মোঃ শাকিল মোল্লা,রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি, ৯ জুলাই ২০২৩
মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পৌর মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল সংবাদ সম্মেলন করেন।
৯ জুলাই (রবিবার)সকাল ১১ঘটিকায় পৌরসভার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর মেয়রের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ০৭-০৭-২০২৩ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ও ৮-৭-২০২৩ তারিখে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় পদে পদে দুর্নীতি মেয়রের ও গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের শিরোনামে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারে।
পৌর মেয়র সংবাদ সম্মেলনে বলেন,গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড নছর উদ্দিন সরদার পাড়ার জনৈক মোঃ শহীদ শেখ কর্তৃক উল্লিখিত পত্রিকায় আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। অভিযোগে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মানহানি করা হয়েছে। এছাড়াও গোয়ালন্দ পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ করা, তথা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার প্রয়াসে স্বার্থান্বেষী মহল এ ধরনের অপচর চালাচ্ছে। আমি আজকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পত্রিকা দুটির প্রকাশিত সংবাদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কুচক্রী মহলের এরূপ কর্মকান্ড ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কখনো বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার এলাকায় দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম ক্রয়কৃত সাড়ে আট শতাংশ জমি নিয়ে এই শহীদ শেখের বিরোধ করে আসছিল। এমনকি সে জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর উত্তোলন করে। হাফিজুল ইসলাম এ সংক্রান্তে পৌরসভার কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলে পৌরসভার বিধি অনুযায়ী শহীদ শেখ কে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এরপরও সে কাজ অব্যাহত রাখলে পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তফা মুন্সি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ সহ গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে নিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়। এছাড়া এই শহীদ শেখের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের অর্থ আত্মসাৎ এবং জন হয়রানির প্রতিবাদে তার বিচার চেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ২০২১ সালে ১৯শে ডিসেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এছাড়া এসএসসি পাস না করে ভুয়া সনদ দিয়ে আনসারে যোগ দিলেও পরবর্তীতে সনদ জালিয়াতির অভিযোগে সে চাকরিচ্যুত হয়। এ বিষয়ে বিচার চেয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে, গোয়ালন্দঘাট থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসব ঘটনার পর থেকে শহীদ শেখ আমার বিরুদ্ধে স্থানীয় কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় দুদক সহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আসছেন। এবং তিনি আরও বলেন কুচক্রী মহলে যেসব সদস্য আমার বিরুদ্ধে উল্লেখিত মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সংবাদ পরিবেশন সহ জনগণের মধ্যে আমার ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৈনিক সমকাল ও কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের যেসব মিথ্যা তথ্য উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করা হলো- গোয়ালন্দ বাস স্ট্যান্ড হতে তোরাইয়ের মোড় পর্যন্ত বাজার রাস্তার কাজের ঠিকাদার কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করলেও অর্থ সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কাজের বিল বা একটি টাকা প্রদান করা হয়নি তাহলে কি করে ওই অর্থ আমি আত্মসাৎ করলাম। দ্বিতীয় যে বিষয়টি অভিযোগ করেছেন তা হল বিএনপি ও জামাত জোট সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়ে হামলা ,মামলা এবং নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে আমি বেশ কয়েক বছর আগে হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট এ অফিসার হিসেবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও কখনো দৌলতদিয়া ঘাটে দালালি পেশার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ এরপর গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ সকলের ভোটে গোয়ালন্দ পৌর মেয়র আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। আমি স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করি। সেখানে আমি কি করে কোটি টাকার মালিক হলাম?
তৃতীয় অভিযোগ গোয়ালন্দ কাঁচা বাজার ইজারা ১০ লক্ষ টাকা না দিয়ে ৭ লক্ষ টাকা টেন্ডার দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। যা হয়েছে দরপত্র দাখিল অনুযায়ী হয়েছে এই তথ্যটিও সম্পূর্ণ ভুল ভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। মেয়র ইচ্ছেমত যে কাউকে হাট বাজার দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে হাটবাজারে যারা কমিটি তাদের উপর।
চতুর্থ অভিযোগ দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ পৌরসভা কার্যালয় কে আধুনিকায়ন কাজ করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র কক্ষ কর্মকর্তাদের কক্ষ সভাকক্ষে সহ মিলাদায়নের আধুনিক গৃহসজ্জা সামগ্রী দিয়ে আসা পত্র ( চেয়ার ,টেবিল, সোফা সেট,কার্পেট ,ওয়াশরুম ,এসি ,লাইটিং ,পর্দা সার্ভিস রুমের আলমারি সার্ভেয়ারের আলমারি) ডেকোরেশন এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যে কাজ করা হয়েছে সে হিসেবে প্রতিটি বিষয়ে যদি নিখুঁত আকারে হিসেব করা যায় তাহলে উল্টো নির্ধারিত টাকার চেয়ে আরও বেশি খরচ করা হয়েছে। কাজগুলো চারটি প্যাকেজ এর মাধ্যমে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করে এবং নিয়ম অনুসারে বিল উত্তোলন করেন। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে পৌরসভার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয়। দিনব্যাপী কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক ( খিচুড়ি) বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে পুরসভার ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর অভিযোগে জাতীয় শোক দিবস পালন নিয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কুচক্রী মহল মাত্র পাঁচ কেজি জিলাপির কথা বলে কর্মসূচিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন এবং সংবাদ প্রকাশ করে ৬৫ হাজার টাকার বিল তুলেছেন যে সংবাদটির কোনো সততা নেই। সম্পূর্ণ ভুল তথ্য সরবরাহ করে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে মানহানি করতে এবং গলন্ত পৌরসভার চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে কুচক্রের মহলের এই চেষ্টা। গোয়ালন্দের পৌর মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব তথ্য গোয়ালন্দ পৌর মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল লিখিত অভিযোগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার প্যানেল মেয়র জনাব নাসির উদ্দিন রনি , দেবগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুল ইসলাম, এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ , বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স অনলাইন ,প্রিন্ট, মিডিয়া ,সাংবাদিকবৃন্দ সহ প্রমুখ।