মণিরামপুরে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গু। উপজেলার কমপক্ষে ১৫ গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। এ পর্যন্ত ২০ ডেঙ্গু রোগী সনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে এমনটি আশঙ্খা করছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, গত ২০ জুলাই উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের মহেন মন্ডলের ছেলে প্রান্ত মন্ডল (২৬) প্রথম ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষায় তিনি ডেঙ্গুবাহী রোগী সনাক্ত হন। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার শেখ পাড়া খানপুর গ্রামের মাছুদ রানা (৩২), ১৩ অক্টোবর ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের পারভীনা খাতুন একই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এছাড়া উপজেলার অনেকেই চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলার বাইরে গিয়েও চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তন্ময় বিশ্বাস জানান, প্রথমে প্রান্ত মন্ডল ভর্তি হন। এরপর প্রান্ত মন্ডলের কৃষ্ণবাটি গ্রামের আরও ৫ জন তার কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অণুপ কুমার বসু জানান, গত শনিবার হানুয়ার গ্রামের রাবেয়া বেগম নামের একজন সনাক্ত হন। তাছাড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আরও ৮ জন ডেঙ্গু রোগী গত মাস সেপ্টেম্বর) তার কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সঞ্জয় কুমার পাঠক জানান, পৌর এলাকার মজনুর রহমান নামের একজন স্কুল শিক্ষক শনিবার সনাক্ত হয়েছেন।
এদিকে একই গ্রামে ৫ জন সনাক্ত হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওই গ্রামে গণসচেতনতায় কোন পদক্ষেপ নেয়ার খবর পাওয়া যানি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাছুদুর রহমান নয়ন জানান, তিনি এ বিষয়য়ে কিছুই জানেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তন্ময় বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতায় শিঘ্রই সম্বন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু জানান, দ্রুত সমন্বয় সভার মাধ্যমে উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত হোসেন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, ডেঙ্গু সনাক্ত এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে জনসচেতনতায় কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।