রংপুরের পীরগাছায় হিজবুত তাওহিদ কর্তৃক ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড বন্ধ করাসহ গ্রামবাসির উপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের দেউতি বাজারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এসময় চার দফা দাবি উত্থাপন করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। এক. হিজবুত তওহিদ সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ, দুই. হিজবুত তওহিদ সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক সাধারণ মুসল্লিদের উপর করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তিন. অবিলম্বে সন্ত্রাসী সংগঠনের আসামিদের গ্রেফতার, চার. আগামি ৭২ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার ও মামলা প্রত্যাহার না করলে মাসব্যাপী কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি সালেহ আহমেদ মুহিত, মহানগর নেতা মাওলানা মাসুদুর রহমান, হেফাজতে ইসলামি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আব্দুর রহমান ও হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা, দেউতি জামে মসজিদের খতিব নুরুল আজম নওশাদ, পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ আলী খান, ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, গণঅধিকার পরিষদ নেতা খাইরুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীমসহ অনেকে। এসময় জিয়াউর রহমান নামে হিজবুত তাওহিদ সংগঠনের এক সমর্থক দল থেকে স্বেচ্ছায় সরে আসার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমান মাইকে বলেন, আমি ভুলবশত হিজবুত তাওহিদ সংগঠনের সমর্থক হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কর্মকান্ড দেখে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি তওবা করলাম। আমাকে মাফ করে দেন।
এঘটনায় সাধারণ জনতার পক্ষে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০০ জন অজ্ঞাত নামীয় আসামি করে পীরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে হিজবুত তাওহিদ নেতা আব্দুল কুদ্দুছ শামীম বাদী হয়ে ২৭ জনকে এজাহার নামীয় আসামীসহ ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পীরগাছা থানা ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, হিজবুত তাওহিদের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষই মামলা করেছে। উভয়ের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে হিজবুত তাওহিদের সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।