বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের নিজস্ব অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন দোহাজারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা ও এক হাত বিচ্ছিন্ন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বাঘ সংরক্ষণে সকলকে ভূমিকা রাখার আহব্বানে শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত ‎ ‎বিশ্ব বাঘ দিবসে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের আহ্বান গোয়ালন্দে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই।। চক্রের দুই সদস্যকে কুষ্টিয়া হতে গ্রেফতার ৫২ পিস ইয়াবাসহ পাংশায় মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পবিপ্রবিতে উদ্ভাবিত চারা উপহার দিতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে নবীনদের বরণ র‌্যাব-১৫ এর ঝটিকা অভিযানে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৩টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার। গলাচিপায় ফ্যামিলি শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণ করেই মাদকবিরোধী অভিযানে ওসি তামবিরুল ইসলাম, গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক ক্রীড়াঙ্গণে রাজনীতি আসা উচিত নয়: মির্জা ফখরুল আইফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল অ্যাপল বাংলাদেশ দলের ঘাটতি কোথায় বললেন সাকিব "নারী—ইসলামের আলোয় জ্যোতির্ময় মর্যাদার অমর কাব্য" কুলিয়ারচর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করতে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলমের ডিও লেটার বর্তমানে দেশের রিজার্ভ ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছেন ও চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

ইজ্জুদ্দিন আল-কাসাম : একজন পথপ্রদর্শক

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 12-11-2023 03:00:24 pm

◾ছিবগাতুল্লাহ আলিফ শাহ : প্রত্যেকটি জাতির মাঝে একজন পথপ্রদর্শক উদিত হয় বিভিন্ন সময়।ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ছিলেন তেমনি একজন পথপ্রদর্শক। যিনি ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।এই মহান সংস্কারকের জন্ম ১৯ ডিসেম্বর ১৮৮২ সিরিয়ার জাবালাহ গ্রামে। তখনও কিন্তু ওসমানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান ছিল। তাঁর পিতা ওসমানীয় যুগে শরয়ী আদালতের একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং দাদা কাদেরিয়া তরিকার একজন প্রধান শাইখ ছিলেন।আল-কাসসাম হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।


তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া জন্মস্থান জাবালাহে করেছিলেন।তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ালেখা করেছেন। তিনি সংস্কারবাদী আলেম শাইখ আবদুহুর ছাত্র ছিলেন।আল আজহারে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কাজের ব্যাপারে চিন্তাধারা গঠন করেছিলেন।

কৃষক ও অন্যান্য স্থানীয় জনতার কাছে তিনি জিহাদের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার তাগাদা দিতেন। কারণ তখন ইউরোপীয় বিভিন্ন উপনিবেশী শক্তি আরবদের উপর আগ্রাসন চালাচ্ছিল।উসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে বের হয়ে আসতে নানা ধরনের প্রলোভন দিচ্ছিল।


১৯০৯ সালে তিনি আলেম হিসেবে নিজ জন্মস্থানে ফিরে আসেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি ইব্রাহিম ইবনে আদহাম মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।নিজ জন্মস্থানে প্রত্যাবর্তনের পর আল-কাসসাম নৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের উদ্যোগ নেন।নিয়মিত নামাজ ও রোজা পালন এবং জুয়া,মদ্যপান,নাচ-গান ও পতিতালয় বন্ধ করা তাঁর কার্যক্রমের অংশ ছিল।অল্প দিনে তার কার্যক্রমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।স্থানীয় জনগণ তার সংস্থার গ্রহণ করে।পর্যায়ক্রমে তিনি প্রভাবশালী আলেম হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছিলেন।

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে সেপ্টেম্বরে ইতালি কর্তৃক লিবিয়া আগ্রাসনের পর ওসমানীয়-লিবিয়ান প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্য তিনি জাবালাহে তহবিল সংগ্রহ করেন এবং একটি বিজয় সংগীত রচনা করেন। 


সংগীতটি ছিল এমন ;

হে দয়ালু,হে পরম করুনাময়

আমাদের অভিভাবক সুলতানকে বিজয়ী কর

এবং শত্রু ইতালীয়দের পরাজিত কর।


প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ওসমানীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি অস্ত্র চালানয় দক্ষ ছিলেন। পরবর্তীতে বৈরুত হয়ে হাইফা নগরীতে চলে আসেন। তিনি সর্বদা জনসাধারণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে এখানেও,বিশেষত উত্তর ফিলিস্তিনের দরিদ্র মুসলিমদের মাঝে আল-কাসসাম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

আমেরিকা ইতিহাসবিদ এডমন্ড বার্কের মতে আল-কাসসাম ছিলেন : " ইসলামী সামাজিক মূল্যবোধ গভীরভাবে অনুপ্রাণিত এক ব্যক্তি এবং যিনি ফিলিস্তিনি কৃষক ও উদ্বাস্তদের দুরবস্থার কারণে তাড়িত হয়েছিলেন।ব্রিটিশ ম্যান্ডেটরি ফিলিস্তিনে,প্রাচীন সামাজিক ব্যবস্থার লঙ্ঘনের সাথে মুসলিম হিসেবে আল-কাসসামের প্রধান ধর্মীয় উদ্বেগ জড়িয়ে ছিল।এই ক্রোধ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে যা তাকে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য করে এবং ফিলিস্তিনের উল্লেখযোগ্য রাজনীতিকদের কাছ থেকে পৃথক করেছে।"


তিনি তাঁর জ্বালাময়ী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে ব্রিটিশ ও ইহুদিদের প্রতিরোধ করতে উৎসাহিত করতেন।জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি মোহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনির সাথে তাঁর বেশ সখ্যতা ছিল। 

১৯২৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হাইফায় জামিয়াত আল- শুব্বান আল-মুসলিমিন দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৩০ কিংবা ১৯৩১ সালে তিনি গেরিলা সংগঠন আল-কাফ আল-আসওয়াদ (কালো হাত) প্রতিষ্ঠা করেন।এটি একটি জয়নবাদ ও ব্রিটিশ বিরোধী সংগঠন ছিল।১৯৩১ সালের ১১ ই এপ্রিল তিনজন ইয়াগুর সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে আল-কাফ আল-আসওয়াদের হামলা শুরু হয়।যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের সময় আল-কাসসাম উন্নত চরিত্রের উপর জোর দিতেন।অসহায় মানুষদের সেবা,পরিবারের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা এবং নিয়মিত নামাজের উপর গুরুত্বারূপ করা হত।তাঁর সদস্যগণ আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকত।তারা 'কাসসামিইয়ুন' নামেই প্রসিদ্ধ ছিল।তারা ইহুদি বসতি এবং ব্রিটিশদের নির্মিত রেল লাইনে আক্রমণ করত।


১৯৩৫ সালের ৮ ই নভেম্বর বৃটিশ কনস্টেবল মোশে রোসেনফেল্ডের হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের দায়ী করা হয় এবং তাঁকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ২০ শে নভেম্বর সংগঠিত একটি দীর্ঘ লড়াইয়ে তিনি শহীদ হন।তাঁকে ফিলিস্তিনি গ্রাম বালাদ আল- শাইখের মুসলিম কবরস্থানে(বর্তমানে হাইফা নগরীতে অবস্থিত) দাফন করা হয়।

এই মহান মনিষির নামেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দীন আল- কাসসামের নামকরণ করা হয়েছে।


আরও খবর