যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে কর্মচারী নিয়োগে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে চার পদে (গ্রন্থাগার সহকারী, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং নৈশ প্রহরী) নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসে।
ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা জানান,প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার পোদ্দার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযোগ হলো:নৈশ প্রহরী পদে চাকরি প্রত্যাশী শাকিল হোসেন অভিযোগ করেছেন যে,তিনি প্রধান শিক্ষককে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। চাকরি না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে প্রধান শিক্ষক অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় শাকিল বাধ্য হয়ে উজ্জল কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন।বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক বাচ্চু রহমান খানের পুত্র সুমন খান অফিস সহকারী পদে নিয়োগের জন্য প্রধান শিক্ষককে ১ লক্ষ টাকা দেন।সুমন অভিযোগ করেন, নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য প্রধান শিক্ষক তাকে আরও ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।রত্না খাতুন নামক আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, তার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই টাকা প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার পোদ্দার, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম রেজা এবং অফিস সহকারী ইকবাল খান সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার পোদ্দার রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি রঞ্জিত কুমার রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করে আসছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, তার দাপটের কারণেই এই অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ নিয়োগের চেষ্টা২০২৫ সালের ৫ই আগস্ট সারাদেশে যখন নতুন নিয়োগ কার্যক্রম সরকারিভাবে স্থগিত করা হয়, তখন প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি যোগসাজশে 'ব্যাক ডেট'-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। এই গোপন তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এই অর্থ লেনদেন ও অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শাকিল ও সুমন খান বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা এখন স্থানীয় এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি উঠেছে।
২ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে