নীলফামারীর ডোমারে স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন কর্তৃক মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ডোমার রেল স্টেশন পাড়ার মৃত আব্দুল লতিফ এর ছেলে মো. মতিবুল ইসলাম।
বুধবার (৩০ আগস্ট) সকালে ডোমার সহরের বাটার মোড়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বজনদের নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে ভুক্তভোগী মতিবুল ইসলাম।
এ সময় মতিবুল বলেন, আমার বাবা ১৯৯৮ইং সাল থেকে ২০১২ইং সাল পর্যন্ত ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে কুলির সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর ডোমার রেলওয়ে স্টেশনের তৎকালীন স্টেশন মাস্টার আমাকে কুলির সর্দার হিসাবে মনোনীত করেন বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ডি.সি.ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বরাবর ১৯ নভেন্বর ২০১২ইং তারিখে একটি আবেদনপত্র প্রেরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি ২০১২ সাল থেকে ২০২২ইং পর্যন্ত সততা এবং নিষ্ঠার সহিত আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি। এরপর বিগত ২০২২ইং সালে স্টেশনে সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে ডি.সি.ও পাকশী এক তদন্তের মাধ্যমে আমাকে মৌখিক ভাবে কাজ করতে নিশেধ করেন।
এর কিছুদিন পর বর্তমান ডোমার রেলস্টেশন মাস্টার মোঃ আনোয়ার হোসেন সামছুদ্দিন নামের এক কুলির কাছে উৎকোচ নেন। এর বিনিময়ে সামছুদ্দিনকে মৌখিকভাবে কুলির সর্দার ঘোষনা করেন এবং স্টেশনের বুকিং সহকারীর কক্ষ হতে ৭৩,০০০/- টাকা চুরি সহ আমার বিরুদ্ধে সাজানো একটি অভিযোগপত্র বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার পাকশী সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠান।
আনোয়ার হোসেনের করা মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের সম্মানহানী সহ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন- যাপন করছি। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আমারা চলাফেরায় নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছি।
এদিকে মতিবুল এর বিরুদ্ধে গত ১৮ আগস্ট রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (পাকশী) সহ রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডোমার রেল স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী স্টেশন মাস্টার জনাব আশরাফুল ইসলাম মতিবুল ইসলামের কাছে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন। এবং ডোমার স্টেশনের কুলির সর্দার নিয়োগের জন্য কাগজপত্র সহি করে ডি.সি.ও পাকশী বরাবর প্রেরণ করেন। অথচ বর্তমান কুলি সর্দারের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং ২০১৮ সালের ১৬ই মার্চ উক্ত মতিবুল বর্তমান কুলির সর্দারের সহিত অসদাচারণ করিলে বর্তমান সর্দার জনাব মোঃ সামসুদ্দিন ইসলাম (সাম) সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। যার জিডি নম্বর- ৫৬৩।
উক্ত জিডির বলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি মতিবুলকে স্টেশনে অসৌজন্য আচরণ করিতে বারণ করে এবং স্ট্যাম্পের উপর লিখিতভাবে মুচলেকা নেয়া হয়।
অভিযোগে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার আরো উল্লেখ করেন, উক্ত মতিবুল পূর্বের বুকিং সহকারী জনাব মোঃ মাহাববুর রহমানের ক্যাশ হইতে প্রায় ৭৩,০০০/- টাকা চুরি করেছিল। বর্তমানে সে ডোমার স্টেশনে টিকিট কালোবাজারীর ব্যবসা করিতেছে। যাহার দরুন স্টেশনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হইতেছে। মতিবুল পূর্বেও স্টেশনের সাধারণ কুলি হিসেবে কাজ করিতেছিল। টিকিট ব্লাক সহ নানা অপকর্মের কারণে স্থানীয় লোকজন তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ডি.সি.ও বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রেরন করে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সেই সময় ডি.সি.ও পাকশী তাকে কুলির পদ হতে বহিস্কার করে ও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সাবধান করে দেন।
উক্ত মতিবুল প্রতিনিয়ত স্টেশনের স্টাফদের সহিত নানা অযুহাতে গন্ডগোল করার পায়তারা করছে। তার এমন আচরণে স্টেশন মাস্টার সহ স্টাপগণ আতংকিত অবস্থায় রয়েছেন। মতিবুল যে কোনো সময় স্টেশনে যে কোন ধরণের অঘটন ঘটাইতে পারে বলে আশংকা করছেন ডোমার রেলওয়ে স্টেশনের কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে ডোমার স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মতিবুলের ব্যাপারে পাকশী অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৭ দিন ২ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৭ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৭ দিন ১৭ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৮ দিন ২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৯ দিন ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে