প্রবল স্রোত ও পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকেরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার পর ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেক যাত্রীকে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তে মোট সাতটি ফেরিঘাট রয়েছে। নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে এর মধ্যে চারটি ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ফলে সচল ছিল ৩, ৪ ও ৭ নম্বর—এই তিনটি ঘাট। তবে শুক্রবার ভোর থেকে নাব্য সংকটের কারণে ৭ নম্বর ঘাটেও ফেরি ভিড়তে না পারায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করছে।
ঘাট-সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা নদীতে বর্তমানে প্রবল স্রোত রয়েছে। এতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৌলতদিয়ার ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট নদীর উজানে হওয়ায় বড় ফেরিগুলো সেখানে ভেড়াতেও সময় লাগছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটি ফেরির নদী পার হতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়ছে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০টি ফেরি চলাচল করছে। তবে প্রবল স্রোত ও ঘাটসংকটের কারণে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক ট্রিপ ব্যাহত হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রবল স্রোতের কারণে ৭ নম্বর ঘাটের সোজাসুজি অবস্থিত গত বছরের নৌ-চ্যানেলে প্রচুর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ওই ঘাটে কোনো ফেরি ভিড়তে পারছে না। ফেরি ভিড়তে গেলে ডুবোচরে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষার শেষ দিকে আমাদের এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নাব্য সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তাদের ড্রেজিং বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে কবে নাগাদ ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।”
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘাট-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নাব্য সংকট দূর করে ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি চালু করা না গেলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে আসন্ন সময়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে