জামালপুরের ইসলামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলার আসামিদের রক্ষায় মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে বাদীসহ তাঁর পরিবারের লোকজনকে মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (১৫) দুপুরে আইনগত প্রতিকার চেয়ে অপহরণ মামলার বাদী লিটন আকন্দ জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিটন আকন্দ উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের মিস্টার আলীর ছেলে।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, লিটন আকন্দের সহোদর বোন মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রতিবেশী নুর ইসলামের ছেলে নুর হোসেন মাঝে-মধ্যেই বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসতে ছিলো। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠক হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে লিটন আকন্দের বোনকে নুর হোসেন অপহরণ করে। এনিয়ে ২৫ জানুয়ারি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ লিটন আকন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলার আসামিরা হলো, নুর হোসেন, তাঁর বাবা নুর ইসলাম, মা রাবেয়া বেগম, চাচা ইদ্রিস আলী এবং আত্মীয় লালচান।
ওই মামলাটি জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা রয়েছে মর্মে গত ৮ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
মামলা করার আক্রোশে ১৯ ফেব্রুযারি আসামিরা বাদী লিটনের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে বেশকয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। এনিয়ে লিটনের দাদা হামলায় আহত বিশু আলী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিপরীতে এসআই কামাল হোসেন অপহরণের মামলা আপোষের প্রস্তাব দেন।
অপহরণ মামলা থেকে রক্ষা পেতে গত ১৮ মার্চ রাত দেড়টায় বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে অপহরণ মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেন নুর ইসলাম। অপহরণ মামলার আসামিদের রক্ষায় মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে বিনা তদন্তে ওইদিন এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করান এসআই কামাল হোসেন।
লিটন আকন্দ বলেন, মামলা করায় অপহরণকারীরা আমাদের ওপর হামলা করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে আসামিদের রক্ষায় বসতবাড়িতে পেট্টল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা বানিয়ে এসআই কামাল হোসেন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ঢুকে দিয়েছে। এনিয়ে এসপি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি।
অপহরণ মামলার আসামি নুর ইসলাম বলেন, 'অপহরণ করা হয়নি। আমার ছেলেকে ওই মেয়ে স্বইচ্ছায় বিয়ে করেছে। বিয়ে মেনে না নিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ঘরে আগুন দেওয়ায় থানায় মামলা করেছি।
অভিযুক্ত এসআই মো. কামাল হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওসি স্যারকে বলেছি। পরে মামলা রুজু করা হয়েছে। বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার স্বাক্ষ্য প্রমাণের পেয়েছি। আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।'
ইসলামপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের এসপি মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগপত্র উত্থাপিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে