বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আপনারা জেগে থাকবেন, পাহারা দেবেন—অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত চব্বিশ চলবে।”
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চায়, তাহলে প্রথমে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তবে প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালন না করে এবং পরিস্থিতি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ওয়াজিব হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতি বন্ধ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা চাই তাদের জন্য হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যুবকরাই হবে আগামীর বাংলাদেশ।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির নামে মানুষ হত্যার সংস্কৃতি জামায়াত ঘৃণা করে। একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য—যেখানে হানাহানি ও নোংরা রাজনীতি থাকবে না।
মামলা বাণিজ্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি। অধিকাংশ মামলাতেই একজন করে আসামি। আমরা হাজার হাজার মানুষকে আসামি বানিয়ে ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করিনি। এসব হারাম।”
এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওই সময়ে মায়েদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এতে যদি কোনো মা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
নারীদের ওপর সহিংসতা ও হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে। যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নেওয়ার কথা বলে, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট।”
শেরপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান এই জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সমাবেশ শেষে জামায়াত আমীর শেরপুর-১ আসনে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনে মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি এবং শেরপুর-৩ আসনে নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। জেলা, উপজেলা ও ১১ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে