প্রকাশের সময়: 27-05-2026 10:17:09 am
পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বহন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসীম ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছর এই উৎসব আমাদের সামনে মানবতা, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের মহৎ শিক্ষা নিয়ে আসে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে ঈদুল আযহা শুধু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের অন্তরের কলুষতা দূর করে আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচিত হয়। এই উৎসব মানুষকে নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে অনুপ্রাণিত করে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের কাছেও ঈদুল আযহা কেবল আনন্দের উৎসব নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ত্যাগের মানসিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা উপলব্ধির এক বিশেষ সময়। ঈদকে ঘিরে তাদের এমন অনুভূতি ও ভাবনার প্রতিফলন তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ।
ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা
পবিত্র ঈদুল আযহা ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও আনন্দের এক মহিমান্বিত উৎসব। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ঈদুল আযহা মানেই ত্যাগের মহিমায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা এবং ব্যস্ত পড়াশোনার যান্ত্রিকতা থেকে কিছুটা মুক্ত হয়ে পরিবারের সঙ্গে মূল্যবান সময় কাটানোর সুযোগ। সারা বছরের পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব রিপোর্ট ও ক্লাসের ব্যস্ত রুটিনের মাঝে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ যেন সব ক্লান্তি ও কষ্টকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা যখন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়, তখন প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসেও নেমে আসে এক ধরনের নীরবতা। ঈদকে ঘিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং কোরবানির পশু কেনার প্রস্তুতিও আনন্দের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এই দায়িত্বগুলো উপভোগ করার মধ্যেও থাকে আলাদা এক অনুভূতি। কারণ ঈদের আনন্দ একা উপভোগ করার মধ্যে প্রকৃত সার্থকতা নেই; বরং পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। সবশেষে, কোরবানি আমাদেরকে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই শিক্ষা থেকেই মানুষ অনুপ্রাণিত হয় নিজের অহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্তরের পশুত্বকে কোরবানি দিতে।
শেখ মো: সালমান ফার্সি
শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গোবিপ্রবি।
সাম্য ও ত্যাগের অন্যান্য উৎসব ঈদুল আযহা
ঈদুল আযহা শুধু ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার এক গভীর জীবনদর্শন। এই পবিত্র দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষে মানুষে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। ঈদের আনন্দ যখন ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেয়, তখন সমাজে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন। কোরবানির মূল শিক্ষা শুধু পশু উৎসর্গ করা নয়; বরং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্যের চেতনা আরও দৃঢ় হয়। ফলে একজন অসচ্ছল মানুষও এই আনন্দের অংশীদার হতে পারে—এটাই ঈদুল আযহার প্রকৃত সৌন্দর্য ও তাৎপর্য। বর্তমান বিশ্বে যখন বিভেদ, হিংসা ও স্বার্থপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন ঈদুল আযহার শিক্ষা আমাদের মানবিক মূল্যবোধে ফিরে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এই উৎসব আমাদের শেখায়, প্রকৃত সুখ নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই জীবনের সত্যিকারের আনন্দ নিহিত। তাই ঈদুল আযহা হোক ত্যাগ, সাম্য, মানবতা ও ভালোবাসার এক মহৎ মিলনমেলা—যার আলো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
লাবিবা তাসফিয়া
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, গোবিপ্রবি।
কুরবানীর চেতনায় শিক্ষার্থীদের জীবন দর্শন
ঈদুল আযহা শুধু কুরবানির উৎসব নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বিনয়ের এক অনন্য শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের কাছেও এই ঈদ গভীর আবেগ, মানবিকতা ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে পড়াশোনা, ক্লাস, পরীক্ষা ও ব্যস্ততার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদের ছুটি যেন এক টুকরো প্রশান্তি হয়ে আসে। ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ির পথে যাত্রা শুধুই ঘরে ফেরা নয়, বরং মা-বাবার সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার এক গভীর অনুভূতি। কুরবানির মূল শিক্ষা যেমন ত্যাগ ও আত্মসমর্পণ, তেমনি শিক্ষার্থীদের জীবনেও এটি দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। ঈদুল আযহার আনন্দ তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও গভীর ও আন্তরিক করে তোলে। এই পবিত্র উৎসব সকলের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও আত্মিক পরিশুদ্ধি বয়ে আনুক। মানুষের ভেতরে মানবতা, বিনয় ও সহমর্মিতার চর্চা আরও দৃঢ় হোক। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ যত বড়ই হোক, ঈদের সময় সে আবার পরিবারের কাছেই ফিরে আসে। মানবসভ্যতার সবচেয়ে পুরোনো “সফটওয়্যার আপডেট” সম্ভবত এটিই।
মো: মনিরুল ইসলাম খান নূর
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, গোবিপ্রবি।
ঈদুল আজহা: আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি
আমার কাছে পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং অনেকদিন পর পরিবার ও আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাওয়ার এক গভীর ও সুন্দর অনুভূতি। আমরা যারা গোবিপ্রবির শিক্ষার্থী, তারা বছরের দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকি। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ আমাদের কাছে অন্যরকম এক আবেগে রূপ নেয়। বাড়ি ফেরা মানেই যেন নতুন করে জীবনের স্বাদ খুঁজে পাওয়া—পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, মা-বাবার স্নেহে ভরা মুহূর্তগুলো উপভোগ করা এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া। এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই ঈদকে আমাদের জীবনে আরও বিশেষ ও অর্থবহ করে তোলে। আমার মনে হয়, ঈদ আমাদের শুধু আনন্দই দেয় না, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্বও শেখায়। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। শেষে আমি বিশ্বাস করি, ঈদুল আজহা সবার জীবনে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবিকতার আলো বয়ে আনুক।
রাফিয়া তাবাসসুম রিনিক
শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, গোবিপ্রবি।
শিক্ষার্থীদের জীবনে ত্যাগের গুরুত্ব ও বাস্তবতা
পবিত্র ঈদুল আজহা কেবল উৎসবের আনন্দ নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও চরম ত্যাগের এক মহান দীক্ষা। কুরবানির মূল শিক্ষাই হলো নিজের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দেওয়া। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এই ত্যাগের অন্যতম বড় প্রকাশ ঘটে নিজের আরাম-আয়েশ ও আলস্য ত্যাগ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার নিরন্তর প্রচেষ্টায়। ঈদুল আজহা সেই ধৈর্য, সংযম ও সংকল্পবদ্ধ হওয়ার প্রেরণাই জাগিয়ে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তবতায় এসে অনেক সময় এই উৎসবের চিত্র বদলে যায়। একাডেমিক চাপ, পরীক্ষা কিংবা দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবার থেকে দূরে মেস বা হলের চার দেয়ালে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে হয়। আপনজনদের ছেড়ে সীমিত পরিসরে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং সহনশীল হতে শেখায়। ঈদুল আজহা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের ভেতরের ‘পশুত্ব’কে বিসর্জন দিয়ে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্যাগের চেতনাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করাই হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য। এই মহান উৎসবের শিক্ষা বুকে ধারণ করে শিক্ষার্থীরা যেন ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে—এটাই হোক এবারের অঙ্গীকার।
মোহা: শহিদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, গোবিপ্রবি।
৫ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১ মিনিট আগে