বাঁশখালীর সংরক্ষিত বানঞ্চল চাম্বল ইউনিয়নের বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য জঙ্গল পূর্ব চাম্বলে পাহাড়ের দুইল্ল্যা ঝিরি নামক স্থানে ৪০ ফুট উচু পাহাড় থেকে পড়ে একটি মাদি হাতির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ আছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে বাগান করা বাগান মালিকের লোকজনের ধাওয়া খেয়ে শুক্রবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় হাতির দল দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। এসময় ৩টি হাতির দল থেকে মাদি হাতিটি দলছুট হয়ে পাহাড়ের খাদে পড়ে মারা গেছে। শনিবার ( ৮ জুলাই) দুপুরে বনবিভাগ ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটি মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, পূর্ব চাম্বলের দুইল্ল্যাঝিরি নামক স্থানে হাতি মারা যাওয়া পাহাড়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ওই সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে বাগান করেছে বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের মৃত মো. ফরিদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীল আলম। ওই পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মৃত বদি আলমের ছেলে মাহাবুব হোসেন ও আলী হোসেনকে। এই দুইভাই পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে বিশাল মাটির ঘরও তৈরী করে আছে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। দুইল্ল্যাঝিরি পাহাড়ের শিরোভাগে উঠে দেখা যায় প্রায় দুইশত হাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গাছ হাতি উপরে ফেলেছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হাতি মল ত্যাগের দৃশ্যও দৃশ্যমান রয়েছে। যাতে সহজেই বুঝা যায় এটা হাতির বিচরণক্ষেত্র। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা জানান, এখানে গড়ে ওঠা শতাধিক বাড়ি-ঘর সবগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা। দখল করে নিজেদের বাড়িঘরের মতো আছে। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ দখলদাররা সংরক্ষিত বনেই ফলজ-বনজ বৃক্ষ রোপণ করেছে এবং সবজি ক্ষেত্র করেছে। দিনরাত হাতি তাড়াতেই পালাক্রমে চাষীরা পাহারা বসায়। হাতি দেখলেই দলবদ্ধ কৃষকরা হাতি তাড়াতে ব্যস্ত থাকে। মূলত মারা যাওয়া হাতিটি স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে সুউচ্চ পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেছে।
বাঁশখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, মৃত মাদী হাতিটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি পাহাড় থেকে পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছে। হাতিটির বয়স আনুমানিক দেড় বছর প্লাস হবে।
জলদী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান শেখ বলেন, হাতি মারা যাবার ঘটনাটি থানায় জিডি করেছি। বাঁশখালীর অন্ততঃ ৪০টি স্পটে হাতি বিচরণ করছে প্রতিনিয়ত। সবই লোকালয়। মানুষ পাহাড় দখল করেই অবৈধভাবে লোকালয় স্থাপন করেছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র হাতিকে ফিরিয়ে দিতে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। লোকবল সংকটে বনবিভাগ অসহায়
৬১ দিন ৮ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৭৫ দিন ৫ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৭৬ দিন ৯ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
১৪২ দিন ৮ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
১৫৭ দিন ৬ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১৮১ দিন ৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৮২ দিন ১১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
২১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে