সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নে স্কুলছাত্রী তাসনিন আক্তার তন্নি (১৪) অপহরণের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের আহাজারি ও উৎকণ্ঠায় পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মানবিক উদ্বেগ।
অপহৃত তাসনিন আক্তার তন্নি উপজেলার নাগবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। গত ৪ মে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কথিত মাদকসেবী সাঈদ হোসেন, পিতা-মো. কেরামত আলী, তার সহযোগী ৩ থেকে ৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসে। পরে তারা জোর করে তন্নিকে মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় স্থানীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকেই তন্নির পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় তারা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও কোনো তথ্য পায়নি। পরে তন্নির মা শ্যামনগর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
এদিকে স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
তন্নির স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমাদের মেয়েটাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার না করা গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ ঘটনায় শ্যামনগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে