গাজীপুরে তাকওয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে গতকাল শুক্রবার দিবাগত শেষ রাতের দিকে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়াবাইপাস এলাকা থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে শ্রীপুর দিকে রওনা হয়। বাসের বেশিরভাগ যাত্রী গাজীপুর চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা নেমে যায়। গাজীপুর সদর উপজেলা হোতাপাড়া এলাকায় এসে ওই নারীর স্বামীকে বাস থেকে জোর নামিয়ে দেয় বাসে থাকা কয়েকজন। উপজেলার এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার ও জৈন বাজার এলাকার মহাসড়ক ঘুরে দীর্ঘ সময় পাঁচজন মিলে নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর জৈনা বাজার ইউটান ঘুরে ওই নারীকে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নির্জন জঙ্গলে ফেলে দেয়। পরে ওই নারীর স্বামী প্রথমে জয়দেবপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নওগাঁ থেকে এক নারী স্বামীর সঙ্গে বাসে করে এসে রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসে নামেন। পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে মাওনা যাওয়ার উদ্দেশে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি গাজীপুর শহর অতিক্রম করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় পৌঁছালে বাসের চালক হেলপার এবং অন্যরা মিলে নারীর স্বামীকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়।
‘এরপর চলন্ত বাসে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ এবং নগদ টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ধর্ষণের পর মাওনা থেকে গাজীপুরের দিকে আসার পথে হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্জন স্থানে ওই নারীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নারীর স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘এ ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে জেলা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।’
ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম ঠিকানা জানাতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় শ্রীপুর থানায় মামলা (নম্বর ১২) হয়েছে। সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। লুট করা সব মালামল উদ্ধার হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল রোববার বিস্তারিত বলা যাবে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাসে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। সিরাজগঞ্জ এলাকা থেকে যাত্রীবেশে ওঠে ডাকাতদল। ডাকাতরা যাত্রীদের হাত, মুখ, চোখ বেঁধে তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে এক নারী যাত্রীকে পালাক্রমে ছয়জনে ধর্ষণ করে। বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় গতি কমিয়ে নেমে অন্য একটি পরিবহনে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা। রক্তিপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দেড় শ গজ উত্তরে চলন্ত বাসটি মসজিদের পশ্চিম পাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এলাকাবাসী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার গ্রেপ্তার ৩ জন আজ শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে
৬ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে