৫০ বছর আগের রেল যোগাযোগ বন্ধের পথে।
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে রেল লাইনের মাঝে খুয়া ও লোহার স্লিপার না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। কাঠের স্লিপার ও মাঝে নরম মাটি থাকায় মাঝে মধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান, গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশন মাস্টার।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে গোয়ালন্দ বাজার রেল ষ্টেশন। তবে অযন্ত্র-অবহেলা ও জনবল সংকটের কারণে ইতিমধ্যে গোয়ালন্দ বাজার রেল ষ্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেল ষ্টেশন দিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেল লাইনে কোন প্রকার খোয়া, লোহার স্লিপার নেই। কাঠের স্লিপার গুলো গুড়ি গুড়ি হয়ে গেছে। রেল লাইনের মাঝ দিয়ে মাটি নরম হয়ে গেছে। ট্রেন গুলো চলে ঝুঁকি নিয়ে।
গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশন থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত ৪টি রেলষ্টেশন। এর মধ্যে পাচুরিয়া থেকে রেল লাইন গুলো ফরিদপুর-ভাংঙ্গা এবং রাজবাড়ী থেকে ঈশ্বরদি-কুষ্টিয়া-খুলনা-দর্শনা-রাজশাহী রেল লাইন গুলোর মাঝ দিয়ে পাথরের খোয়া, লোহার স্লিপার নেই। জোড়াতালি দিয়ে চলছে ট্রেন।
মজিবুর রহমান জুয়েল নামের এক ব্যক্তি বলেন, গোয়ালন্দ ঘাট-গোয়ালন্দ বাজার ও পাচুরিয়া রেল ষ্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের মত উপযোগি নেই। চলে অনুমানের উপর। কারণ এত দুর্বল লাইনে ট্রেন চলাচলের মত অবস্থায় নেই। তিনি আরোও বলেন, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে এখানে ট্রেন চলাচল করেছে। জনবল সংকটের অজুহাতে গোয়ালন্দ বাজার রেল স্টেশন এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। রেল গেট গুলো রয়েছে অনিরাপদ।
এদিকে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলার থেকে গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশনে আসা যাত্রীরা নানা প্রকার দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে গৌন্তব্যস্থানে আসা-যাওয়া করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশনের পাশে খাবার হোটেল ব্যবসায়ী আশরাফ বলেন, রেল ষ্টেশনের পাশে ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে খাবার হোটেল ব্যবসা করে আসছি। কিন্ত এই লাইনের চলাচলরত ৭টি ট্রেনের মধ্যে ৫টি বন্ধ হয়ে যায়। গোয়ালন্দ বাজার রেল ষ্টেশন এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। পাটুরিয়া থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলে। ঝুঁকি মুক্ত ট্রেন চালাতে হলে অবশ্যই রেল লাইনের মাঝ দিয়ে পাথরের খোয়া, লোহার স্লিপার দিতে হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশনের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৫০ বছর রেল ষ্টেশনে খাবার হোটেলের ব্যবসা করে আসছি। একটি সময় প্লাট ফমে স্বার্বক্ষনিক মানুষের উপস্থিতি থাকতো। এখন এই রেল লাইনগুলো অকেজো হয়ে গেছে। এই রেল লাইন সচল রাখতে অবশ্যই সরকারি ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গোয়ালন্দ ঘাট রেল ষ্টেশন মাস্টার মো. জলিল বলেন, পাচুরিয়া ষ্টেশন থেকে গোয়ালন্দ রেল ষ্টেশন পর্যন্ত কিভাবে ট্রেন আসে আমি বলতে পারবো না। এই লাইন এত খাবার যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এখনি এই রেল লাইন মেরামত করতে হবে। তিনি আরোও জানান, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একাধিকবার জানানো হয়েছে।
১ দিন ৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
২ দিন ৫ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৩ দিন ৫ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৫ দিন ৫ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৬ দিন ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৬ দিন ৭ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে