অভয়নগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ মেঠ পথের পাশ, জমির আইল, খাল-বিল তীর এবং গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় এখন নজরে পড়ছে কাঁচা-পাকা হলুদ খেজুর। বলা হয়, খেজুর গাছে বছরে দুই ফলন আসে, শীতকালে মিষ্টি সুস্বাদু রস আর গীষ্মকালে পাকা খেজুর।
মানবজাতির কল্যাণে প্রকৃতির সৃষ্টি। অসংখ্য বৃক্ষরাজির মধ্যে খেজুর গাছ একটি অতি প্রয়োজনীয় পরিচিত বৃক্ষ। মানব দেহের গুনাগুন সমৃদ্ধ যে বৃক্ষ জৈষ্টের মধু মাসে নিজেকে জানান দিতে সেজেছে নতুন রূপে। যারই ফলশ্রুতিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর। এখনই অনেক খেজুরে রঙ ধরেছে। তবে এখনো খাওয়ার উপযোগী হয়নি, এখনও খেতে কষ কষ লাগছে, পাকলে তা মিষ্টি হবে। পাকলে অনেকেই এই পাকা খেজুর বাজারেও বিক্রি করবেন।
খেজুর শুষ্ক ও মরু অঞ্চলের উদ্ভিদ হওয়ায় এঅঞ্চলে খেজুর গাছে যথেষ্ট শাঁসযুক্ত উৎকৃষ্ট মানের খেজুর হয় না। এটি খাদ্য হিসেবে খুব একটা ব্যবহার হয় না। তবে এই গাছের রস আকর্ষণীয় ও সু-মিষ্ট। দেশি খেজুরকে কেউ কেউ বুনো বা জঙ্গি খেজুর নামে ডাকেন। কেননা এটা কেউ চাষ করে না, জঙ্গলের গাছ। দেশী খেজুর এ দেশের একটি অন্যতম প্রাচীন ফল। এ দেশেই উৎপত্তি, এ দেশেই বিস্তার। চৈত্র মাসে ফুল ফোটে। কাঁদিতে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল ফোটে। পুরুষ ফুল সাদা ক্ষদ্রাকার। ফল হয় গ্রীষ্মকালে। ফল প্রায় ডিম্বাকৃতি, হলুদ রঙের, লম্বায় প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার। ভেতরে হালকা বাদামি রঙের একটি বীজ থাকে। বীজের ওপরে পাতলা আবরণের মতো শাঁস থাকে। কাঁচা শাঁস কইষট্যা-নোনতা। কিন্তু পাকলে তা বেশ মিষ্টি হয়।
খেজুর গাছ দুরারোগ্য রোগ প্রতিরোধী উদ্ভিদ, প্রতিকূল পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে। রাস্তার দু’ধারে, পুকুর পাড় কিংবা ক্ষেতের আইলে এ গাছ বেশী দেখা যায়। পাকা খেজুর দোয়েল, বুলবুলি, শালিক পাখিসহ অন্যান্য পাখিদের খুব প্রিয়। পিঁপড়া ও মৌমাছিরাও এ পাকা খেজুরের স্বাদ নিতে দেখা যায়।
দৃষ্টিনন্দন খেজুর গাছে ঝুলে থাকা কাচা-পাকা খেজুর যেন শিশু-কিশোরদের স্বপ্নের মতো দোলা দিচ্ছে।
৬ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
২ দিন ৪ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৩ দিন ৪ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৪ দিন ৫ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১৩ দিন ১০ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
২৪ দিন ৫ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
২৬ দিন ১৪ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
২৯ দিন ১৫ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে