১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝেও ইতিহাস গড়ার আশাবাদ: লালপুরে প্রতিমন্ত্রী পুতুলের শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত বকশীগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত রত্নাই বগুলাবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজের জমি উদ্ধারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পানি নিস্কাশনের পথ খোলায় পাঁচবিবির দুই ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের মুখে হাসি লালপুরে পাট কাটায় ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলন ও দামে স্বস্তি ঝিনাইগাতীতে কারিতাসের আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত শ্রীবরদীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সোনালি আঁশ ২০ টাকার লটারির টিকিটে ৩০ লাখ টাকা জিতল রায়পুরে বিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩ শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী নিয়ামতপুরে এক কেজি গাঁজাসহ ৬০ বছরের ব্যক্তি গ্রেপ্তার আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে: তারেক রহমান এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার সকাল ১০টায় ভ্রমণ যখন হয়ে ওঠে সহায়তার হাত, ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্ট এর ব্যতিক্রমী প্রয়াস সেনবাগে ‘মা মঞ্জিল’ নিয়ে চাঞ্চল্য, মালিকের ছত্রছায়ায় কয়েক বছর ধরে চলছে দেহ ব্যবসা শ্রীমঙ্গলে বিএনপির দুর্দিনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন তাজু

‎ ‎রামপালে সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহেনা বেগম

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ 


‎দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে সব হারিয়ে এখন রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন এক অসহায় নারী। দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মাথার চুল বিক্রি করে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের।


‎জানা গেছে, রেহানা খাতুন নামের ওই নারী আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তিনি ও তার দুই সন্তান এখন আশ্রয় নিয়েছেন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়।


‎বর্তমানে রেলব্রিজের পাশের সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন রেহানা। তবে চরম অভাব-অনটনের কারণে সেই ঘর এখনো পূর্ণতা পায়নি। কয়েক মাস ধরে শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি ও তার দুই সন্তান।


‎স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কাঁদতে কাঁদতে বলে—ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে চুল বিক্রি করে দিয়েছে।


‎এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় নারীর জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


‎স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, যেন দ্রুত তাকে একটি ঘর দেওয়া হয়।


‎সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের ফ্রেম দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রেহানার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা সম্ভব।


‎স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশের কাঠামো তৈরি আছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো যাবে। এজন্য এলাকার স্বচ্ছলদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না, আর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে তারা।


‎রেহানা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নাই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।


‎একজন মায়ের এই চরম ত্যাগ দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এখন প্রশ্ন—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে একটি অসহায় মা ও তার সন্তানরা পাবে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়!


আরও খবর