ফাঁকা নেই হোটেল-রিসোর্ট
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের সমাগম বেড়েছে পর্যটন অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার সকল হোটেল-রিসোর্টসহ প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে। ঈদের টানা ছুটিতে জেলার পাঁচ তারকা মানের হোটেল দুসাই রিসোর্ট, গ্র্যান্ড সুলতান রিসোট, থ্রি স্টার মানের প্যারাগন রিসোর্টসহ দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রির্সোটগুলোতে পর্যটকদের প্রচুর সমাগম বেড়েছে। ফলে দুইশত হোটেল-মোটেল ও কটেজে কোনো কক্ষই খালি নেই। এতে লাভবান হওয়ায় প্রত্যাশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পর্যটন স্পট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিন ঘুর দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে নারী-পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সি মানুষের ঢল নেমেছে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।
এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় চায়ের রাজ্য ও পর্যটন উপজেলা হিসেবে খ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার বধ্যভূমি৭১, এমআরখান চা বাগানের দার্জিলিং টিলা, বাইক্কা বিল, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন (সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা), বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), সাত রং এর চায়ের স্টল নীল কণ্ঠ, মণিপুরিপাড়া, চা-কন্যার ভাস্কর্য, ও কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, শমসেরনগর গল্ফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া চা বাগান লেকে। এছাড়া বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রভাত, হাকালুকি হাওর এবং মৌলভীবাজার শহরের দৃষ্টিনন্দন স্পট শান্তিবাগ ওয়াকওয়ে, মাতারকাপন সুইচ গেটসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও হোটেল-রিসোর্টে। ঈদের দিন সকাল থেকে গতকাল পর্যন্ত এসব স্পটগুলোয় পর্যটন মুখর ছিল।
আবাসন ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল ফিতরের দিন থেকেই মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটক আসতে শুরু করেন। এবার পর্যটকের ঢল নামায় জেলায় দুইশত হোটেল-মোটেল ও কটেজে কোনো কক্ষই খালি নেই। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, চা বাগানসহ পুরো জেলাজুড়ে পর্যটকের বিচরণ। যেসব পর্যটক হোটেল বুকিং ছাড়া এসেছেন রাত্রিযাপনে তারা কিছুটা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আগামী শনিবার পর্যন্ত পর্যটকদের প্রচুর সমাগম থাকবে বলেও তারা জানান।
জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ছে মৌলভীবাজারে উঁচু নিচু পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজের গালিচায় মোড়ানো বিভিন্ন চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, পদ্মছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মণিপুরী পল্লী, শমসেরনগর বিমান বন্দর, ক্যামেলিয়া লেক, শমসেরনগর গলফ মাঠ, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, বিদ্যাবিল হাজং টিলা, ডিনস্টন সিমেট্রি, নির্মাই শীববাড়ি, নিরালা পান পুঞ্জি, রাবার বাগান,ভাড়াউড়া লেক, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা কন্যা ভাস্কর্য, চা যাদুঘর, লেবু-আনারস বাগান, লালমাটি কালীটিলা, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, পাহাড়-টিলা, বধ্যভূমি একাত্তর, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, শংকর টিলা লেক, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, কালাপাহাড়; রাজনগর উপজেলায় কমলা রাণীর দীঘি, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, মনু ব্যারেজ, কাসিমপুর পাম্প হাউস, ঐতিহাসিক খোজার মসজিদ, উপজেলায় মাধককুন্ড জলপ্রপাতসহ শতাধিক মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটে।
মিসবাহ উদ্দিন নামের এক পর্যটক বলেন, ঢাকা থেকে রাতে রওয়ানা দিয়েছিলাম প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে। সকালে এসে রিসোর্টে উঠেছি। বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লাউয়াছাড়া জাতীয় উদ্যান, শমসের নগর গল্ফ মাঠ, বধ্যভূমিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরেছি। বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি।
রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা কবির জামান বলেন, শ্রীমঙ্গলে এসে অনেক ভালো লাগল। চারদিকে সবুজ চা-বাগানের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছি। বাইক্কা বিল, বিটিআরআইও বধ্যভূমি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে মন চাচ্ছে। শ্রাবণী মিশু নামের একজন পর্যটক বলেন, লাউয়াছড়া উদ্যান ও চা-বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম এখানেনে আসা। যেদিকে যাচ্ছি, ভালো লাগছে।
দর্শনার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়া কাঞ্চন ও সাদিয়া সিকদার বলেন, ঢাকা শহরের কোলাহল ছেড়ে এ রকম সুন্দর জায়গা, আসলে প্রকৃতির কাছাকাছি পাইনা রাজধানীর ঢাকায়। তাই মাঝে মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকমলঞ্জ বেড়াতে আসি।
চামুং রেস্তেরাঁর পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ঈদ উপলক্ষে স্থানীয়দের ভিড় ছিল দুই দিন। পর্যটকরাও ছিলেন। আমরা পর্যটক ও স্থানীয়দের ভালো সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি। এই ঈদের ছুটিতে ভালো বেচাকেনা হয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রচুর পর্যটক থাকতে পারেন বলে ধারণা করছি।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম আজ ঈদের চতুর্থ দিন শহরের কিছু হোটেল ছাড়া ছোট বড় সব রিসোর্টেই কোনো আসন ফাঁকা নেই। প্রচুর পর্যটক শ্রীমঙ্গলে, ঈদ উপলক্ষে আমরা ট্যুর গাইডরা প্রচুর বুকিং পেয়েছি। এরমধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সাজু আহমদ বলেন, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ঈদের দিন ২ হাজার ৫০০ জন, পরদিন মঙ্গলবার ১ হাজার ৫০০ জন এবং বুধবার ২ সহস্রাধিক পর্যটকের সমাগম ছিল।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। আগত পর্যটকদের যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য বনকর্মীদের পাশাপাশি সিপিজি'র সদস্য ট্যুরিস্ট গাইডরা দায়িত্ব পালন করছেন। গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫শত ৩৩জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫লক্ষ ১২হাজার পঁচান্নব্বই টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখছি। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ থানার পুলিশ, র্যাব সাদা পোশাকেও আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। পর্যটকেরা যেন নিরাপদেঘোরাফেরা করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারেন, আমর সেভাবেই নিরাপত্তাব্যবস্থা রেখেছি।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঈবার ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন পর্যটন স্পট, হোটেল-রিসোর্টসহ জেলাজুড়েই দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল।এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে র্যাব, সাদা পোশাকে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি আমরা।
৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৪ দিন ১২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪০ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৭ দিন ২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে