সোহেল পারভেজ, কেশবপুর প্রতিনিধি
আজ থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ শনিবার সকালে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ দুর্গোৎসব। বিজয়াদশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। কেশবপুর উপজেলায় ৯২ টি মন্দিরে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি নির্দেশনা মেনে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এই সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এবার পূজা মন্দির গুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। বছর ঘুরে আবার এসেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।
সরেজমিন, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে দেখা গেছে প্রতিমা তৈরির শেষ আয়োজন। প্রতিমা সাজানোর পালাও প্রায় শেষের দিকে। মন্ডপে আলোকসজ্জা আর উঠানে আল্পনায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সৌন্দর্য। প্রতিমার কোথাও যেন সৌন্দর্য্যের ঘাটতি না থাকে সেদিকে চোখ দিচ্ছেন কারিগররা। এমন কর্মযজ্ঞ চোখে পড়ছে কেশবপুর উপজেলার কয়েটি পূজা মন্ডপে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেশবপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় জানিয়েছেন, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৯২টি পূজা মন্দিরে দুর্গাপূজার সব রকম প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। শনিবার পূজার প্রথম দিন। সব কয়টি মন্দিরে সিসি ক্যামেরার আওতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা।
আবার কয়েকটি পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, দিন রাত একাকার করে কারিগররা প্রতিমা তৈরির শেষ আয়োজন চালাচ্ছেন। বাহারি রঙ, স্বর্ণালঙ্কার আর লাল শাড়িতে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে প্রতিমাকে। দেখছেন কোথাও কোনো অপূর্ণতা রয়েছে কি না । অন্যদিকে চলছে মন্ডপের লাইটিং, ডেকরেশন, দর্শনার্থীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা ও মন্ডপে বাহারি রঙের আল্পনা আর নকশা আঁকায় ব্যস্ত অনেকেই। পূজার আয়োজনকে ঘিরে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে বাড়ির শিশু-কিশোর এবং বয়স্কদের মনেও খুশির আমেজ যেন ভরপুর হয়ে উঠেছে। আয়োজন আর অতিথি আপ্যায়নের যেন কোন কমতি না থাকে, সেই দিকে নজর রয়েছে প্রতিটি পরিবারে। পঞ্চমী থেকে শুরু করে দশমী এই পাঁচ দিন। যেন ভিন্ন ভিন্ন আনন্দ নিয়ে আসবে সকলের মনে।
এদিকে, পূজা উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় কেনার ধুম পড়েছে পাড়া মহল্লার বাজার গুলোতে। শুক্রবার বিকেলে কেশবপুরের মঙ্গলকোট চৌধূরী বাড়ী পূজা মন্দির যেয়ে দেখা গেল ভাষ্কর কার্তিক পাল তার দুই সহকর্মী জয়দেব পাল ও তমাল পালকে নিয়ে দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলার ৫ টি মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ ধরেছেন।
বুড়ুলি রাজবংশী পাড়া মাস্টার সুকান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, বছর ঘুরে মা এসেছে । মনে তো আনন্দ থাকবেই । এটি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব, তাই আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। হাতে সময় নেই তাই পূজা উপলক্ষে পরিবার পরিজনদের জন্য কেনাকাটা করতে মন আকুপাকু করছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ছোট করে করতে হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম,এম,আরাফাত হোসেন বলেন, সনাতন ধর্মীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে উপজেলার ৯২ টি স্থানে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এসব স্থানে নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূজা উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করবে।
২৩ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১ দিন ২৩ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১২ দিন ৫ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১৬ দিন ১১ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১৭ দিন ১১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২৩ দিন ২৪ মিনিট আগে
২৩ দিন ২৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে