বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে নানা অব্যবস্থাপনায় চলছে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০২২ ও ২০২৩ এর কার্যক্রম। কিছুই হচ্ছে না নিয়ম মাফিক। জাতীয় শিশু একাডেমির নির্দেশনার বেশিরভাগই হচ্ছে উপেক্ষিত। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায় চাপাচ্ছেন পরস্পরের ওপর।
'শিশুরা থাকুক হাসিতে, শিশুরা থাকুক খুশিতে- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে সোনার বাংলা বিনির্মানে তৃণমূল থেকে শিশু প্রতিভা অন্বেষণের উদ্দেশ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতি বছর দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের জন্য এটি সর্ববৃহৎ প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতা হতে বিজয়ী শিশুরা জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। অথচ মোরেলগঞ্জ উপজেলায় দায়সারা মানসিকতা নিয়ে চলছে এর কার্যক্রম। উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়হীনতা, দায়িত্ব পালনে অনীহা ও অব্যবস্থাপনায় সরকারের শিশু প্রতিভা অন্বেষণের এ বৃহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে চলেছে বলে অনেকের অভিমত।
অভিভাবক সহ বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মধ্যে দেখা গেছে তীব্র ক্ষোভ। সময়মতো চিঠি ইস্যু না করা, পর্যাপ্ত প্রতিযোগি অংশগ্রহণ না করা, কিছু কিছু প্রতিযোগিতার বিষয় বাদ দেওয়া, একই দিনে একই সময়ে দুই ভেন্যুতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সহ নানা অব্যবস্থাপনা অনিয়মে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা।
মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৪শ', মাধ্যমিক পর্যায়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও সর্বক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতিযোগী সংকট।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয় না করার কারণে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানিয়েছেন।
গতকাল সেমবার (১০ জুলাই) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলনা কোন ব্যানার। রাস্তার পাশে ছোট একটি বালু ভরাট জায়গায় হয়ে গেল ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন ইভেন্টের প্রতিযোগিতা। সাঁতার প্রতিযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতিতে স্কুলের ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাঁতার কাটতে দেখা গেছে প্রতিযোগিদের। স্বল্প সংখ্যক প্রতিযোগির মধ্যে সেখানে একই স্কুলের তিনজনকে দেখা গেছে। অথচ সেখানে দেখা যায়নি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ আব্দুল মালেক, ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন কৃষ্ণ দাসকে। এমনকি দেখা যায়নি উপজেলা পরিষদের কাউকেই। উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি। উপজেলা শিক্ষক নেতৃবৃন্দও এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সদস্য সচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে কিছু সময় মাঠে দেখা গেলেও সেখানে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে তড়িঘড়ি করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।