জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্নার মাগফিরাতে দোয়া স্বরণ সভার আয়োজন করে সানন্দবাড়ী প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
শনিবার (১৫ জুন ২৪ ইং) ৪ টায় সানন্দবাড়ী প্রেসক্লাব অস্থায়ী কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনা পরিক্রমায় বলা হয়, একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সকল প্রকার অসংগতি, অন্যায়-অনিয়ম, দূর্নীতিসহ, নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনে অনন্য এক নাম ছিল সাংবাদিক রাব্বানী নাদিম। খারাপ কাজ থেকে যেমন দূরে থাকতেন, ঘৃনা করতেন তেমনি ভাল কাজে ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত ভিন্ন ধারার একজন সাংবাদিক ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, দূর্নীতিবাজ, অন্যায়কারীরা জমের মত ভয় পেত তাকে। এককথায়, অতীত বর্তমান দুই সময়েই সাংবাদিক মহলে এক আদর্শ নাম গোলাম রাব্বানী নাদিম।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহমুদুল বাবু'র দূর্নীতি এবং তাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনেক তথ্য প্রমাণ খুঁজে পায় নিহত সাংবাদিক। কিছু দিনের মধ্যেই সেসব তথ্যবহুল পুরো সংবাদ প্রকাশ হতে যাচ্ছিল। প্রত্যেক্ষ ক্ষতির সম্ভাবনায় দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান বাবু'র ব্যক্তিগত শত্রুতে পরিনত হয়েছিলেন প্রতিবাদী ওই সাংবাদিক। তার জেরেই, ১৪ই জুন ২০২৩ ইং চেয়ারম্যান বাবুর উপস্থিতিতে তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম হামলার শিকার হন তিনি। বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয় তাকে, একেবারে মেরে ফেলতে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দেয় সন্ত্রাসীরা। ১৫ ই জুন ২০২৩ ইং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিয়তির ডাকে সাড়া দিয়ে ওপারে পাড়ি জমান সাংবাদিক রাব্বানী নাদিম।
উক্ত স্বরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রুবেল।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদুল আলম শিকদার এর সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম , হারুন অর রশিদ, মোস্তাইন বিল্লাহ, রিয়াদ হাসান, মুক্তারুল ইসলাম, শেখ মোঃ জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যারকান্ডের ০১ বছর পার হয়ে গেছে এখনও কেন চুরান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছেনা আদালত? বিচারের আশায় দীর্ঘ্য প্রহসনের শিকার হচ্ছে তার পরিবার। এতদিন পেরোলেও মামলার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কেন এত তালবাহানা? আসামিরা একের পর এক জামিনে বেরিয়ে নিহত সাংবাদিক পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় মামলার দ্বিতীয় আসামি বাবু চেয়াম্যানের ছেলে রিফাতকে গ্রেপ্তার করাসহ হাত্যাকারীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি করনে তারা। অন্যাথায় বৃহত্তর আন্দোলনের নামার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বসে থাকার সময় নাই। কিছুদিন আগে একই এলাকায় দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি'র ওপরেও হামলা হয়েছে। এভাবে ছাড় দিলে আপনার আমার জীবনেও অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনা ঘটতে সময় লাগবে না। দ্রুত বিচারের বিকল্প নেই, "আর নয় প্রহসন, নইলে কঠোর আন্দোলন।
সেসময় অন্যান্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রিয় সহকর্মী হত্যার দ্রুত বিচারিক রায় এবং এতে জড়িত প্রকৃত দোষীদের ফাঁসির দাবি জানান। সবশেষে, নিহত সহকর্মী রাব্বানী নাদিমের আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
১৪৯ দিন ১৬ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২৭২ দিন ১৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
২৭৭ দিন ১৪ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
২৮৫ দিন ২১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২৯০ দিন ১৯ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৫৩১ দিন ৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৫৩৩ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫৩৩ দিন ২২ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে