গুম-খুন-দুর্নীতি আওয়ামী লীগের রাজনীতি। তাদের ইতিহাস হত্যার ইতিহাস। দেশের টাকা আত্মসাৎ করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। সারা বিশ্বের গণতন্ত্র রাষ্ট্র আজ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় কর্তত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আওয়ামীলীগ ৮০ এর দশকে ৯০ এর দিকে ফটিকছড়িতে গুম, খুন করেছে। এখন নাজিম মুহুরীর নির্দেশে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা চালাচ্ছে। বিএনপি যারা করে তাদের উপর পুলিশের সহায়তায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নির্যাতন চালাচ্ছে।
৫ জুলাই (বুধবার) দুপুর সাড়ে ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে উত্তর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ী ফেরার পথে ওঁৎপেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে, এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়। আমরা এ হামলা নিন্দা জানাচ্ছি এবং সাথে সাথে জঙ্গী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবী জানাচ্ছি। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এসব ব্যাপারে মনিটরিং করছে। তারা বিভিন্ন মামলা ও হয়রাণী করার হুমকীও দিচ্ছে আমাদের।
লিখিত বক্তব্যে সরোয়ার আলমগীর আরো জানান, গত ৩ জুলাই আমার নির্বাচনী এলাকায় চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন ফটিকছড়ি উপজেলার বিএনপি অঙ্গসংগঠনের কয়েকশত মোটরসাইকেলের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার উদ্দেশ্যে দুপুরে নাজিরহাট থেকে হেয়াকো সড়ক পর্যন্ত ঈদের শুভেচ্ছা শেষে হেয়াকো বাজারে পূর্ব থেকে উঁৎপেতে থাকা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্র লীগের ক্যাডাররা মোটর শোভাযাত্রার পেছনে রড, লাটি, আগ্নেয়অস্ত্র নিয়ে হামলা করে।
আমাকে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা ইসমাইল মজুমদার, সেলিম সরকার, হানিফ সরকার। এই হামলায় বিএনপি নেতা আবুল খায়ের, আবুল হাশেম, যুবদল নেতা সামশু, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো: জসীম উদ্দীন, আরিফ, ইউসুফ এবং হানিফ, ছাত্রদল নেতা মীর মোহাম্মদ আলী আকবর, আনিসুর রহমান টিটু, ইয়াকুব, জয়নাল আবেদীন, জামশেদ আলম, আরিফ হোসেন, ফারহানসহ অসংখ্য নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে এবং প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১২টি মোটরসাইকেল তারা রেখে দেয়। এ ঘটনায় আরেকটি ভূজপুর ট্রাজেডি যাতে না হয় তার জন্য আমার নেতাকর্মীদের শান্ত করে ঘটনার ব্যাপকতা যাতে না হয় সেখান থেকে আমরা সকলে যার যার এলাকায় চলে আসি। এই সংগঠিত ঘটনার পুরো ভিডিও ইতিমধ্যে ফেইসবুকের কল্যাণে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং দেশে-বিদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেটা পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকা, বিভিন্ন মিডিয়ায় ঘটনা প্রচার করা হয়েছে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে এ হামলার প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামীলীগ একটি সন্ত্রাসী দল। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার জন্য। তাদের একমাত্র নির্ভরতা প্রশাসন এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে বিরোধী দলের উপর হামলা, মামলা এবং সভা-সমাবেশের উপর হামলা করে।
ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরীর উষ্কানীমূলক বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি এ পুরো ঘটনার পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা। সংগঠিত ঘটনার পর থেকে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দাঁতমারা, নারায়নহাট এবং ভূজপুরের নীরিহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নির্যাতন এবং হামলা অব্যাহত রাখে। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। আমি বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য। কিন্তু প্রশাসন বিশেষ করে ভূজপুর পুলিশ এখনও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তিনি জানান, সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধী এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দাবী জানাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করি। আমরা মামলা-হামলা, সংঘাত, সংঘর্ষে বিশ্বাস করি না। প্রশাসনকে আগামী ৭২ ঘন্টার ভিতরে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি ও ঘটনার পরিকল্পনাকারী' নেতৃত্বকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি। দাঁতমারা, নারায়নহাট এবং ভূজপুরের সংগঠিত হামলা, ত্রাসের রাজত্ব বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আমার দল বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবি পরিষদের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা।
৭ দিন ১৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১০ দিন ১৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৬৩ দিন ১৭ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৬৫ দিন ২২ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৬৮ দিন ১৬ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৬৮ দিন ১৭ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৯০ দিন ১৪ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৯১ দিন ১৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে