আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি, পটাসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং হাড় ও দাঁতের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলতি মৌসুমে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ফুটেছে আমের সোনালি মুকুল। গাছে গাছে ফোটা এই মুকুলের দৃশ্য যেমন প্রকৃতিকে করেছে মনোরম, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শীত শেষে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া, দীর্ঘ সময় ঘন কুয়াশা না থাকা এবং ঝড়–বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার অনুপস্থিতি মুকুল আসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে গাছে গাছে সতেজ ও উজ্জ্বল মুকুল দেখা যাচ্ছে।
যদিও শিবচরে এখনো বড় পরিসরে বাণিজ্যিক আম বাগান গড়ে ওঠেনি, তবু ফলচাষে স্থানীয়দের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক বোরোই, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শিবচরের মাটি ও আবহাওয়া বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এখানে লাভজনক আম বাগান গড়ে তোলা সম্ভব।
চরশ্যামাইল এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা সুজন মুন্সি বলেন, “আমি ও আমার এলাকার মোফাজ্জেল মিয়া মিলে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বোরোই, পেয়ারা, লেবু, কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় পেয়ারা ও বোরোই। এ বছর গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে আমরা আম চাষে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছি। সঠিক জাত নির্বাচন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক আম বাগান গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আম চাষে সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা গেলে ফলন ও লাভ—দুটিই বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, “শিবচরে যেসব যুবক বা উদ্যোক্তা আম চাষে আগ্রহী, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সার্বিক সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে স্থানীয়ভাবে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করলে যুবকেরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং এতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।”
প্রতিটি আঙিনায় ফুটে থাকা সোনালি মুকুল যেন শিবচরের প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে নতুন রঙ। একই সঙ্গে এটি শুধু সম্ভাব্য ভালো ফলনের পূর্বাভাসই নয়—বরং কৃষিনির্ভর উন্নয়ন ও তরুণ প্রজন্মের নতুন স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠছে।
১৬ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৪ দিন ১৬ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১২ দিন ১৮ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৮ দিন ১ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২০ দিন ১৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
২১ দিন ৬ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
২১ দিন ২০ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৩৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে