লাখাইয়ের ৩দিনের জন্য বসেছে পশুর হাট,চাহিদা মাঝারি সাইজের গরু।
লাখাইয়ের ৩দিনের জন্য বসেছে পশুর হাট,চাহিদা মাঝারি সাইজের গরু।
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা।আসন্ন কুরবানীকে কেন্দ্র করে লাখাইয়ের বামৈ এবং বুল্লাবাজারে ৩ দিনের জন্য রবিবার(২৪শে মে) থেকে শুরু হয়েছে গবাদি পশুর হাট,চলবে বুধবার পর্যন্ত ।প্রথম দিনে লাখাইয়ে সব থেকে বড় গরুর হাট বামৈ বাজার বসেছে,উক্ত বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানিকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে গরু।রবিবার সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট-বড়-মাঝারি আকারের গরু, কয়েক বছর লালন পালনের পর বিক্রির জন্য হাটে তুলেছেন খামারিরা। এদিন সরবরাহ বেশি থাকায় মূল হাটের আশেপাশেও গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ক্রেতারা।
হাটে ক্রেতা আনাগোনা থাকলেও বিক্রি ছিল কিছুটা কম। অধিকাংশই দেখেছেন, যাচাই করছেন দাম। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ছোট আকারের এবং মাঝারি সাইজের গরু চাহিদা বেশি।
৬নং বুল্লা ইউনিয়নের গোয়াকড়া গ্রামের আমিন মিয়া জানান, বাজারে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা বেশি। যারা ছোট গরু বাজারে এনেছেন তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন। বড় গরুর চাহিদা কম থাকায় বিক্রিও কম। খুব বেশী লাভ হচ্ছে না।
খামারি ফারুক মিয়া বলেন, পশু পালনে খরচ বেড়েছ। কিন্তু সে তুলনায় মিলছে না দাম। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর ২ হাজার টাকায় যে খড় পাওয়া যেত এবছর তার দাম ৩ হাজার টাকা। ভূষি, খুদ, কুড়ার দামও প্রায় আগের তুলনায় ৫০ ভাগ বেড়েছে। খরচ বাড়লেও গরুর দাম আগের মতোই।
ক্রেতাদের ভাষ্য, বৈরি আবহাওয়ার জন্য ক্রেতা কম। এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে যারা বড় বড় গরু কিনতেন তারা আজ নেই। ফলে বাজারে গরু বেচাকেনা কম। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ। এ কারণে বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা।
নাসির মিয়া নামে এক ক্রেতা গরু কিনতে এসে বলেন, আমি একটি গরু আগেই কিনেছি এখন, ঘুরে ঘুরে গরু দেখছি। বাজেট আর পছন্দ মতো হলে আরও একটা কিনব।তিনি আরো বলেন, কোনো হাটেই জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে না। বড় গরুর বিক্রি নেই বললেই চলে। বড় গরুর খামারিদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
নতুন করে বুল্লাবাজারে পশুর হাট বসলেও তেমন মানুষের আনাগোনা কমই ছিল,বুল্লাবাজারে গরু কিনতে আসা রহমত আলী নামে এক ক্রেতা বলেন, ৫০হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনবো,শুনছি বুল্লাবাজারে ছোট গরু উঠছে, এজন্যই আসছি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতে এ বছর কোরবানির পশু পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে,এবং প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগন বাজারে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
এবছর কোরবানির সাড়ে ৪ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে ৫০৫১টি, যা চাহিদার থেকে বেশি। এসব পশুর মধ্যে ষাড় গরু ৩০৩০টি, ফলদ ৫১২টি, গাভী ৪৯৪টি, ছাগল ৭১০, ভেড়া ৩৭৪টি, মহিষ ১৫টি, অন্যান্য ১০১৫টি।