ড. ইউনূসকে যা বললেন মোদি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায় ভারত ডোমারে সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার-১ ঝিনাইদহে কবরস্থানে বসবাস করছে অসহায় পরিবার, সাহায্যের আহ্বান বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন, জানল না শিশু আরাধ্য সবার পাঠশালার শীর্ষ নেতৃত্বে সিহাব-প্রাণহরি মোংলা বন্দরে নতুন আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহী চীন হাসিনাকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ মধুপুরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিউটি পার্লারের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এবং বর্তমান জনশক্তিদের নিয়ে ঈদ পুণর্মিলনী পূর্ব সোনার পাড়া আদর্শ সামাজিক সংঘ এর আলোচনা সভা ও ঈদ পূণর্মিলনী সম্পন্ন। শার্শার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ারচরে ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্ভোধন কুলিয়ারচরে স্মারক জয়ন্তী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটিতে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আগমন জমজমাট লালপুরে স্ত্রী সন্তানের ওপর রাগ করে নিজের বাড়িতে আগুন তরুণদের ‘থ্রি-জিরো’ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তৈরির আহ্বান জানালেন ড. বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর ইউনূস ২-৪ বছর থাকলে দেশ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার পথে এগিয়ে যাবে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে'

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বন্ধে কি ষড়যন্ত্র?

ফাইল ছবি

তানজীম আবদাল:


স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। মানুষের অন্যান্য মৌলিক চাহিদার মতোই স্বাস্থ্য বা সুস্থতা বস্তুত অন্যতম একটি বিষয়। সুচিকিৎসার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক রোগ নির্ণয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া সঠিক চিকিৎসা অত্যন্ত দুরূহ।বিশ্বের যেসব দেশ চিকিৎসাসেবায় উত্তরোত্তর সাফল্য বা সমৃদ্ধি এনেছে, সেগুলোর সবটাতেই রোগ নির্ণয় সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই তা সম্ভব হয়েছে।


বাংলাদেশ সরকার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়নকল্পে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা দৃশ্যমান। কিন্তু এত এত উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের মাঝেও কিছু কিছু জায়গায় সুস্পষ্ট বৈষম্য রয়ে গেছে। যদিও স্বাস্থ্যসেবা একটি ‘কমবাইন্ড টিমওয়ার্ক’, কিন্তু এ দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত চিকিৎসককেন্দ্রিক এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীদের বেশির ভাগই এ ধারণার সঙ্গে বিশ্বাসী এবং তার বহিঃপ্রকাশ আমরা প্রায়শই দেখি। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ১৮ কোটির বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য আরো অনেক চিকিৎসক এবং নার্স প্রয়োজন, কিন্তু যে জায়গাটি একদম অবিহেলিত অর্থাৎ ডায়াগনোসিসের মতো বিষয়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতে ক্ষতিটা একমুখী নয়, বরং বহুমাত্রিক।


একদিকে সাধারণ মানুষ সরকারি পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে এ খাতের জনবলকে লাখ লাখ টাকায় সরকারি খরচের মাধ্যমে তৈরি করে কেবল সনদমুখী শিক্ষার প্রসারই করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়সহ চিকিৎসাসেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেও রাষ্ট্রের সঠিক নজরদারির মধ্যে এখনো কেন এদের আনা হয়নি, এ প্রশ্নটি কেবল উত্তরহীনই থেকে গেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কথা প্রায়শই আমরা শুনতে পাই। কিন্তু তা কেবল চিকিৎসক ও নার্সকেন্দ্রিক আলোচনা এবং মেডিকেল টেকনোলজি পেশার বাস্তবায়নে বস্তুত তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মূল পর্দার পেছনে থেকে রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও জরুরি কাজগুলো যারা করে থাকেন, মূলত তারাই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। রোগ নিরাময় সেবায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি এদেরও রয়েছে কার্যকরী ভূমিকা। কিন্তু তারা সব সময়ই ফোকাস বা আলোচনার বাইরে থেকে গেছেন।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এবং ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর কোর্স সম্পন্ন করে, পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পরও গ্র্যাজুয়েটদের সম্বল কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ। ২০০৪ এবং ০৫ সেশন থেকে শুরু হওয়া এসব কোর্সের পাসকৃত গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৬ হাজারেরও বেশি। সংখ্যার গণনায় ঠিক আরো কত হাজার সংযুক্ত হলে নীতিনির্ধারকরা এই দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষিত, বেকার এবং অবহেলার শিকার জনবলের দিকে নজর দেবে, তা ভেবে দেখার বিষয়।


