জেলা শহর থেকে ২৫ কি.মি. আর উপজেলা সদর থেকে ২০ কি.মি. দূরে প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করেও ভিন্ন শিখন কৌশল প্রয়োগ আর শিক্ষকদের সদিচ্ছায় শুধু উপজেলায় নয় জেলায়ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে প্রাথমিক পর্যায়ের এ বিদ্যালয়টি।
বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, চিত্র, দেয়াল লিখন, ইত্যাদি দিয়ে শিক্ষার্থীদের খুব সহজেই পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি মনমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে শিশুদের মনোজগতে শেখার আগ্রহ বা কৌতুহল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে এ স্কুলটি। পুরো স্কুলটিই যেন এক বিশেষ লাইব্রেরির প্রতিচ্ছবি। স্কুলের প্রতি পরতে পরতে শিক্ষা।
বাড়ি গিয়ে নয় আনন্দ আয়োজনে পড়ালেখা চলছে শ্রেণি কক্ষেই। উপস্থিতিসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি জেলার এক আদর্শ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে।
ব্যতিক্রমী এই বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৮ সাল পর্যন্ত খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল। এই বিদ্যালয়ের অবস্থা ছিল শোচনীয়। ফলাফল বিপর্যয়ের ফলে কয়েক বছর আটকে থাকে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি। ২০০৯ সালে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে নিজ মেধা, সৃজনশীলতা, আর নেতৃত্ব দিয়ে এমন উচ্চতায় নিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সরকারের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় বদলে গেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, ফলাফল আর নিয়ম-নীতি।
শিক্ষার্থীদের জন্য নেয়া বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য রোল মডেল হয়ে ওঠা পুরো বিদ্যালয়টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ বিদ্যালয়ে শিশুদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে দোলনা, সরাৎ, ঢেকিকল, প্রাণী জাদুঘর, ফুলের বাগান, দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা, সবজি বাগান সহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী। রয়েছে বিদ্যালয়ের নাম অংকিত পাথরের ফলক, শহীদ মিনার, বিভিন্ন মানচিত্র, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, কার্যকর মহানুভবতার দেয়াল। সমস্ত বিদ্যালয় জুড়ে বিভিন্ন মনীষীদের ছবি আর দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে শিক্ষানীয় বিভিন্ন বাণী। আছে শেখ রাসেল স্মৃতি কম্পিউটার ডিজিটাল ল্যাব, শেখ রাসেল কর্ণার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার।