গাইবান্ধায় এস.পি.-র বাংলো থেকে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার। শ্রীমঙ্গলে মাদক ও যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা ও পেশাগত অধিকার সুনিশ্চিতকরণে সভা নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি: সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মহানবীর জীবন আদর্শ বাস্তবায়নে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব - মঈন খান দিনাজপুরে ২২৭ টন সরকারি সার আত্মসাতের অভিযোগে বিএডিসি’র স্টোরকিপার আটক মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পুনট গঠনে জয়পুরহাটের কালাইয়ে গণস্বাক্ষর ও আলোচনা সভা শেরপুরে পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ঝিনাইগাতীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ ন‌ওগাঁর নিয়ামতপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন ‎মোংলায় কোস্টগার্ডের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ‎কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কটিয়াদীতে ১২রবিউল আওয়াল উপলক্ষ্যে শানে রেসালত সম্মেলন অনুষ্ঠিত শার্শায় ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনের যৌথ আয়োজক মাভাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগ ‎ভরা মৌসুমেও চড়া দামে ইলিশ দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী , আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ এ মিলাদুননবী(সা:) উদযাপন ঝিনাইদহে বাইপাসে বাসচাপায় স্ত্রী নিহত, সেনাসদস্য স্বামী আহত রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামি গ্রেপ্তার লাঙ্গলবাঁধ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত নাগেশ্বরীতে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত সাংবাদিক, ওঝার কাছে গিয়েও রক্ষা নেই *কক্সবাজারের লিংক রোডে চাঞ্চল্যকর সোলাইমান ধলু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি হাছনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫*

পেঁয়াজ-রসুনে লোকসান, পাটে হাসি শিবচরের কৃষকের



“পাট শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘সোনালি আঁশ’। পাটের ভালো দাম মানে কৃষকের ঘরে স্বস্তি, আর পাটের বিস্তার মানে পরিবেশবান্ধব কৃষির সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হওয়া।”


মাদারীপুরের শিবচরে পেঁয়াজ ও রসুন চাষে বড় ধরনের লোকসানের পর চলতি মৌসুমে পাট যেন কৃষকের মুখে নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে। তেল সংকটে জমি প্রস্তুতে বিড়ম্বনা, কোথাও বিনা চাষে বীজ বপন, পরে পানি সংকটে পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার দুর্ভোগ—সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে।


শিবচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এপ্রিল মাসে কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যেও এ আবাদর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কমবেশি পাট চাষ হয়েছে।


শিবচরের কৃষকের কাছে পাট এবার কেবল আরেকটি মৌসুমি ফসল নয়; পেঁয়াজ-রসুনে ক্ষতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সম্ভাবনা। কৃষকদের ভাষায়, পাটের বাজারদর ভালো থাকলে আগের লোকসানের কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।


এক কৃষক বলেন, “পেঁয়াজ-রসুনে এবার অনেক লোকসান হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। এই দাম যদি ধরে রাখা যায়, তাহলে আগের লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব।”


আরেক কৃষক বলেন, “তেলের সংকটে শুরুতে ট্রাক্টর পাইনি। পরে পানি সংকটে পাট পচানো ও ধোয়ার সময় অনেক কষ্ট হয়েছে। শ্রমিকের দামও বেশি। তবে পাটের বাজার ভালো থাকায় এখন আর তেমন আফসোস নেই।”


চলতি মৌসুমের শুরুতে জ্বালানি তেলের সংকট শিবচরের কৃষকদের বড় সমস্যায় ফেলে। উপজেলার চরাঞ্চলসহ অনেক এলাকার কৃষি কার্যক্রম ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জমি প্রস্তুতের সময় ট্রাক্টর সংকটে পড়েন কৃষকেরা। প্রয়োজনের সময়ে যন্ত্র না পেয়ে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে জমি চাষ করতে পারেননি।


কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত প্রচলিত পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত না করে সরাসরি পাটের বীজ বপন করেন। শুরুতে এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা থাকলেও পরে ভালো ফলন পাওয়ায় বিনা চাষে পাট বপনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


কৃষকদের ধারণা, জমি চাষের একটি ধাপ বাদ দিতে পারলে সময় ও প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় দুটোই কমানো সম্ভব। ফলে আগামী মৌসুমে আরও কৃষক এ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণ করতে পারেন।


শিবচরের মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অনেক জমিতে পাটের গাছ হয়েছে সবল ও সতেজ। মাঠ থেকে পাট কাটার পর কৃষকের ব্যস্ততা এখন আঁশ ছাড়ানো, শুকানো ও বাজারজাতকরণ নিয়ে।


তবে পাট ঘরে তোলা পর্যন্ত স্বস্তি পুরোপুরি ছিল না। পাট কাটার পর আঁশ ছাড়ানোর জন্য জাগ দিতে হয়। আর জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। এ বছর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের বাড়তি শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। কোথাও দূরের খাল বা জলাশয় থেকে পানি এনে পাট জাগ দিতে হয়েছে।


এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি। পাট কাটা, আঁটি বাঁধা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর প্রতিটি ধাপেই শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তারপরও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনেকটাই সামলে নিতে পারছেন কৃষকেরা।


 শিবচরের মতো পাটনির্ভর এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জলাধার বা পানির উৎস সংরক্ষণ করা গেলে কৃষকের শ্রম ও খরচ দুটোই কমবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।


কৃষকদের প্রত্যাশা, পাটের দাম বর্তমান পর্যায়ে থাকলে আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিনা চাষে পাট বপনের সম্ভাবনা যদি মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে জমি প্রস্তুতের সময় ও খরচ কমিয়ে কৃষকের লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


শিবচরের কৃষকের কাছে তাই এবারের পাট শুধু একটি ফসলের গল্প নয়। এটি লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার গল্প। পেঁয়াজ-রসুনের ক্ষত শুকানোর আগেই মাঠের সবুজ পাট আর বাজারের ভালো দাম কৃষকের মনে যে আশার আলো জ্বেলেছে, সেটিই এখন ‘সোনালি আঁশের’ নতুন স্বপ্ন।

Tag
আরও খবর