শোনা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কথাটির সত্যতা কতটুকু?
এই বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। দু-তিন দিন পর হয়তো বলা যাবে। কারণ এখন অবধি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বা প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। তবে নির্বাচন করি বা না করি আমি তো দলের সঙ্গে সবসময়ই আছি। আমি মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। একটুকু বলবো, নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী চাইলে অবশ্যই নির্বাচন করব।
এর বাইরে চলচ্চিত্র ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘১৯৭১ সেইসব দিন’ আসছে ১৮ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে। পাশাপাশি ‘মাইক’ সিনেমাটির কাজ শেষ করেছি। এটাও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিশুতোষ সিনেমা। এছাড়া কাজ করলাম ‘সুজন মাঝি’ সিনেমাটির। এতে ফারুক ভাইয়ের ‘ঝিনুকমালা’ সিনেমার ‘তুমি আমার মনে মাঝি’ গানটিও এই সিনেমায় ব্যবহার করেছি। এর বাইরেও ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’, ‘দামপড়া’, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ শেষ করেছি।
অভিনেত্রী ও নির্মাতা হূদি হকের প্রথম এই সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সিনেমাটিতে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। আমার ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। অন্য ভাই চাকরি করেন। এই পুরো পরিবার যুদ্ধে কীভাবে অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি ভালোবাসা, বিরহ, প্রতিবাদ রয়েছে। হূদি খুবই যত্ন নিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটি ছবি নির্মাণ করেছে। আমার কাছে মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম সিনেমা হবে এটি।
এক সময় ফেরদৌস-পূর্ণিমা জুটির সিনেমা মানেই দর্শকদের কাছে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই জুটি পর্দায় আসছে।
হ্যাঁ, ‘গাঙছিল’, ‘জ্যাম’, ‘আহারে জীবন’ শিরোনামের তিনটি সিনেমায় আমরা অভিনয় করছি। ফেরদৌস-পূর্ণিমাকে তো দর্শকরা শুরু থেকেই গ্রহণ করেছেন। সেটা উপস্থাপনা বা সিনেমা, যেটাই হোক। তাছাড়া যেহেতু দীর্ঘদিন পর আমাদের সিনেমা আসছে সেহেতু নিশ্চয় দর্শকরা আগের মতোই ভালোবাসা আমাদের দেবেন।
চলতি বছর নিয়মিতই সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। তবে দর্শক প্রত্যাশা সেভাবে মেটাতে পারছে না। ফেরদৌসের সিনেমাগুলো কতটা সফল হবে মনে করছেন?
দেখুন, দিনশেষে দর্শকরা কিন্তু আমাদের নিজেদের গল্পের সিনেমাই দেখে। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, যেহেতু আমার আসন্ন সিনেমাগুলো দেশের গল্প-প্রেক্ষাপটে নির্মিত, তাই দর্শক আগ্রহও ভালো থাকবে এবং সাড়া জাগাবে ছবিগুলো।
হিন্দি সিনেমা আমদানি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। আবার অনেকেই বলছেন দেশের চলচ্চিত্র অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আসলে এখনকার পরিস্থিতিতে চোখ-কান বন্ধ করে থাকলে হবে না। বিশ্ব চলচ্চিত্র যেদিকে যাচ্ছে সেদিকে যেতে হবে। নিজেদের গণ্ডির ভেতর আবদ্ধ রাখলে তো কোনো প্রতিযোগিতা হবে না। তাতে আমরা পিছিয়ে পড়বো। তাই আমি হিন্দি বা অন্য ভাষার সিনেমা আমদানিতে সংকট বা সমস্যার কিছু দেখি না। সমস্যা যা দেখি সেটা আমাদের। আমরা ভালো সিনেমা দর্শকদের উপহার দিতে পারি না।আবার সরকার অনুদান দিলেও সেই সিনেমা আলোর মুখ দেখে না বা দায়সাড়া ভাবে কাজ করি।
এই দায়সাড়া কাজের কারণ কী মনে করেন?
দেখুন, এখানে আমাদের নৈতিকতার অভাব রয়েছে। এখন আমাদের নতুন পুরনো মিলে অনেক ভালো ভালো নির্মাতা-শিল্পী রয়েছেন। সবাই সততার সঙ্গে দেশের গল্প নিয়ে কাজ করলে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। এতে দর্শক হলমুখী হওয়ার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিও লাভবান হবে।