রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, মার্চে এলো ৩২৯ কোটি ডলার ক্ষেতলালে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশকে দেখার নেশায় ছুটছেন কুবির রাফি গাজায় নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষনা: তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের । লাখাইয়ে গ্রামের যুবমহল স্মার্টফোনের ছোঁয়ায় আজ ধ্বংসের প্রান্তে। গোয়ালন্দে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালন শান্তিগঞ্জে মাসব্যাপী কোরআন প্রশিক্ষণ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অতিরিক্ত যাত্রীতে যমুনায় নৌকাডুবি : ৩ দিন পর ভেসে উঠেছে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ রাজবাড়ীতে ক্রুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১ পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ২ জন উখিয়ায় জমির বিরোধের সংঘর্ষে নিহত ৩ বাঘায় বিএনপি নেতার নির্দেশে সংখ্যালঘু এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ গোয়ালন্দে সড়ক দুর্ঘটনায় বাক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু। উল্লাপাড়ায় পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে সেনাবাহিনীর অভিযান অপরিবর্তিত থাকছে ১২ কেজি এলপিজির দাম মধুপুরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত লালপুরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: তিন পরিবহনকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা শার্শায় জেলা পুলিশের আয়োজনে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত ইভ্যালির রাসেল-শামীমার ৩ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না : অর্থ উপদেষ্টা

টেকনাফে অপহরণ, মাদক ও মানব পাচার রোধে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

অপহরণ, মাদক ও মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে স্লোগানে টেকনাফ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রবিবার (৪ জুন) টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি কেএম নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুসের সঞ্চালনায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ, মাদক, মানব পাচারকারী, নাফনদীতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেওয়া ও শাহপরীর দ্বীপ করিডোর খুলে দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।


উক্ত মানববন্ধনে টেকনাফ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক এস এন কায়সার জুয়েল বলেন, মাদক, অপহরণ, মানব পাচারকারীদের হুশিয়ারী দিয়ে বলেন এসব কাজ বন্ধ করে টেকনাফের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে দিন। নাহলে তোমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে একশনে যাবো। অপহরণকারী, ডাকাতদের হাতে আজ আমরা জিম্মি। একের পর এক অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের মত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । যার কারণে আজ আমাদের নিজের কর্মস্থল ও সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাওয়া আসার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশ এলাকায় এই সব ঘটনা বেশি ঘটতেছে। প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার আহবান জানান।


বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, জেলে পরিবারগুলোর দুঃখ দুর্দশার কথা বিবেচনা করে নাফনদীতে জেলেদের মাছ শিকার করতে দেওয়ার আহ্বান জানান। শাহপরীরদ্বীপ করিডোর খুলে দেওয়ার আহবান জানানো হয়।


টেকনাফ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, মাদক, মানবপাচার, রোহিঙ্গাদের অবাধে বিচরণ, অবৈধ যানবাহন চলাচল, ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গাদের বসবাস, ভাড়া বাসার মালিকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে কাঁটাতারের ভিতর থেকে বাহিরে না আসা, রোহিঙ্গাদের পণ্যসমূহ বাজারে বিক্রি না করা, টেকনাফ পৌর শহরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র স্থানে যানবাহন বাস ও পরিবহন গাড়িসমূহ অবস্থান না করা, টেকনাফকে রোহিঙ্গাদের বসবাস মুক্তসহ উপজেলায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট হয়। সকল অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার আহ্বান জানানো হয়।


উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সহ-সভাপতি হাজী মুস্তফা আহমদ বলেন,রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে স্থানীয়রা কি পরিমাণ কষ্টৈ আছে তাদের মাথা ব‍্যাথা নেই ,অপহরণ খুন, গুম এসব তারা দেখেনা। কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি! মাদক,খুন,অপহরণ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ! এভাবে অব্যাহত থাকলে কক্সবাজার, টেকনাফের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও ভয় চলে আসবে!


উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের নির্বাহী সভাপতি আমান উল্লাহ আমান মেম্বার বলেন, অপহরণ, মানবপাচার, নারী নির্য়াতন, যৌতুক,বাল্য বিবাহ,মাদক,ইভটিজিং , চুরি-ডাকাতি,খুন-রাহাজানি ইত্যাদি সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটার আগে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আমাদের মৌলিক অধিকার।


উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন,রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা না হলে আগামীর উখিয়া-টেকনাফ তথা গোটা কক্সবাজার জেলা হবে এক লোমহর্ষক ও ভয়ংকর নগরী! রাস্ট্র চিন্তাবিদ, স্বদেশপ্রেমী জনগণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন এ ব্যাপারে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আমাদের ও আমাদের আগামী প্রজন্মের কপালে অনেক দুঃখ আছে!


উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি কেএম নুর মোহাম্মদ বলেন,টেকনাফ একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল। এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের বসবাস। তার মধ্যে আমাদের এই টেকনাফে দিনমজুর,জেলে এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে ৯০% মানুষ। সম্প্রীতি আমাদের এই টেকনাফের কিছু কিছু এলাকায় অপরাধের দৌরাত্ম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে । বিশেষ করে কিছু এলাকার স্থানীয় দুষ্টপ্রকৃতি লোকের যোগসাজশে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ডাকাতদের কারণে এলাকার শান্তিপ্রিয় সাধারণ জনগণ আজ অসহায়। সত্যিকার অর্থে, অপহরনকারী ও ডাকাতদের হাতে আজ আমরা জিম্মি। একের পর একের অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের মত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । যার কারণে আজ আমাদের নিজের কর্মস্থল ও সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাওয়া আসার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশ এলাকায় এই সব ঘটনা বেশি ঘটতেছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর। কিন্তু, আমি লক্ষ্য করছি সঠিক সংবাদ না পেয়ে মাঝে মধ্যে দূর্গম পাড়ি দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও বেগ পেতে হচ্ছে।


এসময় উপস্থিত ছিলেন, টেলনাফ উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুল হক (সাকি) সহ-সভাপতি আবুল কাসেম,ওমন ফারুক রিয়াদ,বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি টেকনাফ পৌর শাখার সভাপতি হাজী আব্দুল গনি,বাহারছড়া ইউনিয়ন মানবাধিকার নেতা আবদুল গফফার , মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ ইউনুস, নুরুল কবির, সহ-প্রচার সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজ, মোঃ আদিল, আরকান ছিদ্দিকী, আজিজুর রহমান, ইলিয়াছ, সাংবাদিক মো. ইউনুস অভি, সাংবাদিক সোহেল চৌধুরী, আব্দুর রহমান ইবনে আমিন, নোমান হাসেমী,মাস্টার আবদুল মাবুদ, আনোয়ারসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র শ্রমিক, কৃষক,জেলে উক্ত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

Tag