পেশাগত ডিগ্রি নিয়েও এ পেশার লোকদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বা অধিদপ্তরের কোনো স্বতন্ত্র শাখা নেই, নেই কোনো কাউন্সিলের প্রদত্ত পেশাগত সনদ। ক্যারিয়ার প্ল্যান, নিয়োগ কিংবা নিয়োগবিধি! নেই বলতে কিছুই নেই। তাহলে কী আছে! আছে সংক্ষুব্ধতা, ক্ষোভ, হতাশা বা পেশা বদলানোর হিড়িক। প্রায় ২০ বছর এতগুলো কোর্স চলমান, পাস করে সনদ হাতে হাজার হাজার টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের জন্য বা কাজে লাগানোর কোনো উদ্যোগ নেই। সুষ্ঠু সমন্বয় বা সমুন্নত স্বাস্থ্যসেবার কথা প্রকৃত অর্থে ভাবতে হলে এত বড় একটি জনগোষ্ঠীকে মূলধারার বাইরে রাখা নেহাতই নির্বুদ্ধিতার মতো বিষয় বললেও ভুল হবে না।


বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও এ বিপর্যস্ততার বাইরে নয়। কোভিড মহামারির এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা পেশার মানুষ এগিয়ে এসেছে। মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এ পেশার ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীরা। কিন্তু বিনিময়ে তাদের জন্যও কেবল অবহেলার সচিত্রই ফুটে উঠেছে সর্বত্র। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব, কাজ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে ভূমিকা, তা বারবার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উঠে এসেছে। দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিভিন্নভাবে সরকারকে এদের নিয়োগ প্রদান ও কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবার মতো এত বড় গুরুদায়িত্ব পালন এবং করোনা মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্রন্টলাইন ফাইটারস হিসেবে নমুনা সংগ্রহ, এক্সণ্ডরে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই, নানাবিধ পরীক্ষাণ্ডনিরীক্ষা এবং ফলাফল প্রদানসহ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিভাগের লোকজন স্পর্শকাতর কাজে নিয়োজিত থাকার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ সব সময়ই বিমাতাসুলভ আচরণ করে এসেছে এ পেশাজীবীদের সঙ্গে।


দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিদাওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে এলেও অজানা কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ তা শুনেও না শোনার ভান করছে। দেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম তিন শিফটের মাধ্যমে দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল অর্থাৎ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অপর্যাপ্ততার কারণে তা দিনের নির্দিষ্ট সময় পরিচালিত হয়; যা কি না লোকবল বাড়ানোর মাধ্যমে তিন শিফটেই বা ২৪/৭ চালু রাখা সম্ভব হতো। সরকারি পর্যায়ে এ সুবিধা না থাকায় মফস্বলের সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যের বেসরকারি সেবা নিতে বাধ্য হতে হয়; যা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।


কোভিডণ্ড১৯ মহামারির শুরু থেকেই সরকারি হাসপাতালগুলোয় মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকটের বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আলোড়ন তৈরি করে; যা একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে; কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ এবারও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলো, একদিকে ডিপ্লোমাধারীদের ১২ বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অনেকের চাকরির বয়স শেষ, অন্যদিকে কর্মসংস্থান না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার বেকার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মানবিক জীবনযাপন করছেন। অথচ ১০ সহস্রাধিক গ্র্যাজুয়েটের কোনো প্রকার পদ সৃজন কিংবা নিয়োগের চিন্তাভাবনা আজ পর্যন্তও করা হয়নি।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক, দেশে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা এক লাখ তিন হাজারেরও বেশি, নার্সের সংখ্যা ৭৩ হাজারের অধিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মোতাবেক প্রতি একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স ও পাঁচজন টেকনলোজিস্ট অর্থাৎ ডাক্তার ১ : নার্স ৩ : মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পাঁচ থাকার নির্দেশনা থাকলেও বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে ৩০ হাজার ডাক্তারের বিপরীতে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংখ্যা মাত্র ৫ হাজার ২০০। গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কোনো পদ এখনো সরকারি খাতে সৃষ্টি হয়নি।


সরকারি পর্যায়ে আরো ২ হাজার চিকিৎসক এবং প্রায় ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরো ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু এত কিছুর পরও গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশার কোনো দ্বারই উন্মোচিত হয়নি; যা এ ক্রান্তিকালে একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত হতে পারত।


পেশার মান উন্নয়ন এবং তা জনমুখীকরণের পাশাপাশি কোর্স সম্পন্নকারী গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পদ সৃষ্টি করে পদায়ন করা হলে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ প্রসারিত হবে। একটি সুন্দর ক্যারিয়ার প্ল্যান এবং সুস্পষ্ট নিয়োগ নীতিমালা, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পদ সৃষ্টি করা, গবেষণার সুযোগ সৃষ্টিসহ শিক্ষার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। সময় গড়িয়েছে অনেক, তাই এ বিষয় নিয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান কিছু এখন সময়ের দাবি। কেবলমাত্র সরকারের একটি সিদ্ধান্তই এ গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে।


লেখক-মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,
ডায়াবেটিক ফুড কেয়ার এন্ড পি.আর.পি সেন্টার।


আরও খবর