বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। ফরিদপুরবাসী জেগে উঠেছে। অনেকেই বলে ফরিদপুরে ধানের শীষ নেই। কিন্তু আমি বলি ফরিদপুরের মাটি ধানের শীষের ঘাটি। আজকে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে এখানে নৌকা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এই সরকারকে পতন করার এখনই সময়। আমাদের সবাইকে রাস্তায় থাকতে হবে। তারেক রহমান বলেছেন ফয়সালা রাস্তায় হবে। রাস্তায় আজ লাখ লাখ জনতা নেমেছে, ফয়সালা করে আমরা বাড়ি ফিরব।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গোয়ালন্দ মোড়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের এক দফা দাবিতে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় রোডমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে হামলা, মামলা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষকে জেলে পাঠানো হয়ে। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মানুষের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।
লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমেছে, ফয়সালা করেই আমরা বাড়ি ফিরব’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। ফরিদপুরবাসী জেগে উঠেছে। অনেকেই বলে ফরিদপুরে ধানের শীষ নেই। কিন্তু আমি বলি ফরিদপুরের মাটি ধানের শীষের ঘাটি। আজকে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে এখানে নৌকা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এই সরকারকে পতন করার এখনই সময়। আমাদের সবাইকে রাস্তায় থাকতে হবে। তারেক রহমান বলেছেন ফয়সালা রাস্তায় হবে। রাস্তায় আজ লাখ লাখ জনতা নেমেছে, ফয়সালা করে আমরা বাড়ি ফিরব।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার আজকে দেশের ওপর চেপে বসেছে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে। অবৈধভাবে এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই সরকার জনগণ বিচ্ছিন্ন। এই প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রাখার জন্য র্যাবের ওপর স্যাংশন জারি করা হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, এই সরকার মরা মানুষের ভোট চুরি করেছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। জীবন যাবে, রাস্তায় রক্ত দেব তারপরও এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেব না। তার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। এই সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের জয় হবে। দেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাবে। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে মাঠে থেকে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার তাকে বিদেশে পাঠাচ্ছে না। তাকে মেরে ফেলার জন্য সরকার চক্রান্ত শুরু করেছে। এই চক্রান্তকে আমাদের প্রতিহত করতে হবে। আমরা লড়াই করে এই সরকারের পতন ঘটাব ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, অবৈধ সরকার জণগণের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করছে। তারা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে সাম্রাজ্য বানাচ্ছে। অথচ দেশের মানুষ এখন না খেয়ে মরছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা হত্যা করার পরিকল্পনা করছে। আমাদের নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার দরকার। কিন্তু এই সরকার আমাদের নেত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। আমরা বলতে চাই শেখ হাসিনা আপনি কিসের এত ভয় পান? আমাদের নেত্রীকে আপনি কেন বিদেশে পাঠাচ্ছেন না জনগণ সেটা জানে। তাই বলতে চাই অবিলম্বে সরকার থেকে পদত্যাগ করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, আজকের এই রোডমার্চ অবৈধ, ভোট চোর, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই রোডমার্চের বিরুদ্ধে সরকারের পতন ঘটবে। এই সরকারের পতন না করে আমরা মাঠ ছাড়ব না। আমাদের এক দফা এক দাবি এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না।
জানা গেছে, ফরিদপুর বিভাগীয় রোডমার্চটি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় থেকে শুরু হয়ে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর হয়ে শরীয়তপুরে যাবে। সেখানে একটি জনসভার মাধ্যমে রোড মার্চটি শেষ হবে। এছাড়া পথে পথে সভা করবে দলটি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নেতাকর্মীদের বক্তব্যের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় থেকে রোডমার্চের উদ্বোধন হয়। এরপর পথসভাটি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে রোড মার্চটি ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এরপর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ধরে মাদারীপুরের দিকে এগোচ্ছে রোডমার্চের বহর। পথে পথে ফরিদপুর, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী রোড মার্চের বহরে যোগ দিচ্ছেন। পথে নগরকান্দা উপজেলার তালমার মোড়, গোলাপগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বরইতলা বাসস্ট্যান্ড, মাদারীপুরের মুস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে পথসভা শেষে শরীয়তপুরে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্টেডিয়ামে সমাবেশের মধ্য দিয়ে পথসভার ইতি ঘোষণা করা হবে।
১ দিন ৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
২ দিন ৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৩ দিন ৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৫ দিন ৫ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৬ দিন ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৬ দিন ৭ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে