চিলাহাটিতে ধর্ষকের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শাজাহানপুর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৮ মণ পলিথিন জব্দ !!! চৌদ্দগ্রাম হোটেল টাইম স্কয়ার এবং হোটেল তাজমহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান. কাঠের জীপ গাড়ি তৈরি করে তাক লাগিয়েছন অভয়নগরের আসলাম হোসেন ডোমারে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার-১ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ শ্যামনগরে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সভা ইসলামপুরে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ইউএনওর অ্যাকশন নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদীতে গোসল করতে গিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ রাজবাড়ীতে ৭৫ পুড়িয়া হেরোইন সহ মাদকারবারি গ্রেফতার। রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, মার্চে এলো ৩২৯ কোটি ডলার ক্ষেতলালে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশকে দেখার নেশায় ছুটছেন কুবির রাফি গাজায় নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষনা: তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের । লাখাইয়ে গ্রামের যুবমহল স্মার্টফোনের ছোঁয়ায় আজ ধ্বংসের প্রান্তে। গোয়ালন্দে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালন শান্তিগঞ্জে মাসব্যাপী কোরআন প্রশিক্ষণ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অতিরিক্ত যাত্রীতে যমুনায় নৌকাডুবি : ৩ দিন পর ভেসে উঠেছে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ রাজবাড়ীতে ক্রুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১ পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ২ জন

মোরেলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার রোল মডেল প্রত্যন্ত এলাকার জিলবুনিয়া কামলা বিদ্যালয়


' ইংরেজিতে একটি কথা আছে Reading for Pleasure অর্থাৎ আনন্দের জন্য  পড়া।'
শুধু গাদা গাদা পাঠ্যবই  মুখস্ত করার চাপ না দিয়ে আনন্দ নিয়ে পড়া এমন ভিন্ন শিখন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাগেরহাটের  মোরেলগঞ্জ  উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার  একটি স্কুল জিলবুনিয়া কামলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা শহর থেকে ২৫ কি.মি. আর উপজেলা  সদর থেকে ২০ কি.মি. দূরে প্রত্যন্ত  গ্রামে অবস্থান  করেও ভিন্ন শিখন কৌশল প্রয়োগ আর শিক্ষকদের সদিচ্ছায় শুধু উপজেলায় নয় জেলায়ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে প্রাথমিক পর্যায়ের এ বিদ্যালয়টি।

  বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, চিত্র, দেয়াল লিখন,  ইত্যাদি  দিয়ে শিক্ষার্থীদের খুব সহজেই পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি মনমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি  করে শিশুদের মনোজগতে শেখার আগ্রহ  বা কৌতুহল  সৃষ্টি  করতে সক্ষম হয়েছে এ স্কুলটি।   পুরো স্কুলটিই যেন এক বিশেষ লাইব্রেরির প্রতিচ্ছবি। স্কুলের প্রতি পরতে পরতে শিক্ষা।  

 বাড়ি গিয়ে নয় আনন্দ আয়োজনে পড়ালেখা চলছে শ্রেণি কক্ষেই।  উপস্থিতিসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।  প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি জেলার এক আদর্শ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। 
ব্যতিক্রমী এই বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৮ সাল পর্যন্ত খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল।  এই বিদ্যালয়ের অবস্থা ছিল শোচনীয়।  ফলাফল  বিপর্যয়ের ফলে কয়েক বছর আটকে থাকে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি। ২০০৯ সালে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে নিজ মেধা, সৃজনশীলতা, আর নেতৃত্ব  দিয়ে এমন উচ্চতায় নিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা,  সরকারের পাশাপাশি  স্থানীয়দের সহযোগিতায় বদলে গেছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, ফলাফল আর নিয়ম-নীতি।
 শিক্ষার্থীদের জন্য নেয়া বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য রোল মডেল হয়ে ওঠা পুরো বিদ্যালয়টি  সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।  এ বিদ্যালয়ে শিশুদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে দোলনা, সরাৎ, ঢেকিকল, প্রাণী জাদুঘর, ফুলের বাগান, দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা,  সবজি বাগান সহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী। রয়েছে বিদ্যালয়ের নাম অংকিত পাথরের ফলক, শহীদ মিনার, বিভিন্ন মানচিত্র, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, কার্যকর  মহানুভবতার দেয়াল।  সমস্ত বিদ্যালয় জুড়ে বিভিন্ন মনীষীদের ছবি আর দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে শিক্ষানীয় বিভিন্ন বাণী। আছে শেখ রাসেল স্মৃতি কম্পিউটার ডিজিটাল ল্যাব, শেখ রাসেল কর্ণার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার। 
বিদ্যালয়ের ছাদে আকর্ষণীয় বৃক্ষের সমাহার। আছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের একুইরিয়াম। শিক্ষার্থীরা  প্রতিদিনই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখে তাদের ক্যাম্পাস ও বাগান।

