টেকনাফের সাধারণ মানুষের মাঝে অপহরণ আতঙ্ক ইউনিয়নের একাংশ। বিরাজ করছে। যেকোন সময়ে অপহরণকারীদের কবলে পড়তে পারে এমন ভয়ে অনেকে নিয়মিত ঘর থেকে বেরুচ্ছেনা। রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সনন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব অপহরণ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তাদের সাথে স্থানীয় একটি চক্রের সংযোগ রয়েছে। মুক্তিপন না পাওয়া গেলে অপহৃতদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছেনা। অপহরণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বাহারছড়া ও সদর ইউনিয়নের একাংশ।
টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, বেশির ভাগ অপহরণের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ করা হয়না। যেসব ঘটনায় অভিযোগ করা হয়, আমরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে। কয়েকটি অপহরণের ঘটনায় পুলিশের অভিযানে অপহরণকারীরা উপায়ান্তর না দেখে অপহৃতদের রেখে পালিয়ে গেছে। এসব ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপহরণকারীদের মূল আস্তানা পাহাড়ে। এসব পাহাড়ের নিয়ন্ত্রন অনেকটা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে তাদের আস্তানা থেকে পরিচালনা করছে এসব অপহরণ কর্মকাণ্ড। এক্ষেত্রে তারা নিজেদের টার্গেট করা ব্যক্তি বা অন্য যে কাউকে সুযোগ পেলে অস্ত্র ধরে পাহাড়ের গহীনে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে ছেড়ে দেয়, না দিলে অপহৃত ব্যক্তিকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়, মুক্তিপণ দিতে না পেরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যমতে, গত ৮ মাসে ৭০ জনকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। তবে এর বাইরেও আরো অপহরণের ঘটনা ঘটেছে যেগুলো অপহরণকারীদের সঙ্গে দেনদরবার করে গোপনে ছাড়িয়ে নিয়েছে পরিবার।
গত শুক্রবার (২ জুন) দিবাগত রাতে টেকনাফের ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচজনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে তাদের পরিবারের কাছে ২০ লাখা টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃতদের একজনের হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ছেড়ে দেয়। পরে আলীখালী নামক এলাকার পাহাড়ের পাশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। একজনের হাত কেটে অপহরণকারীরা অপর চারজনের পরিবারে এক ধরনের হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে।
গত রবিবার বিকালে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার মো. হোসাইন নামে আট বছরের এক শিশু নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে দিনভর খোঁজখবর না পেয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু নিখোঁজের খবরটি প্রচার করা হয়। পরে ওইদিন রাতে শিশুর বাবা সোলতান আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে তা ৩০ লাখ নির্ধারণ করে দেয় অপহরণকারীরা।
অপহৃত শিশু মো. হোসাইনের বাবা সোলতান আহমদ বলেন, আমার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
রবিবার স্কুলে গিয়ে ছুটির পর আর বাড়ি ফিরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি আমার ছেলেকে অপহরণকরা হয়েছে। তারা (অপহরণকারীরা) আমার ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে সবশেষ ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছে। আমি এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছি।
২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৩ দিন ৪ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১৪ দিন ৬ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৩৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৪৭ দিন ৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৭৩ দিন ৯ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৯১ দিন ১০ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৯১ দিন ১০ ঘন্টা ১ মিনিট আগে