কুলিয়ারচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট, আহত-২ মিরসরাইয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা শ্রীমঙ্গলে 'আশ শিফা হিজামা-পলিপাস এন্ড অর্গানিক শপ'-এর শুভ উদ্বোধন অভয়নগরে ফাতেমা হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালের ওটি সিলগালা কুলিয়ারচরে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন আশাশুনির কাদাকাটিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত অন্য ডায়াগনস্টিকের রিপোর্ট আনায় হৃদরোগীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব যশোরের দ্বৈ-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি টুকুন, সম্পাদক নূর ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে শেরপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযান মাদক রুখতে ৭৫ প্রতিষ্ঠান-সংগঠনে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ যশোরের অভয়নগরে গণধোলাইয়ের পর গাঁজাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার, পিকআপ জব্দ অক্টোবর থেকে নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন প্রধানমন্ত্রী নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে জেলা সিভিল সার্জন নোয়াখালীতে শাহ্ সিমেন্টের উদ্যোগে ‘সেরা কারিগর’ রাজমিস্ত্রীদের নিয়ে প্রোগ্রাম সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা: কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন নেতা-কর্মীরা নাব্য সংকটে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রী ও চালকরা জাতীয় যুব শক্তি কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে সাস্ট শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আত্মার শান্তি কামনায় সিরাজগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রার্থনা শাবিপ্রবির PME বিভাগে ‘এনার্জি ডায়ালগ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত পানিবন্দী ১২ হাজার পরিবার



কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদী পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতি অপিরিবর্তিত রয়েছে। 


জেলার ৯ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১২ হাজার পরিবার। এতে করে ভোগান্তি বেড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় নতুন জেগে উঠা চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি ৫ দিনে ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা। অনেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে নৌকা ও উঁচু স্থানে অবস্থান করলেও পড়েছেন শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার পূর্ব বালাডোবা, কালির আলগা, মুসারচর ও সদরের পোড়ার চরসহ ১০টি চরে বসবাসকারী দুই শতাধিক পরিবার ঘর বাড়ি ছেড়ে নৌকা ও উঁচু জায়গায় অবস্থান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এই পরিবারগুলোর ঘর বাড়ি তলিয়ে থাকায় ঠিকমতো রান্না করতে পারছেন না তারা। পাশাপাশি পরিবারগুলোর হাতে কোন কাজ না থাকায় শুকনো খাবার এবং নলকুপ তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন তারা।


এদিকে নদ-নদীর অববাহিকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার প্রায় ১শ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 


চরাঞ্চলগুলোর চারনভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশুর খাদ্য নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা।


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীতে পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 


পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া দুপুর ১২টায় দেয়া তথ্যমতে জেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম সদরের ধরলার সেতু পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৫৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৮৯ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের পুর্ববালাডোবার চরের আব্দুর রহমান জানান এই চরে ৪৭ টি পরিবারের বসবাস। চরটি নতুন এবং নিচু হওয়ায় এখানকার বেশির ভাগ ঘর বাড়িতে কোমর সমান পানি উঠেছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গা ও নৌকায় বসবাস করছেন। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় ঠিকমত পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকমত রান্না করতে না পারায় অনেককে একবেলা খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে।



সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ার মমিন জানান, পানি হ্রাস পেলেও এখনো বাড়ির চারিদিকে পানি। আবার পানি বৃদ্ধি পায় কিনা তা চিন্তায় আছি। পটলসহ সব সবজি ক্ষেত পানি নিচে। এবারের বন্যায় খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। যদি আর বৃষ্টিপাত না হয় তবে খুব দ্রুতই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। 


কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকল প্রকার প্রস্তুতি নেয়া আছে। নগদ অর্থ শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। যেখানে যখন প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রান বিতরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।