনের দিকে তাকালে এই সত্য আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়। আমার কাছের মানুষগুলো, যাদের একসময় প্রাণচঞ্চল হাসি, দৃঢ় পদচারণা আর নির্ভীক সাহস দেখেছি। আজ তারা বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়ছে। কারও হাঁটা ধীর হয়ে এসেছে, কারও চোখে ক্লান্তির ছায়া, কেউ আবার দীর্ঘ অসুস্থতায় নুয়ে পড়েছে। তাদের দিকে তাকালে বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়। মনে হয়, সময় নিঃশব্দে সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। অথচ এই পরিবর্তনের মাঝেই লুকিয়ে আছে আল্লাহর অমোঘ হিকমত।
মহান আল্লাহ বলেন, “তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যেন তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন—কে তোমাদের মধ্যে উত্তম আমলে শ্রেষ্ঠ।” (সূরা আল-মুলক: ২) অর্থাৎ আমাদের জীবন শুধু ভোগের নাম নয়, বরং দায়িত্ব, ধৈর্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সংগ্রাম।
বাস্তবতা খুবই ভয়ঙ্কর। আমাদের জীবনে অসুস্থতা ও বার্ধক্য আসে; মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়, কিন্তু মুমিনের জন্য তা রহমতের দ্বার খুলে দেয়। যদি আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মুমিনের যেকোনো কষ্ট, রোগ, দুঃখ এমনকি কাঁটা বিদ্ধ হলেও আল্লাহ তার মাধ্যমে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। এই হাদীস আমাদের শেখায়—কষ্ট মানেই পরাজয় নয়, বরং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।
আরেকটি হাদীসে নবী করীম (সাঃ) আমাদের সচেতন করে দিয়েছেন, “পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়কে গনীমত মনে করো: বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, অবসর সময়ের আগে ব্যস্ততা এবং মৃত্যুর আগে জীবন।”
এই বাণী যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করে তোলে। আজ যারা দুর্বল হয়ে পড়ছে, কাল আমরাও তাদের কাতারে দাঁড়াব। এটাই করুণ বাস্তবতা। এটা আমাদের মেনেই জীবন যাপন করতে হবে। তাই প্রিয় মানুষদের অসুস্থতা দেখে শুধু কষ্ট পাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং তাদের পাশে দাঁড়ানো, ভালোবাসা দেওয়া, দোয়া করা এবং নিজেকে নেক আমলে প্রস্তুত করাই আমাদের কর্তব্য। মহান আল্লাহর দরবারে অন্তরের আকুল প্রার্থনা, হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সবাইকে সুস্থতার সহিত দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। ঈমানের উপর অবিচল রাখুন; আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। আমিন।
মু. সায়েম আহমাদ
লেখক ও সংগঠক
২৬ দিন ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
২৮ দিন ৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৩৬ দিন ৫ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৫১ দিন ৪ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৫২ দিন ২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৬৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৬৯ দিন ৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৮৫ দিন ৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে