পরবর্তীতে উভয় পরিবারের আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে ২০২১ সালের ৮ মার্চ কাবিন রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পরে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে উঠিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকে আবিরের মা আম্বিয়া বেগম আমার মেয়ের উপর বিভিন্ন সময়ে যৌতুক না পেয়ে দোষারোপ করে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে নির্মাযাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে জামাই আবির মেয়েকে বগুড়া তার কর্মস্থলে নিয়ে যায় । বগুড়ায় কিছুদিন থাকার পরে আবির পুনরায় তার স্ত্রী বিথিকে তার মায়ের কাছে রেখে আবার কর্মস্থলে ফিরে যায়।
ভুক্তভোগী মায়ের দাবি তার মেয়ের মোবাইল জামাই তার নিজের কাছেই রাখত। আমার মেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারতো না। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা লেগেই থাকতো।
গত ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত সাড় ৯ টার দিকে মেয়ের মামী শাশুড়ি আমাকে ফোন দিয়ে বগুড়ার খবর জানতে চায়, কিন্তু আমি কিছুই জানি না বললে তিনি আমাকে বলেন,'‘আপনার মেয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করেছে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসেন’।
তারপর আমি জামাই আবিরকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে কেটে দেয়। এরপরে আবিরের মামা বগুড়া একটি অভিজাত হোটেল ক্যাস্টেল সোড( Hotel castle soad) এর মালিক দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা হয়। আবির তার মামার হোটেলেই চাকরি করত। আবির তার স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় মেয়ের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে ফেলে রাখা অবস্থায় একটি রুমের ভিতর থেকে উদ্ধার করি। এ সময়ে লাশের সমস্ত কাপড় চোপড় রক্তে ভেজা দেখতে পাই। মেয়ের বাম কানসহ গালের উপর ভারী আঘাতের কারণে রক্তমুখো কালো দাগ, পাজরের দুই পাশের হাড়ে ভারী কোনো জিনিসের আঘাতে কালো দাগ, দুই রানের বাহির পাশে শক্ত লাঠির আঘাতের কালো দাগ এবং বাম হাতের আঙ্গুলের মাথা থেতলে রক্ত বেরিয়ে আসা অবস্থায় দেখে আমরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরবর্তীতে মেয়ের লাশ কোনভাবে বাড়িতে নিয়ে আসি।
আবিরের পরিবার আমার মেয়েকে প্রেমের জালে বন্দি করে শুধু যৌতুক না পাবার আক্রেশে আমার মেয়েকে তার স্বামী এবং শাশুড়ি মিলে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।