রোহিঙ্গাদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মারা গেল ৪ জন সরিষাবাড়িতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন । নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় এসে জনগনের রেশানলে এলাকা ছাড়া পুলিশের এসআই উন্নয়ন হয়েছে বলেই মানুষ এখন ত্রাণের বদলে বাঁধ চায়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির নানান আয়োজনে বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশ’র প্রয়ান দিবস পালিত বরিশালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন ঝিনাইগাতীতে ১৪ বছর যাবত উল্টে আছে সেতু, সংস্কারের উদ্যোগ নেই শেরপুর জেলা ফুটবল লীগে চকপাঠক ক্রীড়াচক্র ৪-২ গোলে জয়ী। নিরাপদ সড়ক দিবসের দিন সড়কে প্রাণ ঝড়ল শিশুর। মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন ওসমান বাংলাদেশ হিউম্যান হেল্পিং সোসাইটি'র ইডেন মহিলা কলেজে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল আটক এই প্রথম আমাদের পাশে কোন মেয়র দাড়ালেন, তিনি হলেন গরীবের বন্ধু বরিশালের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ্ ভাই ইসলাম কখনোই সাম্প্রদায়িকতা সমর্থন করে না : বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম বরিশাল’র নেতৃবৃন্দের সাথে ফোরথট পিআর কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ আসাদুজ্জামান সাদিদের দায়িত্ব নিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক পরিমাপে কারচুপির অপরাধে বরিশালে দুটি তেলের পাম্পমালিককে জরিমানা ৮৪ রানের জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ পাপুয়া নিউগিনিকে ১৮২ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

সাদা পাথরের রাজ্যে একদিন

সায়েম আহমাদ - এডিটর

প্রকাশের সময়: 16-09-2021 21:07:08

Photo caption : সংগৃহীত ছবি



সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি এই সবুজ-শ্যামলা বাংলাদেশ। এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপূর্ণ হতো যদি সিলেট এর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য না থাকত। আমাদের গন্তব্য ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের রাজ্য। আমার সঙ্গী বারোজন। প্ল্যান যে খুব অগত্যা তা না তবে দীর্ঘ পরিকল্পিতও না। সত্যি কথা বলতে আমি রুম থেকে বের হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেও অনিশ্চিত ছিলাম যে আদৌ ট্যুরটা হবে কি না! তখনই ফোনে রিং হলো! আমাদের সিআর(ক্লাস রিপ্রেজপন্টেটিভ) ফোন দিলো, ওর রুমে যেতে। শাকিল ছেলেটা চুপচাপ!তবে রুপচর্চায় একটু বেশি আগ্রহী। অবশ্য হবেই না কেনো তাঁর রুপ আছে তো চর্চা করার অধিকারও আছে। পাঁচজন চন্দ্র রুপসীর সাথে দাঁড় করিয়ে দিলেও তার রুপের ঝলক একবারেই কমবে না! সে যাইহোক, আমি তৈরি হয়ে ওর রুমে গেলাম। ততক্ষনে আমি নিশ্চিত যে যাওয়া হচ্ছে তবে কে কে যাচ্ছি সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। হৃদয়কে ফোন দিলাম ওর রিং হচ্ছে কিন্তু ধরছে না। এতো সুন্দর একটা ভোর কেউ ঘুমিয়ে কাটাতে পারে তা আমি কল্পনাও করিনি। কেবল বসন্তের শুরু। চারিদিকে নতুন ফুলের কলি, পাখির ডাক, ভোরের বাতাসের সাথে এমন একটা ভ্রমণ। আমি তো সকাল থেকেই উত্তেজিত।তাঁকে ফোনে পেলাম না। অপরদিকে পটুয়া শাকিল ফোন দিচ্ছে গাড়ি ছাড়ার সময় হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি যেতে। ওরা কয়েকজন আম্বরখানাতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। বাকি ছিলাম কেবল আমি আর শাকিল। আমরা ভার্সিটি গেইট থেকে সিএনজি করে আম্বরখানা গেলাম। একটা বিআরটিসি'র তেরোটা টিকিট করা হয়েছে। আমরা দু'তলায় সিট নিলাম। উঠার সিঁড়িগুলো ঠিক যতোটা সরু করা যায় এর থেকে এক চুলও চওড়া করেনি। একজন বৈ দেড়জন যাওয়ার কোনো অবকাশ তাতে নেই।এই প্রথমবার দু'তলা বাসের যাত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা হলো।বেশ পরিস্কার। আমার সামনে এক যুগলবন্দি ওরা একজন ব্যাতিত অন্যজন আসবে না। অন্য আরেকজনেরও এমন হওয়ার কথা ছিলো। অবশ্য এত সুন্দর মুহুর্তে কে না খানিকটা সময় প্রিয়ের সাথে কাটাতে চায়। কিন্তু তার সেই প্রিয় তাকে পাথরের রাজ্যে ছেড়ে দিয়ে খানিকটা অবকাশ নেওয়াকেই গ্রহণ করলো! যাহোক বাস ছেড়ে দিলো, গন্তব্য ভোলাগঞ্জ। এই ট্যুরে একটা অপূর্ণতা হলো কোনো গায়ক আসেনি। যে ক'জন সুরেলা ছিলো তারা নানা অজুহাতে এই সফর প্রত্যাখ্যান করলো। তাতে কি আমাদের একজন রিয়াদ রয়েছে। আসর মাতাতে সে একাই যথেষ্ট। চালি কুমড়োর মতো চিকন শরীরের দোলানীর সাথে বেসুরো গলার ঝাঁকুনি। বেসুরো হলেই বা কি আমাদের তো আর গান শুনার তাড়া নেই যা আছে তা হলো হৈ হুল্লোর করে বাসকে মাথায় তোলার চিন্তা। বাসা চলছে মাঝে মাঝে বাসও আমাদের সাথে একটু চমকে দেয়। মোর নেওয়ার সময় কিংবা কোনো হাইলেন দেখলেই সে বড়ো করে একটা লাফ দিয়ে সবার শরীরটাকে একটু মোচরে দেয়। গান চলছে। কোরাস গাওয়ার চেষ্টা করলেও একেকজনের সুর আগে-পিছে হয়ে যায় আর আমার গলা শুনে অন্যদের গান গাওয়া বা শুনার আগ্রহ আকাশে উঠলো।এখন আসলো কবিতার পালা। আবৃত্তি করতে হবে আমাকে আমারই কবিতা। আমার গানের গলার অত্যাচারই কেউ সইতে পারেনি আর কবিতা আবৃত্তি শুনলে যে ওরা বাস থেকে নামতে চাইবে না সে ভরসা আমি পাইনি। তাই এই দায়ীত্ব দিলাম আশিকের উপর। তার আবৃত্তি আগে শুনেছিলাম সেই ভরসায়ই দিলাম এবং সে নিরাশ করেনি। বাস চলছে চারিদিকে চা বাগান আর পাহাড়ের সারি। সবুজের মেলা আহ্ কি মুগ্ধতা মনে হচ্ছিল এখানেই বাসটা আটকিয়ে বাকি জায়গা হেঁটে হেঁটে সবুজের পরশ, বসন্তের নির্মল হাওয়া গাঁয়ে নিয়ে বাউলা গান গেয়ে গেয়ে যেতে পারলে কতই না সুখের হতো এই মুহুর্ত। পৌছুলাম ভোলাগঞ্জ। ওখানে প্রায় মার্কেট রকম নানা জিনিসের দোকান। এখান থেকে ফেরী'র নৌকো করে সাদা পাথর যেতে হবে। দুটো নৌকা করে আমরা রওনা দিলাম সাদা পাথর জিরো পয়েন্টের দিকে। ধলাই নদে নৌকায় উঠলাম। নদটি মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে এসেছে। নৌকা এগুতে থাকে। স্বচ্ছ জলরাশির কলকল ধ্বনি আর ঢেউ প্রতি মুহুর্ত এক অদ্ভুত অনভূতির জন্ম দিচ্ছিল। সাথে মেঘালয় রাজ্যের সবুজ পাহার আর উপরে নীল আকাশ আহ্ কি অমৃত মুহুর্ত। নদের কিনারে বালির স্তুপ রয়েছে। নৌকা ঘাটে ভিড়লো। এখন উত্তপ্ত বালির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। খালি পায়ে হাঁটলে অবশ্য বালির স্পর্শখানি অনুভব করতে পারতাম। কিছুক্ষণ খালি পায়ে হেঁটেছি তবে পুরোটা হাঁটার ফুরসত পাইনি। হেঁটে হেঁটে জিরো পয়েন্ট গেলাম। নিচে বিছানার মতো বিছানো পাথর আর উপরে আসমান। তবে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র হলো মেঘালয়ের পাহাড় গুলো। সীমান্তের ওপারে হওয়ায় তাতে যাওয়া আমাদের সাধ্যাতিত। তাই দূর থেকেই এর মহানুভবতার সাক্ষী স্বরুপ নয়নযুগলকে খানিক্ষন ওগুলোর ওপর বিরাম দিলাম। আমাদের সামনে যা একটা লেক আছে। শীতল পানিতে পূর্ণ। ওখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। কেউ নেমে একবার গোসল করে উঠে আর নামতে চায় না এতই শীতল। তবে চারিদিকে স্পিডবোট,নৌকার আনাগোনা বেশ। আবার কিছু তীরে বাঁধাও আছে। লেকের পাড়ে দোকান-পাটও রয়েছে বেশ কয়েকটা। নানা রকম খাবার,অন্যান্য জিনিসে সাজানো। ওখানে গিয়ে ওদের ক'কজনের প্ল্যান হলো সাঁতার কেটে ওপারে যাবে। কিন্তু পটুয়া শাকিল সাথে কোনো অতিরিক্ত কাপড় আনেনি। তাই সে খালি গাঁয়ে কেউ একজনের গামছা পরে সাঁতার কাটে সেখানে এক কাহিনী মাঝ নদে যাওয়ার পর সে বুঝতে পারে তাঁর গামছা শরীর থেকে আলাদা। ভাগ্যিস গামছাটা হারিয়ে যায়নি না হয় কি যে হতো। কারো সাথে অতিরিক্ত কাপড়ও ছিলো না যা দিয়ে সে বাঁচতে পারে।


অপরদিকে যুগলবন্দি দু'জন আসার পরেই কোথায় হাওয়া হয়ে গেলেন একেবার শেষ মুহুর্তে আবার একত্র হলো। সেখানে গিয়ে অনুভব করলাম পাথরগুলোও জীবন্ত। তাঁদের ভাষা নেই, অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য কোনো ধ্বনিও নেই। কিন্তু পানির স্পর্শে তাঁরা সতেজ হয়। একে অপরের ঘর্ষণে জেগে উঠে। চিৎকার দিয়ে আগুনের হুল্কি ছড়ায়।


লেখক: শাহ্ মোঃ আশরাফুল ইসলাম 

শিক্ষার্থী- শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।


Tag
আরও খবর


আমার একজন বড় ভাই আছেন

১৫ দিন ১২ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে