ড. ইউনূসকে যা বললেন মোদি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায় ভারত ডোমারে সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার-১ ঝিনাইদহে কবরস্থানে বসবাস করছে অসহায় পরিবার, সাহায্যের আহ্বান বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন, জানল না শিশু আরাধ্য সবার পাঠশালার শীর্ষ নেতৃত্বে সিহাব-প্রাণহরি মোংলা বন্দরে নতুন আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহী চীন হাসিনাকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ মধুপুরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিউটি পার্লারের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এবং বর্তমান জনশক্তিদের নিয়ে ঈদ পুণর্মিলনী পূর্ব সোনার পাড়া আদর্শ সামাজিক সংঘ এর আলোচনা সভা ও ঈদ পূণর্মিলনী সম্পন্ন। শার্শার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ারচরে ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্ভোধন কুলিয়ারচরে স্মারক জয়ন্তী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটিতে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আগমন জমজমাট লালপুরে স্ত্রী সন্তানের ওপর রাগ করে নিজের বাড়িতে আগুন তরুণদের ‘থ্রি-জিরো’ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তৈরির আহ্বান জানালেন ড. বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর ইউনূস ২-৪ বছর থাকলে দেশ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার পথে এগিয়ে যাবে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে'

পাবিপ্রবিতে চলমান নানা প্রকল্পে অনিয়ম


২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩  অর্থ বছরের অডিটে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নানা অনিয়ম এবং  বিভিন্ন অসংঙ্গতি ধরা পড়েছে  পাবনা বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে । সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ অডিট প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) থেকে প্রকাশিত ২০২২-২০২৩ নিরীক্ষা বছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ২৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে পাবিপ্রবির চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এসব অনিয়ম ও অসংঙ্গতি ধরা পড়ে। সিএজির অডিট রিপোর্টে প্রকল্প নিয়ে ১৫টি বিষয়ের ওপর অডিট আপত্তি এসেছে, যেখানে আর্থিক অনিয়ম ও অসংঙ্গতি ১০০ কোটি টাকার উপরে। এ রিপোর্টে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৩০টি বিষয়ের ওপর অডিট আপত্তি এসেছে।


১৫টি বিষয়ে অডিট আপত্তির মধ্যে উল্লখযোগ্য হলো, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত অনিয়মিত ব্যয় ৫২ কোটি ২৮ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা, ডিডিপি লঙ্ঘন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আর্থিক ক্ষমতা বহির্ভূত অনিয়মিতভাবে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ১৫ কোটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার ১ শত ৩৩ টাকার কার্যাদেশ, ঠিকাদারের বিল হতে জামানত কর্তনের নামে কর্তনযোগ্য জামানাতের অতিরিক্ত অর্থ প্রকল্প হিসাব হতে অনিয়মিতভাবে জামানত হিসেবে ১৫ কোটি ৫৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৫ শত ৮৬ টাকা স্থান্তান্তর, ঠিকাদার কর্তৃক নিন্মমানের বই সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশংকা ১২ কোটি ১৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬ শত ৭ টাকা,  ডিপিপিতে নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন না করে কম কাজ বাস্তবায়ন করায় ৯ কোটি ১৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অর্থ বিধি বহির্ভূতভাবে অন্য ব্যাংক হিসাবে ৭ কোটি ৪১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫ শত ৯৯ টাকা স্থানান্তর, চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত অর্থ ঠিকাদারকে পরিশোধ করায় ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ক্ষতি, ডিডিপি মোতাবেক প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না করতে পারায় মূল চুক্তি মূল্য বৃদ্ধি করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর সাথে সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষর করায় ২৮ লক্ষ ৯২ হাজার ৫ শত টাকার আর্থিক ক্ষতি, কোনরূপ আর্থিক বিধি বিধান অনুসরণ ছাড়াই গাড়ির জ্বালানি সরবরাহকারী ফিলিং স্টেশনকে প্রাপ্যতা বিহীন সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ৩৭ লক্ষ টাকা অগ্রিম প্রদান করা। 


এছাড়াও প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যায়ের সাথে সমন্বিতভাবে অডিট আপত্তি এসেছে। এগুলো হলো- বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় করায় আর্থিক ক্ষতি ৩১ কোটি ৫৩ লক্ষ ২৭ হাজার ২ শত ৭৮ টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত বিল থেকে নির্ধারিত হারের আয়কর কর্তন না করায় সরকারের ২ কোটি ৪২ লক্ষ ৩ শত ৮৪ টাকার রাজস্ব ক্ষতি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিল হতে নির্ধারিত হারে ভ্যাট কর্তন না করা করায় সরকারের ১ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৯ শত ৭১ টাকা রাজস্ব ক্ষতি, প্রকল্পের জামানত হিসেবে অর্জিত সুদ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান না করায় সরকারের ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৩৯ হাজার ২ শত ৭৪ টাকা রাজস্ব ক্ষতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন বিল হতে নির্ধারিত হারে সার্ভিস কর্তন না করায় ১ লক্ষ ১০ হাজার ৬ শত ৯৭ টাকা রাজস্ব ক্ষতি, ঠিকাদারের চুক্তি মূল্যের উপর বীমা না করায় বীমা প্রিমিয়াম এবং প্রিমিয়ামের উপর ভ্যাট সহ ৩ কোটি ৫২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭ শত ৪৭ টাকার রাজস্ব ক্ষতি।


অডিট রিপোর্ট থেকে দেখা যায় প্রকল্পের ১৫টি অডিট আপত্তির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০টি আপত্তির জবাব দিয়েছেন। ৫টি অডিট আপত্তি গ্রহণ করলেও সেগুলোর কোন জবাব প্রদান করেননি।  এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক লে. কর্ণেল (অবঃ) আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আছি, অডিট যা দিয়েছে সব আমার মনে নাই। অডিট আপত্তি যা আসছে সবগুলোর উত্তর আমরা অডিট রিপোর্টে দিয়েছি।  উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চাইলে,  উপাচার্যের মন্তব্যের বিষয়ে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ তথ্যগুলো আগের ২০২১-২২ এর, এই উপাচার্য তখন আসেন নাই। যেহেতু আগের তথ্য সেহেতু উপাচার্য কীভাবে বলবেন! এ বিষয়ে উপাচার্যের কোন মন্তব্য নাই। আপনি যেভাবে তথ্য চেয়েছেন সেভাবে হবেনা। আপনাকে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাইতে হবে। তারপর আমরা স্ব স্ব দপ্তরগুলোতে তথ্যগুলো চাইবো। তারা তথ্যগুলো দিলে তারপর উপাচার্য এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন।  


আরও খবর