নোয়াখালী জেলার মাইজদীতে নির্ধারিত স্থানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ না করে অন্য স্থানে করার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর ) এ ঘটনায় জেলা শহরে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ সরেজমিনে এ প্রতিবেদকের নিকট জানান যে, এর প্রতিকার চেয়ে এবং নির্ধারিত স্থানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় নোয়াখালী পৌরবাসীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরউদ্দিন মো. জাহাঙ্গীরের লিখিত আবেদনে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ নোয়াখালী কার্যালয় জেলা শহর মাইজদীর সবচেয়ে জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা। নোয়াখালীর সোনাপুর-চৌমুহনী চৌরাস্তা ও কুমিল্লা সড়কের নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে ইসলামিয়া সড়কে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এ ব্রীজের ওপর দিয়ে নোয়াখালী জিলা স্কুল, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, প্রভাতী স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের আইনজীবী বিচারপ্রত্যাশী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে যাতায়াতকারীরা তা ব্যবহার করে নিরাপদে সড়ক পারাপার হতে পারবেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক বড় মসজিদ ইসলামিয়া সড়কের মুখে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ না করে বড় মসজিদ মোড় থেকে দক্ষিণে পৌরবাজারসংলগ্ন শিক্ষা প্রকৌশল ভবনের সামনে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে। এই কাজে সওজের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঠিকাদারের সুবিধামতো জায়গায় ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বড় মসজিদের মোড়ে ইসলামিয়া সড়কের মুখে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হলে মাইজদী কোর্ট, রেলস্টেশনের যাত্রী, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের লোকজন, হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রি কলেজ, আল ফারুক একাডেমী, নোয়াখালী পাবলিক কলেজ, মাইজদী বাখরাবাদ গ্যাস লিমিটেড, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ও হাউজিং সোসাইটি এলাকার লোকজন তা ব্যবহার করে নিরাপদে সড়ক পার হতে পারবেন। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় যদি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা না হয়, তা হলে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ওই সেতু কোনো কাজে আসবে না। তাই ফুটওভার ব্রীজটি বড় মসজিদ ইসলামিয়া সড়কের মুখেই নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রহিম বলেন, নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে চর্তুমুখী মোড়ে একটি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্থানীয়দের। এখানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ হলে হাজার হাজার পথচারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়ক পারাপার হতে পারবেন। কিন্তু চুর্তমুখী সড়কের দক্ষিণে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হলে তা মানুষের কোনো কাজে আসবে না।
নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, যেখানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করলে পৌরবাসী উপকৃত হবেন, সেখানেই ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করাতে হবে। এ বিষয় নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্যাহ বলেন, ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ নিয়ে লিখিত ও টেলিফোনে অনেক অভিযোগ, আপত্তি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের রোডর্স সেফটি শাখায় চিঠি লেখা হয়েছে। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিন পরিদর্শন করে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত দেবেন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ নিয়ে লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এটি নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হবে।
১২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৩ দিন ১ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৩ দিন ১১ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৩ দিন ১৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৪ দিন ২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৪ দিন ৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৪ দিন ৫ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে