সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া এলাকায় সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত-শিবির সমর্থকদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতর আহত দু’জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংক্রান্তির খালের ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত ও শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় লোকজন খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে মাছ ধরায় বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২), আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) ও লায়লা বেগম (৬৫)। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, আহতের সংখ্যা ৮ হলেও বিভিন্ন পক্ষ আরও কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেন, খালটির ইজারার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ইজারা না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ মাছ ধরতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর বিএনপির কিছু কর্মী তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে মারধর করে আহত করেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি খালটির ইজারা নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন এবং পূর্ব থেকেই সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। শুক্রবার জামায়াত-শিবিরের লোকজন জোরপূর্বক মাছ ধরতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তারা রড, শাবল ও দা নিয়ে হামলা চালিয়ে তার পক্ষের কয়েকজনকে আহত করে।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা আজহারুলকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার দাবি, ইজারাকৃত খালে মাছ ধরতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে