বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জিউধরা ইউনিয়নের পশ্চিম জিউধরা গ্রামে বুধবার (৮ মার্চ) রাতে পাওনা টাকা আদায় করতে এসে সুলতান শেখের বসতঘরে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটসহ ঘরে থাকা মহিলাদের মারধর করে শ্লীলতাহানি চেষ্টা ও এতে গর্ভবতী মহিলা ও শিশু সহ একই পরিবারের ৭ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন ফরিদা বেগম (৩০), রহিমা বেগম (৪০), কুরছিয়া বেগম (৩০), সোলায়মান (৩৫) একামনি (১৭), শারমিন (১৬), বৃষ্টি (১৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ মাসের গর্ভবতী কুরছিয়াকে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিদেশে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডা. বাবর নামে এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম জিউধরার সুলতান শেখের ছেলে সোলায়মান ও গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের পরস্পর আত্নীয় আবু হাওলাদারের ছেলে আসলাম হাওলাদার। ওই সময়ে সুলতান শেখের ছেলে সোলায়মান চট্টগ্রামে কাজ করতেন। এখানে থাকার সুবাদে সোলায়মান ওমানে যাবার উদ্দেশ্যে ডা. বাবরকে ৩ লাখ টাকা জমা দেন। ওই একই উদ্দেশ্যে আবু হাওলাদারের ছেলে আসলাম হাওলাদার ২ লাখ টাকা জমা দেন। কিছুদিন পর ওই প্রতারক চক্র টাকা নিয়ে অফিস গুটিয়ে চম্পট দেয়। ফলে সর্বস্বান্ত হয় এই দুটি পরিবার। পরে আসলাম ও তার পরিবার সোলায়মানকে দায়ী করে এবং তার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে তাকে উপর্যুপরি চাপ দিতে থাকে।
ঘটনার দিন বুধবার ভোর ৫ টায় সোলায়মানের বাবা সুলতান শেখ মারা যান। খবর পেয়ে দীর্ঘদিন পর পরিবার নিয়ে সোলায়মান চট্টগ্রাম থেকে বিকেলে মোরেলগঞ্জ বাড়িতে আসেন।
বাবার দাফন সম্পন্ন করে ঘরে ফিরতেই সুযোগ বুঝে আসলাম ও আবুবকর গং ওই হামলার ঘটনা ঘটায়
এদিকে, অভিযুক্ত আবু বকর মুঠোফোনে জানায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে মৃত সুলতান শেখের ছেলে সোলায়মানের কাছে ৩ লাখ টাকা আমাদের পাওনা। সেই টাকা নিয়ে সে তালবাহানা করে সে ঘুরাতে থাকে এবং না দিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। তার বাবার মৃত্যু খবর পেয়ে সে বাড়ি এসেছে এবং আবার সে পালিয়ে যেতে পারে বিধায় ওইদিন পুলিশ নিয়ে আমরা ওই বাড়িতে যাই। পরে তাদের সঙ্গে হাতাহাতির সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেন।
ওইদিন ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত মোরেলগঞ্জ থানার পুলিশ এসআই জহির জানান, আমাদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে সেখানে নেয়া হয়। আমরা ওই বাড়িতে ঢোকার আগেই সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সেটি যেকোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান জানান, অভিযোগকারী পাওনাদার আসলাম বহুদিনের পাওনা টাকার জন্য থানায় একটি অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখার জন্য এসআই জহিরকে বলা হয়। ওইবাড়িতে ওইদিন কেউ মারা গেছে, এ তথ্যটি আমাদের কাছে গোপন করা হয়। বিযয়টি খুবই দুঃখজনক।
এদিকে, একটি শোকাবহ বাড়িতে এ ধরণের ঘটনা সত্যিই অমানবিক ও দুঃখজনক বলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিমত ব্যক্ত করেন।