আমি ভীষণ একা৷
মাও. ফখরুল হাসান
মাঝে মাঝে মনে হয়, এই শহরে আমি ছাড়া কারো বসবাস নেই৷ শহরের কাছে সবকিছু আছে৷ গর্ব করার মতো সম্পদ, সুখী হওয়ার মতো রসদ— সব আছে৷ তবু শহরটা উদাসীন, চোখে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি৷ অসম্ভব লালসায় বিদঘুটে হয়ে আছে শহরের জৌলুসহীন চেহারা৷ এই শহরে হাজার মানুষের ভীড়৷ এই শহরে আমার বেমানান নীড়...
শহরের মানুষগুলো বহুকাল ধরে পরাজিত; কিন্তু তারা মানতে রাজি না৷ নিজেদেরকে জয়ী দেখাতে খুব অভিনয় করছে; আবার ভাব ধরতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে৷ বুঝা যাচ্ছে— পরাজয়ের গ্লানি পিছু ছাড়েনি৷ আহ! অভিসম্পাদ বিজয় দিয়ে কী মনোরাজ্যে শান্তি ফোটে? খ্যাতি আর সম্পদের অহংকার দিয়ে কী তেলহীন স্বতঃস্ফূৰ্ত মৰ্যাদা লাভ হয়?
উন্মুক্ত খেলার মাঠ৷ সবাই খেলোয়ার৷ একেকজন একেক খেলায় পারদৰ্শী৷ দুই দশক আগের কথা৷ শহরে এসেছিলাম আশ্রয়ের টানে৷ এই শহরে থাকতে হলে, খেলতে হবেই৷ শহরের পরিহাস শিক্ষানবিশ আমাকে খেলোয়ারে পরিণত করেছে৷ কিন্তু আমি তো খেলতে জানি না৷ কোনো একটি শুরু করে শেষ পৰ্যন্ত নিতে পারবো, আমার মাঝে এমন চৰ্চা ও শক্তির প্রচণ্ড অভাব৷ জীবন আমাকে নতুন স্টেশনে টেনে এনেছে৷ আমার কোনো প্রতিভা নেই; দক্ষ যোগ্যতা নেই; কিছু করে দেখানোর অবাক উদ্ভবনী নেই৷ আমি এসেছি ভাগ্যের আশ্রয়ে, সকালের সুখ-স্মৃতি এবং সোনালিকে ছেড়ে রাগত দুপুরের প্রেম নিতে৷ অথচ বুঝতেই পারিনি— এখানে এসে জীবন আমার কয়েক বছরের ট্রাফিক জ্যামে আটকে যাবে; স্মৃতি উদ্ভ্রান্ত আমাকে পুরাতন স্টেশনের অলিতে-গলিতে ঘুরাবে; শিশির সকালকে হারিয়ে নিদাঘ সূৰ্যের সাথে জড়াজড়ি-জোরাজোরি করতে হবে৷
উদাসীনতার পৃষ্ঠায় গল্প— অতীতের৷ হতাশার কবিতায় ছন্দ— ত্রাসের৷ ব্যথিত মনে অনুভবের লজ্জা৷ মনোবেদনায় বাজে অনুসন্ধানীর কান্না৷ ভাগ্যের বাসে চড়ে যাচ্ছিলাম অজানা গন্তব্যে৷ ভাগ্যই আমাকে বলেছে— নামতে বৰ্তমান ঠিকানাতে৷ বাস তো যাচ্ছে চলে আরো দূরে; আমাকে উঠতে হবে আরেকটি গন্তব্যের খোঁজে৷
৬ দিন ১০ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২৪ দিন ৭ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২৯ দিন ১৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৩১ দিন ১৯ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৪৭ দিন ১২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৪৭ দিন ১২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৬৫ দিন ১৪ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৯৯ দিন ১৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে