বর্তমানে জেলার মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। প্রতিবছর খাদ্য ঘাটতি পূরণ ও লাভের আশায় ব্যাপক পরিমাণ জমিতে বোরো ধান চাষ করেন কৃষকরা। কৃষকরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে তোড়জোড় শুরু করেছেন।
এবার সাতক্ষীরা জেলার অধিকাংশ কৃষি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। আকাশে উত্তর পূর্ব কোণে কালো মেঘ জমতে দেখলেই মুখ যায় শুকিয়ে তাদের। মাঠ থেকে ধান কেটেই দ্রুত নেওয়া হচ্ছে বাড়ির আঙিনায়। তবে কালবৈশাখী ঝড়ের আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা। ঝড়ের তান্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে ক্ষেতের ফসল। তাই ঝড়ের আশঙ্কায় পাকা আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সাথে সাথে ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে গাছ থেকে ধান ছাটাই করে বস্তা ভর্তি করছেন কৃষকরা।
কামালনগর এলাকার কৃষক মোজাহার আলী জানায়, তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে কুড়ি বস্তা (৩০ মণ) ধান পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রতি বস্তায় ধানের পরিমাণ ৬০ কেজি অর্থাৎ দেড় মণ। সেই হিসেবে ৪ বিঘা জমিতে তিনি ৮০ বস্তা ধান পাওয়ার আশা করছেন। কৃষক মোজাহার আলী জানান, এবার বোরো চাষে পোকা মাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় কীটনাশক ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে। তবে তেল, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে খরচ কিছুটা বেড়েছে।
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা বোরো ধানের ন্যায্য বাজার মূল্য পেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ধুলিয়র, মাছখোলা, রইচপুর, পরানদহা, বাঁশদহা, বৈকারী, বৈচনা ও শশাডাঙ্গা মৎস্য ঘেরাঞ্চলের কৃষি জমিতে রোপন করা বোরো ধান কাটা ও মাড়াই করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, বোরো ধান কাটার মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারবেন। এছাড়া সরকার এবার কৃষকদের নিকট থেকে ন্যায্য মূল্যে বোরো ক্রয় করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, জেলার কৃষিসমাজ এবার ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, দেশে জিডিপিতে এখন পর্যন্ত কৃষি খাতের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু যথাযথ নীতির অভাবে কৃষিখাত ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানির জন্য দাতাদের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। নির্ভরতা কমানোর জন্য তাই কৃষি খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সাধারণত ধানের ৮০-৯০ ভাগ পেকে গেলে কৃষকদের তা কর্তনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
১ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে