চন্দনাইশ থানার ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন নোয়াখালীতে তুচ্ছ ঘটনায় বসতঘর পুড়িয়ে ছাই করল একদল যুবক লাখাইয়ে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা। কুলিয়ারচরের দক্ষিণ সালুয়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা জয়পুরহাটে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার ঝিনাইগাতীতে বন্য হাতি প্রতিরোধে টাস্ক ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত রায়পুর উপজেলার টেকসই উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ১৬ জুলাই শহীদ দিবস পলিত দৌলতদিয়া কৃষক দলের কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক গবেষণা সম্প্রসারণ পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত মধুপুরের শালবনে হারিয়ে যাচ্ছে দুর্লভ চাম্বল ফল কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ছয় বাংলাদেশি আটক রাজবাড়ীতে জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় মৌলভীবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহিদ দিবস' উদযাপন আদমদীঘিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত গোয়ালন্দে কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা রাজবাড়ীতে মাছের ঘেরে বিদ্যুতের লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, মরদেহ ময়নাতদন্তে কারিতাস শ্রীবরদীর উদ্যোগে ঝিনাইগাতীতে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সিবিও নেতৃবৃন্দের শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত রায়পুরায় গণপিটুনি’ দিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

কুলিয়ারচরের দক্ষিণ সালুয়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা

মো. ফরমান উল্লাহ - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 16-07-2026 06:46:56 pm

মোঃ ফরমান উল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধি


কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সালুয়া গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে একাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ সালুয়া।

দক্ষিণ সালুয়া গ্রামটি ইউনিয়নের মধ্যে সকল দিক থেকে অবহেলিত। উক্ত গ্রামে জনগনের চলাচলের জন্য নেই কোন পাকা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা যতটুকু আছে তাও চলাচলের অনুপযোগী।  পাশাপাশি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অবহেলিত দক্ষিণ সালুয়ার সহস্রাধিক শিশু। 

বাংলাদেশকে বৃটিশ শাসন করেছে দুইশত বছর,পাকিস্তান ২৪ বছর এবং স্বাধীন বাংলাদেশ শাসন করেছে ৫৪ বছর। শতশত বছর পার হলেও দক্ষিণ সালুয়া বাসির ভাগ্যে জুটেনি কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটাকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ও বলা চলে এ জনপদের মানুষের জন্য। দেশ স্বাধীন হয়েছিল যে মৌলিক অধিকার পাওয়ার আশায় দক্ষিণ সালুয়ার জনগন তা পায় নি। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম। আর এ অন্যতম অধিকার থেকে শতশত বছর বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ সালুয়ার জনগন।

এ গ্রামের কোমলমতি শিশুরা বাড়ি থেকে ২/৩ কিলোমিটা দূরে পায়ে হেঁটে অন্য গ্রামের বিদ্যালয়ে যেতে হয়।এতে করে শিক্ষার প্রতি শিশুরা আগ্রহ হারিয়ে  ফেলে। ফলে তাদের লেখাপড়া থেমে যায় শুরু থেকেই। 

২০০২ সালে দক্ষিণ সালুয়ার ইউপি সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন( সৈয়দ হোসেন) এর উদ্যোগে     বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা "পপি" এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। "পপি"র শিক্ষা প্রকল্প শেষ হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টি নামে মাত্রই রয়ে গেছে দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করার জন্য প্রশাসনের নিকট থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। 

উক্ত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা মোঃ আব্দুর রাশিদ। তিনি গ্রামের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজের ক্রয়কৃত জমি স্বেচ্ছায় দান করে দিয়েছেন।  

দক্ষিণ সালুয়ার কৃতি সন্তান মানবতার ফেরীওয়ালা নামে পরিচিত সালুয়া ইউনিয়ন ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম জানান বিদ্যালয়টি অবহলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান যে কয়জন শিক্ষক এখানে স্বেচ্ছা শ্রম দিচ্ছেন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগনও হতাশা গ্রস্ত হয়ে তাদের সন্তান অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে দক্ষিণ সালুয়া গ্রামটি শিক্ষার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।


বিদ্যালয়টি সরকারী না হলেও জরাজীর্ণ একটি ঘরে স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচনের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দক্ষিণ সালুয়া বাসির দাবী দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে অত্র গ্রামের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। তারা জানান বিদ্যালয়টি সরকারী করা হলে আমাদের সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে।  তাই বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

"সবার জন্য শিক্ষা" এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা সময়ের দাবী।
আরও খবর