 জাতীয় সংগীত ও শপথ বাক্যের পর 'প্রতিদিন কিছু শিখি' নামক বোর্ডের কাছে চলে যাবে শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেক শিক্ষার্থী বাক্যটি পড়ে শ্রেণিকক্ষে যাবে। শ্রেণি কক্ষের সামনে রয়েছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের ছবি সহ নাম, পিতা-মাতার নাম ও মোবাইল নম্বর। কেউ অনুপস্থিত থাকলে শ্রেণী শিক্ষকের ফোন কল চলে যাবে অভিভাবকের কাছে। সবকিছুই চেয়ারে বসে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উপকরণে মাধ্যমে উজ্জীবিত করে শেখানো হয় এখানে। শিশু শ্রেণি শিক্ষার্থীদের বিনোদনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপকরণ আর খেলনা সামগ্রী দিয়ে আনন্দ দান করে শেখানো হয়। শিক্ষার্থী  জান্নাতী জানায়, এখানে পড়ালেখার  পাশাপাশি অনেক খেলার সামগ্রী  আছে। তাছাড়া শিক্ষকরা অনেক আদর করে ' মা' বলে ডেকে লেখাপড়া করান।
স্কুলটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।  সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হুমায়রা জানায়, এ স্কুলে যত্ন করে পড়াশোনা করানো হয়, আদর করে মা'  'বাবা' বলে  শিক্ষার্থীদের  ডেকে থাকেন শিক্ষকেরা। ওই শিক্ষার্থী আরও জানায় স্কুলটি যে কত ভালো লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।'
স্কুলের নীতিবাক্য গুলো দেখে শিক্ষার্থীদের  মনোজগতে একটি ভালো মানসিকতা তৈরী হচ্ছে  বলে জানান জনৈক অভিভাবক। 
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানায়, সে আগে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো।  গ্রামে এনে এক স্কুলে তাকে ভর্তি করা হবে- এমন কথা শুনে তার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল।  সে ভাবছিল  শহরের পরিবেশ আর গ্রামের লেখাপড়া এক হবে। কিন্তু  এ বিদ্যালয়ে এসে তার ধারণা পাল্টে  যায়।
সহকারী  শিক্ষক  উম্মে কুলসুম জানান, আমি এর আগে বিভিন্ন  বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। কিন্তু এ বিদ্যালয়ের মতো এমন সুন্দর  পরিবেশ দেখিনি। স্কুলের বাহ্যিক পরিবেশ,  শিক্ষা উপকরণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে  মনিরুল ইসলাম স্যারের নেতৃত্ব-কৌশল ব্যতিক্রম। অভিভাবক, তানিয়া খাতুন জানান, এটি শুধু একটি স্কুলই নয় এটাকে শিশুপার্ক  এবং বিভিন্ন  যাদুঘর  মনে হয়। আমার ছেলে বন্ধের দিনগুলোতেও স্কুলে আসতে চায়।

স্থানীয়  ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল  আলীম হাওলাদার তার এলাকায় এমন একটি স্কুল থাকার কারণে উচ্ছ্বসিত  প্রসংসা ও গর্বিত বোধ করেন। পাশাপাশি  সাধ্যমত পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি। 
প্রধান শিক্ষক  মো. মনিরুল ইসলাম  বলেন, দায়বদ্ধতার  জায়গা থেকে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত  করে ব্যতিক্রম  কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছে।  শিশুদেরকে নিজ সন্তানের মতো শিক্ষা দেওয়া হয়। ভালো কিছু করলে এলাকাবাসী অবশ্যই সাহায্য  করে থাকেন।
বাগেরহাট  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মু. শাহ আলম জানান, সদিচ্ছা থাকলে একজন প্রধান শিক্ষক একটা এলাকার পরিবর্তন  আনতে পারেন। এটি জেলায় এখন প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের  এক রোল মডেল অর্থাৎ  অনুকরণীয় হয়ে  দাঁড়িয়েছে।' এমন পরিবেশ  সব বিদ্যালয়ে  নিশ্চিত  করা গেলে পাল্টে  যাবে শিক্ষার  পরিবেশ। ছোটবেলায় শিশুরা নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করে বড় হয়ে তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক  হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা  সংশ্লিষ্টদের।
Tag
আরও খবর