প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ৮ কাজে বিরত থাকার নির্দেশ সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী হলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিমানবন্দরে চোখ ওঠা রোগীদের লাগবে চিকিৎসকের সার্টিফিকেট যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৪ শতাংশ পুঠিয়ায় প্রাইভেট শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার তার স্ত্রী, ও প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ, এলাকায় পোস্টারিং বিশ্বনেত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনার জন্মদিন রাজশাহীতে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রাকৃতির ‘মা’, মাসুরা বেগম দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে রাসিক মেয়রের মতবিনিময় টেকনাফে ৪ বছরের শিশু অপহরণ ! রাজশাহীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত নিজেকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখি কেশবপুরে গ্রাম সামাজিক শক্তি কমিটির উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ হিস্ট্রি ক্লাবের (3MPC) প্রতিযোগিতার জয়ী 'টিম হিস্টোগ্রাফার্স '। বাঘায় সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চবিতে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেরপুরে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত ঝিনাইগাতীতে পর্যটন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৮৪হাজার পিস ইয়াবা জব্দ! বশেমুরবিপ্রবির ভেটেরিনারি বিভাগে দুইদিন ব্যাপী সার্জিক্যাল কেস প্রাক্টিস

একজন সৎ ও ভালোবাসার মা

সংগৃহীত ছবি

◾ সুখবর ও ইতিবাচক ডেস্ক


মৌলভীবাজার জেলার শমসেরনগরে ফাঁড়ি কানিহাটি চা-বাগানের এক চা শ্রমিক পরিবারের ছেলে আমি। জন্মের ছয় মাসের মাথায় বাবাকে হারিয়েছি। মা চা-বাগানের শ্রমিক। তখন মজুরি পেতেন দৈনিক ১৮ টাকা।


সেই সময় আমাকে পটের দুধ খাইয়ে, অন্যের বাসায় রেখে মা যেতেন বাগানে কাজ করতে।


 ২০০৭ সালে আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। মায়ের মজুরি তখন ৮৮ টাকা। এক দিন বললেন, ‘বাজারে গিয়ে পাঁচ কেজি চাল নিয়ে আয়।’ সেই চাল দিয়ে এক মাস চলেছে আমাদের। পরদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে দেখি মা চাল ভাজলেন। পলিথিনে সেই ভাজা চাল, আটার রুটি আর লাল চা একটা বোতলে ভরে গামছায় প্যাঁচালেন। আর আমাকে আটার রুটি ও লাল চা দিলেন। দুপুরে খেতে গিয়ে দেখি শুধু পেঁয়াজ, শুকনা ভাত, তেল আর লবণ আছে। তা দিয়ে মেখে খেলাম। রাতেও কোনো তরকারি ছিল না। তখন পাশের বাসার কাকু আমাকে ডেকে কুমড়া আর আলু দিয়েছিলেন, যা দিয়ে আমরা দুইটা দিন পার করেছিলাম। তখন কুপি বাতির আলোয় পড়তাম। মা আগেই রেডি করে দিতেন বাতি। তেল শেষ হয়ে গেলে আর পড়া হতো না। দোকানদার বাকিতে তেল দিতেন না।


পঞ্চম শ্রেণির পর ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে পাঁচ বছরের জন্য ফ্রি পড়ালেখার সুযোগ পাই। মা অনেক খুশি হয়েছিলেন। তখন তাঁর সামান্য আয়ের একটা অংশ থেকে আমাকে টিফিন খাওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে ৭০-৮০ টাকা দিতেন।


২০১৩ সালে বিএএফ শাহীন কলেজে ভর্তি হই। তখন মা ১০২ টাকা করে পেতেন। এই সময়ে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কিস্তি তুলে আমার ভর্তির টাকা, ইউনিফর্ম আর বই-খাতা কিনে দিয়েছিলেন। 


২০১৪ ডিসেম্বর। মায়ের হাতে টাকা নেই। তখন এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন চলছিল। মা ৫০ টাকার একটা নোট দিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলেছিলেন, ‘কেউ ধার দেয়নি রে বাপ।’ কলেজের এক শিক্ষকের কাছ থেকে ধার নিয়ে সেবার রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়েছিলাম। 


এইচএসসির পর ভর্তি পরীক্ষার কোচিং। মা তখন আবার লোন নিলেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। লোনের কিস্তির জন্য এই সময় মা বাড়ি থেকে অনেক দূরে গিয়ে বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বিনিময়ে পেতেন ৩০০ টাকা। আমি জানতাম ঘরে চাল নেই। শুধু আলু খেয়েই অনেক বেলা কাটিয়েছিলেন মা।


এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলাম। মা তখন কী যে খুশি হয়েছিলেন! কিন্তু ভর্তির সময় যত ঘনিয়ে আসছিল, মায়ের মুখটা তত মলিন দেখাচ্ছিল। কারণ চা-বাগানে কাজ করে যা পান তা দিয়ে তো সংসারই চলে না। ভর্তির টাকা দেবেন কোথা থেকে। পরে এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সহায়তা করল। বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশনি করেই চলতাম। হলের ক্যান্টিনে ২০ টাকার সবজি-ভাত খেয়েই দিন পার করেছি। অনেক দিন সকালে টাকার অভাবে নাশতাও করতে পারিনি। দুর্গাপূজায় কখনো একটা নতুন জামা কিনতে পারিনি।


২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ মা হিসেবে উপজেলায় মাকে সম্মাননা দেওয়া হবে বলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানানো হয়। পরে মায়ের নামটা কেটে দেওয়া হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, মা আমার চা শ্রমিক। স্টেজে উঠে নাকি কিছু বলতে পারবেন না। তাই নাম কেটে দিয়েছে! মা এখনো প্রতিদিন সকালে একটা বোতলে লবণ, চা-পাতা ভর্তা, আটার রুটি, সামান্য ভাত পলিথিনে ভরে নিজের পাতি তোলার গামছায় মুড়িয়ে নিয়ে দৌড়ান চা-বাগানে। আট ঘণ্টা পরিশ্রম করে মাত্র ১২০ টাকা মজুরি পান! এই মজুরিতে কিভাবে চলে একজন শ্রমিকের সংসার? আজকাল মায়ের শরীর আর আগের মতো সায় দেয় না। 

বলেন, ‘তোর চাকরি হইলে বাগানের কাজ ছেড়ে দেব।’ আমি এখন সেই দিনের প্রতীক্ষায় আছি....!


** লেখকঃ -সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন, 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর