রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে নিকটবর্তী শহর সাভার। এই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে হকার্সরা ব্যবসা করছে চলেছে। আর এই হকার্সদের কে পুজি করে গড়ে উঠেছে ৩টি হকার্স সংগঠন। এ সংগঠনের নেতারা সাভার বাজার বাস্ট্যান্ডের পূর্ব এবং পশ্চিম পাশ ভাগ করে বেপরোয়া চাঁদাবাজী করে চলেছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ডের উভয়পাশে ৬ শতাধিক এর বেশি ভাসমান দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে সংগঠনগুলো।
সাভারে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ৩টি হকার্স সংগঠন হলো বাংলাদেশ হকার্স লীগ-এর সাভার উপজেলা ও পৌরসভা শাখা, আওয়ামী হকার্স লীগ এবং ছিন্নমূল হকার্সলীগ। এরমধ্যে বাংলাদেশ হকার্সলীগ সাভার উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মহাসড়কের পূর্বপাশ এবং আওয়ামী হকার্সলীগ ও ছিন্নমূল হকার্সলীগের দখলে রয়েছে পশ্চিমপাশ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ ৩টি সংগঠনের সাভার উপজেলা ও পৌর কমিটি নাম করা হলেও তাদের কার্যক্রম শুধু সাভার বাস্ট্যান্ডে। এর বাহিরে তাদের কোন কার্যক্রম নেই। এ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২-৪ জন নেতা চাঁদাবাজীর মাধ্যমে অর্জিত টাকা থেকে মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এ টাকা থেকে কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে ব্যয় করা হয়।
এ ৩টি সংগঠনের মধ্যে আওয়ামী হকার্সলীগ ও ছিন্নমূল হকার্সলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। তবে বাংলাদেশ হকার্স লীগ সাভার উপজেলা ও পৌরসভা শাখার সম্মেলন হয়েছে গত ২৪ জানুয়ারি। যদিও তার ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কমিটির পদ প্রত্যাশিরা।
হকার্স সংগঠন তিনটির দায়িত্বে রয়েছেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পূর্বপাশ বাংলাদেশ হকার্স লীগ সাভার উপজেলা শাখার সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মোল্লা, পৌর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও কামাল হোসেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে আওয়ামী হকার্সলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক লিটন খাঁন এবং ছিন্নমূল হকার্সলীগ সভাপতি শফিউল ইসলাম ও হানিফ দুলাল।
জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পূর্বপাশের বাংলাদেশ হকার্স লীগ সাভার উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নামে চাঁদা আদায় করা হয়। আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করলেও তা এখন ভিন্নভাবে আদায় করেন। প্রতিদিন ১০ হাজার ৫শ’ টাকা হারে ডাকের মাধ্যমে অগ্রীম নেন সংগঠনের নেতারা। জানা যায়, ডাকের এ চাঁদা আদায় করছে জুয়েল, দেলোয়ার, আনোয়ার ও তারেক।
অন্যদিকে, মহাসড়কের পশ্চিমপাশে আওয়ামী হকার্সলীগ এবং ছিন্নমূল হকার্সলীগের ব্যানারে চাঁদা আদায় করা হয়। সেখানেও প্রতিদিন ৯ হাজার টাকার হারে ডাকে দেওয়া হয়। এ ইজারা তাদের সংগঠনের সিনিয়র নেতারাই প্রতিমাসে নিয়ে থাকেন বলে সূত্র জানান। হকার্স নেতা হারুনের নেতৃত্বে ভাসমান দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী হকার্সলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, আমরা কোন চাঁদাবাজি করি না। হকার্সদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা সংগঠনের জন্য। তবে কত টাকা নেওয়া হয় মোবাইলে বলা যাবে না বলেও জানান তিনি।
প্রতিদিন ফুটপাত ইজারা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হকার্স লীগ সাভার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, আমি জেল থেকে আসার পর থেকে সংগঠনের অফিসেই আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। তবে প্রতিদিন ১০ হাজার ৫শ’ টাকা করে ডাক উঠে ফুটপাত থেকে এটা শুনেছি।
অন্যদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে উভয়পাশ এবং ফুটওভার ব্রিজসহ বিভিন্নস্থানে প্রতিদিনই নতুন করে বসছে ভাসমান দোকান। ব্রীজের গোড়ায় হকার বসাতে সাধারন মানুষের ব্রীজে ওঠানামা করতে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। তবে চাঁদাবাজির জন্য ফুটপাতে হকার বসানো ফলে প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার পথচারী। সাধারণ মানুষের দাবী মহাসড়কের দুইপাশ ও ফুটওভার ব্রীজের উপর থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।
২৭৬ দিন ১৯ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২৮৪ দিন ১৪ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২৮৯ দিন ১৮ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৩৩৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৩৬১ দিন ২০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৩৭৪ দিন ১৫ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩৭৭ দিন ১১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৩৭৭ দিন ২০ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে