নাগেশ্বরীতে ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি: সভাপতি হারিসুল বারী রনি, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মহানবীর জীবন আদর্শ বাস্তবায়নে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব - মঈন খান দিনাজপুরে ২২৭ টন সরকারি সার আত্মসাতের অভিযোগে বিএডিসি’র স্টোরকিপার আটক মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পুনট গঠনে জয়পুরহাটের কালাইয়ে গণস্বাক্ষর ও আলোচনা সভা শেরপুরে পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ঝিনাইগাতীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ ন‌ওগাঁর নিয়ামতপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন ‎মোংলায় কোস্টগার্ডের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ‎কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কটিয়াদীতে ১২রবিউল আওয়াল উপলক্ষ্যে শানে রেসালত সম্মেলন অনুষ্ঠিত শার্শায় ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনের যৌথ আয়োজক মাভাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগ ‎ভরা মৌসুমেও চড়া দামে ইলিশ দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী , আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ এ মিলাদুননবী(সা:) উদযাপন ঝিনাইদহে বাইপাসে বাসচাপায় স্ত্রী নিহত, সেনাসদস্য স্বামী আহত রাজবাড়ীতে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামি গ্রেপ্তার লাঙ্গলবাঁধ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত নাগেশ্বরীতে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত সাংবাদিক, ওঝার কাছে গিয়েও রক্ষা নেই *কক্সবাজারের লিংক রোডে চাঞ্চল্যকর সোলাইমান ধলু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি হাছনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫* ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। ইসলামপুরে কাবিখা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি কাজ, সরকারি চাল-গম লুটপাটের অভিযোগ

গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ, আতঙ্কে পাংশার কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া গ্রামের মানুষ


রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ১০ নম্বর কসবামাজাইল ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীর তীব্র ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুম এলেই নদীতে পানির পরিমাণ ও স্রোতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর সেই স্রোতের তোড়ে ইউনিয়নের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নাদুরিয়া (কলাবাড়িয়া) এলাকায় প্রতি বছরই ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়। ফলে একের পর এক ফসলি জমি, ফুলের বাগান, বসতভিটা এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসন বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমই এলাকাবাসীর জন্য নতুন আতঙ্ক নিয়ে আসে।


ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। অনেকের আবাদযোগ্য জমি, ফুলের বাগান এবং জীবিকার প্রধান অবলম্বন নদীগর্ভে চলে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে নদীর ওপারে নতুন করে বসতি গড়ে তুলেছে। কিন্তু সেখানে নতুন করে জীবন শুরু করাও তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।


শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্মশানঘাটও। শ্মশানঘাটের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই শ্মশানঘাটটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।


এছাড়াও শ্মশানঘাটের পাশেই অবস্থিত বৌষপাড়া নামের একটি পাড়া, যেখানে প্রায় ২০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু পরিবার বসবাস করে। নদীভাঙনের কারণে তাদের বসতবাড়িও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের শব্দ আর নদীর আগ্রাসন দেখে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভাঙনরোধে কাজ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে বড় ধরনের কোনো স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু হয় না। ফলে তাদের দুর্ভোগ বছরের পর বছর একই রকম থেকে যাচ্ছে।


একজন ভুক্তভোগী বলেন, "আমাদের অনেকের বাড়িঘর, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন অন্য জায়গায় গিয়ে কষ্ট করে বসবাস করছি। প্রতি বছরই বলা হয় কাজ হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"


আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "শ্মশানঘাট এবং বৌষপাড়ার বাড়িগুলো এখন বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ বা টেকসই ভাঙনরোধের ব্যবস্থা না করলে আরও বড় ক্ষতি হবে।"


এলাকাবাসীর দাবি, গড়াই নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ, জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের বিশ্বাস, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শুধু নাদুরিয়া (কলাবাড়িয়া) এলাকাই নয়, পুরো কসবামাজাইল ইউনিয়নের হাজারো মানুষ ভাঙনের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে।


এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, আর কোনো পরিবার যেন নদীগর্ভে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয় এবং গড়াই নদীর ভাঙন থেকে এই জনপদকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag
আরও খবর