ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। পুরো ক্যাম্পাসের ভবনগুলো ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হলেও কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। সংযোগের ঘন ঘন বিচ্ছিন্নতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে লোডিং সমস্যার কারণে এই সেবা এখন শিক্ষার্থীদের জন্য একপ্রকার বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিভাগের ক্লাসরুমে ওয়াইফাইয়ের সংকেত (সিগন্যাল) দেখা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। অনেক বিভাগের কক্ষেই ইন্টারনেট একেবারেই কাজ করে না। অথচ পড়াশোনা, গবেষণা এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও ধীরগতির কারণে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগের কম্পিউটার ল্যাবে ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও প্রয়োজনীয় গতি না থাকায় নিয়মিত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং গবেষণামূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জরুরি একাডেমিক কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডাউনলোড বা আপলোড করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি ওয়াইফাই সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও প্রশাসনিক ভবন ছাড়া ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ডাইনিংয়ের মতো জায়গায় ইন্টারনেট না থাকায় অনেক সময় অনলাইন লেনদেনও করা যায় না। এতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ধীরগতির ইন্টারনেট আমাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। অনলাইন ক্লাস, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, জার্নাল ও ই-বুক ডাউনলোড, শিক্ষকদের দেওয়া পিডিএফ সংগ্রহ, এমনকি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতেও প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। পরীক্ষার নিবন্ধন, বৃত্তির আবেদনসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবাও ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কিং এন্ড আইটি সেক্টরের পরিচালক ড. মো. মনজুর আহমেদ বলেন, আপনারা যে সমস্যার কথা বলেছেন, তার মূল কারণ আমাদের ব্যবহৃত রাউটারগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। ইন্টারনেট সংযোগে কোনো সমস্যা নেই মূল সমস্যা রাউটারেই। এ বছর আমরা নতুন বাজেট পেয়েছি। খুব শিগগিরই পুরোনো রাউটারগুলো পরিবর্তন এবং নেটওয়ার্কের কভারেজ বাড়ানোর কাজ শুরু হবে। কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো মানের ইন্টারনেট সেবা পাবেন বলে আশা করছি।
২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৫ দিন ২২ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৬ দিন ২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৬ দিন ২২ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৭ দিন ২৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৯ দিন ১৮ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১১ দিন ২২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১২ দিন ২১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে