লালপুর মসজিদের ডিজিটাল সাইনবোর্ডে জয় বাংলা স্লোগান লেখা ফুচকা খেয়ে অভয়নগরে ২১৩ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড় কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ঈদ আনন্দ-উচ্ছাস উখিয়ায় মাদক কারবারি ইমাম হোসেন আটক শিক্ষার্থী ও দুরারোগ্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান চৌদ্দগ্রামে তারেক রহমানের ঈদ উপহার পেলে শহীদ আইয়ুবের পরিবার সাতক্ষীরায় পাটকেলঘাটায় আলামিন ফাজিল মাদ্রাসার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত মাগুরায় গার্মেন্টস মালিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, হুমকির মুখে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের মধুপুরে মহিলাদের ঈদ পুনর্মিলনী সভায় বক্তব্য দেন জিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক এডভোকেট মোহাম্মদ আলী নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠিত মধুপুরে মহিলাদের ঈদ পুনর্মিলনী করছেন বিএনপি'র মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন সেনবাগ এর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত অনৈতিকভাবে লিজের অভিযোগ রেলওয়ে কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে যারা গুপ্ত রাজনীতি করে তাদের জন্য শুভকামনা নেই, ছাত্রদল সভাপতি আক্কেলপুর মেলায় পুতুল নাচের নামে অশ্লীলতা গুডিয়ে দিল উপজেলা প্রশাসন. লালপুরে শিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। ব্যাংক বন্ধ হবে না, ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে একীভূতকরণ: গভর্নর সীমান্তে পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনাদের গোলাগুলি, উত্তেজনা জনগণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নির্ঘুম থেকে কাজ করছে’

জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দ্বীনি ইসলাম প্রচারে মুফতি পরিবারের অবদান

মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন ( Contributor )

প্রকাশের সময়: 31-03-2024 05:04:31 pm

জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দ্বীনি ইসলাম প্রচারে মুফতি পরিবারের অবদান 


            মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন 
চন্দনাইশ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলাটি  দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাহাড়ী ও সমতল ভূমির সন্নিবেশে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এই উপজেলায় বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহীর মধ্যে "মুফতি পরিবার" সুপ্রসিদ্ধ ও খ্যাতিসম্পন্ন পরিবার। তৎকালীন  আলিমদের অতীত খুবই সমৃদ্ধ। তারা অত্র এলাকায় দ্বীন প্রচার বিশেষ করে দ্বীন শিক্ষা প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা নিজ গৃহে ছাত্র সংগ্রহ করে এবং থাকা খাওয়া নিজেই বহন করে দ্বীনি শিক্ষা দিতেন। আলিমগণ  শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও জনকল্যাণ মূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাছাড়া আলেমগণ অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের রূপকার এবং পুরোধা ছিলেন। চন্দনাইশের ঐতিহ্যবাহী  মুফতি পরিবারের প্রধান কেন্দ্র বিন্দু মুফতি শফিউর রহমান (রহ)ও ব্যতিক্রম ছিলেন না।তিনি বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন  এবং পাকিস্তান আন্দোলনে  সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছাত্র ও কর্মজীবনে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এমন কি কারাবরণও করেন। সফল আন্দোলনের মাধ্যমে বৃটিশ খেদাও কাজে ব্যক্তিত্ববান পুরুষের ভূমিকা পালন করে তাতে সফল হন। ছাত্র রাজনীতির এ সময়কালটা তাঁর সফল ব্যক্তিত্বের জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি "মুফতি সাহেব" নামে সুপরিচিত।  পাশাপাশি তিনি ওয়াজ  নসীহতও করতেন। তাঁর ওয়াজে মাসআলা বেশী প্রাধান্য পেতো। তিনি ফতোয়ায় অনেক দক্ষ ছিলেন। তিনি বেশ কিছুদিন মায়ানমারে অবস্থান করেন। যার ফলে বার্মার থান্ডি সাহেবের মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও মসজিদের খতীব ছিলেন। ১৯১২ সালে তিনি বার্মা হতে দেশে ফিরে আসেন। তিনি দেশে এসে নিজ এলাকায় তার শিক্ষক মাওলানা নজীবুল্লাহ (রহ) কতৃক প্রতিষ্ঠিত   চন্দনাইশে হাশিমপুর মকবুলিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসাটি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে ১৯৩৯ সাল হতে ১৯৫৭ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। এবং পরবর্তীতে নিজ বাড়ীর পাশে জোয়ারা ইসলমিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ পদে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সহিত নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণ করলেও ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত মাদরাসার বিভিন্ন কাজে অবদান রাখেন। উক্ত মাদরাসার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তাঁকে অনেক প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়। তবুও তিনি হার মানেননি। কখনো কারো সাথে পরাজয়ের সুরে কথা বলেন নি। কারো কাছে কোনো আত্মসমর্পন করেননি। মাদরাসা পরিচালনার জন্যে তিনি কখনো কোন বিত্তশালীর কাছে বিনীত সূরে সাহায্য প্রার্থনা করেননি, বরং স্থানীয় জনগণ ও দুর-দুরান্তের ভক্তগণ তাঁর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নিজস্ব উদ্যেগে সাহায্য দেয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেছে বারবার। এমনি কি মুফতি সাহেব মাদরাসার উন্নয়নে নিজের অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হতেন না। এই মাদরাসার বর্তমান  পরিচালনা কমিটির প্রায় সদস্য তাঁরই হাতে গড়া আদর্শ ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের মধ্যে মুফতি সাহেবের ব্যক্তিত্বের প্রভাব সুস্পষ্ট। তারা এখনো বিশ্বাস করেন মুফতি সাহেবের শুভ দৃষ্টি তাদের একমাত্র ক্রিয়াশক্তি। 
বার আউলিয়া স্মৃতি বিজড়িত চন্দনাইশ উপজেলার  বিখ্যাত আলেম পরিবার ও  জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্য "মুফতি পরিবার" সুপরিচিত।এই পরিবারের নামানুসারে পাড়ার নাম "মাওলানা মন্জিল" রাখা হয়। মুফতি সাহেবের ৯ ছেলে ৫ মেয়ে সবাই দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত। 
(১) মাওলানা মাহমুদুর রহমান (রহ):
তিনি নিজ পিতার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার পর তাঁর পিতা মায়ানমারের আকিয়াবে অবস্থান করার সময় মাওলানা সুলতান আহমেদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার পিতা দেশে ফিরে আসার পর তিনি হাশিমপুর মকবুলিয়া ফাজিল মাদরাসায় কিছুকাল অধ্যায়ন করেন। অতঃপর তিনি নাজিরহাট জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম দারুল উলূম মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখানে যথাক্রমে ১৯৫১ আলিম, ১৯৫৩ সালে ফাজিল এবং ১৯৫৫ সালে কামিল কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।তিনি ছাত্রজীবন সমাপ্ত করার পর  তার পিতা কতৃক প্রতিষ্ঠিত জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ১৯৫৭ সালে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তখন পিতা মুফতি শফিউর রহমান অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত ছিলেন।  ১৯৭২ তার পিতা অবসর গ্রহণ করার পর তিনি কৃতিত্বের সাথে অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি ১৯৬৫ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া,ঢাকায় ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠানকালে মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহসান (রহ) এর সান্নিধ্য লাভ করেন। এ সময় তিনি তাঁর নিকট বায়আত হন। এমন কি মাওলানা মাহমুদুর রহমান "জামিয়াতুল মুদাররেসীন" সংস্থার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৫ শে মহররম, ১৪২৬ হিজরী/৮ই মার্চ, ২০০৫ সালে তার প্রভুর ডাকে সাড়া দেন।

(২) মাওলানা মাহফুজুর রহমান:
তিনি মুফতি শফিউর রহমান (রহ)'র দ্বিতীয় পুত্র। তিনি মকবুলিয় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সোবাহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা হতে আলিম,ফাজিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় কিছুদিন শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে  দীর্ঘ ৪৫ বছর খাতুনগঞ্জ জামে মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  তিনি দারুল ইফতা শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩০ মে রাত আনুমানিক ৯টার সময় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।  ৩১মে রোজ (বুধবার) বাদে জোহর জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার মাঠে মরহুমের একমাত্র ছেলে মাওলানা মতিউর রহমানের ইমামতিতে উক্ত জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজার শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

(৩) শায়খুল হাদীস আল্লামা  ফখরুদ্দীন (রহ) 
 তিনি ১৯৪৯ সালের ১ মার্চ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ সালে আলিম পরীক্ষায় ১ম বিভাগ, ১৯৬২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ৫ম স্থান, ১৯৬৪ সালে কামিল হাদীস পরীক্ষায় ১ম শ্রেণি ২য় স্থান, ১৯৬৬ সালে কামিল ফিকহ পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান ,১৯৬৭ সালে ডিপ্লোমা ইন-আদীব পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান, ১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা ইন-আদীব-ই-কামিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করেন। তিনি ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা এর রিচার্স এন্ড পাবলিকেশন বিভাগ হতে সরকারি স্কলারশীফ নিয়ে আল্লামা আব্দুর রহমান কাশ-গড়ী (রহঃ) এর তত্ত্বাবধানে “ফোকাহায়ে ইষ্ট পাকিস্তান কে ফেকহী কারনামে” শীর্ষক অভিসন্দর্ভের উপর গবেষণা করে রিচার্স স্কলারশীফ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় অধ্যয়ন কালে মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহছান মুজাদ্দেদী (রহ:) থেকে ইলমী জাহেরী ও ইলমে বাতেনী হাসিল করেন।তিনি তাঁকে স্বীয় তরীকতের ওজীফা ও শাজরা শরীফ প্রদান করেন। মাওলানা ফখর উদ্দীন (রহ:) মুফতি সাহেবের নিকট হতে তাফসীর,হাদীস,ফিকাহ ও তরীকতের সনদ গ্রন্থ “মিন্নাতুল বারী” এর ইযাযত লাভ করেন। এতদ্ব্যতীত আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী (রহ:) স্বীয় হাদীসের সনদগ্রন্থ “আল-ইযাযাতুল মতীনাহ লে ওলামায়ে বাক্কাতাহ মদীনাহ” স্বীয় শিষ্য ও খলীফা,আলেমকুল সম্রাট আল্লামা যুফর উদ্দীন বিহারী (রহ:) কে ইযাযাত দান করেন। তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহছান মুজাদ্দেদী (রহ:) কে উক্ত সনদগ্রন্থটি ইযাযাত দান করেন। তিনি স্বীয় শিষ্য ও খলীফা ঢাকা সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফখর উদ্দীন (রহ:) কে এ সনদগ্রন্থটি ইযাযাত দান করেন। তিনি মুফতি সাহেবের পূণ্যময় হস্তে মুজাদ্দেদীয়া নকশবন্দীয়া ও কাদেরিয়া রেজভীয়া তরীকতের ইযাযাত লাভ করেন।  ৩১ অক্টোবর ১৯৬৮ সালে মাওলানা ফখর উদ্দীন সাহেব (রহঃ) সরকারি সিলেট আলিয়া মাদরাসার মুদাররিস হিসেবে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি কিছুদিন ছোবহানিয়া আলিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।০৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৭০ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় বদলী হন।১০ এপ্রিল ১৯৭৬ হতে ০৪ মে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত প্রভাষক (হাদীস বিভাগ) হিসেবে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা, ০৫ মে ১৯৭৯ সালে একই পদে পুনঃরায় মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকায় বদলী হন। ২২ আগস্ট ১৯৮৪ সালে সহকারী অধ্যাপক (কুরআন ও তাফসীর বিভাগ) হিসেবে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় উন্নীত হন। ০৫ আগস্ট ১৯৮৯ সালে একই পদে সিলেট আলিয়া মাদরাসায় বদলী হন। ২০০০ সাল হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে সিলেট আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, ২২ জানুয়ারী ২০০২ সাল হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ এবং ২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সুনাম ও দক্ষতার সহিত নিবিড়াভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকুরী হতে অবসর নেয়ার পর বেশ কিছু মাদ্রাসা থেকে তাঁর কাছে শিক্ষকতার অফার আসে। অবসর গ্রহণের দুই বছর আগে থেকেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি সাহেব সিলেট এসে তাঁকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার প্রস্তাব দেন। তাছাড়া সিলেটেও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় প্রস্তাব দেন। চুনতীর এক দাওয়াতে তাঁর শ্রদ্ধেয়ভাজন ওস্তাদ পীরে কামেল শাহ হাবীব আহমদ (রহ:) এর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সকল প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান চুনতী হাকীমিয়া আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস হিসেবে বেসরকারিভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত স্থানীয় মুরব্বীদের অনুরোধে চন্দনাইশ “এয়াকুব মরিয়ম জামে মসজিদ” এর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দারুল ইফতা শাখায় প্রধান মুফতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৯৩ সালে সিলেট জেলা হতে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সরকারের নিকট হতে পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন।তিনি অসংখ্যবার বেসরকারীভাবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। এমনকি এই প্রথিতযশা আলেমেদ্বীনকে ১২ জানুয়ারী ২০১২ সালে চুনতি হাকীমিয়া আলিয়া মাদরাসার কামিল শ্রেণীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি ২৬ মে ২০১১ সালে তার প্রভুর ডাকে সাড়া দেন।

(৪) শমে-এ বাংলা অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দীন  (রহ):
তিনি ১৯৫৮ সালে চন্দনাইশস্থ জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা হতে দাখিল পাস করার পর ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলূম আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি এ মাদরাসা হতে আলিম ও ফাজিল কৃতিত্বের সাথে পাস করেন। ১৯৬৬ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা হতে কামিল পাস করেন। ১৯৬৮ সালে সরকারী বৃত্তি নিয়ে মাদরাসা-ই-আলিয়া,ঢাকায় ছাত্র থাকাকালীন সময়ে "খাওয়াতীন-এ ইসলাম-কে কার নাম" উর্দু ভাষায় গবেষণা থিসিস রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় নি। তাঁর প্রণীত "লাইলাতুল কদর" শীর্ষক পুস্তকটি (উর্দু ও বাংলা) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রসূল এর পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের খ্যাতনামা আলিম মুফতি শফি ওকাড়বী (রহ) এর রচিত সাওয়াবুল ইবাদত ও বরকাতে মীলাদ উর্দু দু'টি বই বঙ্গানুবাদ করেন। যা যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ,  রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলূম সিনিয়ার মাদরসায়  শিক্ষকতা করেন। পটিয়া অহিদিয়া ও বোয়ালখালী চরণদ্বীপ রিজভীয়া মাদরাসায় অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইন্তেকালে পূর্ব পর্যন্ত  সোবাহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৯ জুলাই ইন্তেকাল করেন।
(৫) মাওলানা বোরহান উদ্দীন (রহ):
তিনি  জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাল্য হতে  আলিম পর্যন্ত, দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসা হতে ফাজিল এবং সরকারী মাদ্রাসা আলিয়া-ঢাকা হতে কামিল সহ প্রতিটি  পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। একই সাথে চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাই স্কুলে সহকারী মৌলভী হিসেবে অবসরের পূর্ব পর্যন্ত দক্ষতা সাথে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবন শুরুতে তিনি কিছুদিন জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।বর্তমানে তিনি ইসলামের খেদমতে মাওলানা মন্জিল মুফতি শফিউর রহমান (রহ) জামে মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ৩০ আগষ্ট ২০১৯ রোজ শুক্রবার রাত ১১.০০ ঘটিকায় তাঁর প্রভুর ডাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরের দিন বিকেল ৩.০০ ঘটিকায় জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ময়দানে তাঁর জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মেঝো ভাই   মাওলানা মাহফুজুর  রহমানের ইমামতিতে উক্ত জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়।  পরে তাঁকে তার পারিবারিক কবরস্থান মাওলানা মঞ্জিলে দাফন করা হয়।
(৬) মাওলানা মঈন উদ্দীন :
তিনি বাল্যকালে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল,  আলিম ও সরকরী মাদ্রাসা আলিয়া-ঢাকা হতে ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। একই সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী  দ্বীনী প্রতিষ্ঠান জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সিনিয়র সহকারী মাওলানা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ইসলামের খেদমতে মাওলানা মন্জিল মুফতি শফিউর রহমান (রহ) জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে এবং স্থানীয় একটি মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি চন্দনাইশের সুবিখ্যাত অলী হযরত আমিনুল্লাহ শাহ মাজার (প্রকাশ বুড়ো মাওলানা সাহেব) জামে মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

(৭) মাওলানা তাজ উদ্দীন:
তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল, আলিম ও ফাজিল এবং সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকা হতে কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক,হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ, চন্দনাইশের এলাহাবাদ ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি  জামালপুরের আল আমিন জামিরিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চন্দনাইশের সুবিখ্যাত অলী হযরত আমিনুল্লাহ শাহ মাজার (প্রকাশ বুড়ো মাওলানা সাহেব) জামে মসজিদে খতীব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

(১.ক) মাওলানা আমিনুর  রহমান (রহ):
অধ্যক্ষ আল্লামা আমিনুর রহমান  ১ মার্চ ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার মাওলানা মঞ্জিলের সম্ভ্রান্ত  ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে  জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম অধ্যক্ষ  মাওলানা মাহমুদুর রহমান (রহ)। তার দাদার নাম অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা  শফিউর রহমান। মাওলানা আমিনুর রহমান বাল্যকালে তাঁর দাদা মুফতি  শফিউর রহমান (রহঃ) ও তাঁর পিতা মাওলানা মাহমুদুর রহমান (রহঃ) এর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ২য়, ১৯৭৯ সালে আলিম পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ৩য়, ১৯৮১ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ৫ম স্থান, ১৯৮৩ সালে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা হতে  কামিল হাদীস পরীক্ষায় ১ম শ্রেণি ৩য় স্থান, ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া,ঢাকা হতে  কামিল ফিকহ পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান , ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ইসলামিক বিভাগ হতে এম.এ ১ম পর্ব ১ম বিভাগ ১ম স্থান, ১৯৯০ সালে এম.এ ফাইনাল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ২য় কৃতিত্ব সহিত উত্তীর্ণ হন।
মাওলানা আমিনুর রহমান ১৯৮৫ সালে উপাধ্যক্ষ ও ২০০২ সালে হতে আমৃত্যু পর্যন্ত অধ্যক্ষ পদে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সুনাম ও সুদক্ষ সহিত নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ০৭ মার্চ ১৯৯৫ মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন রহ: (তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সাবেক মুহাদ্দিস,সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় সাবেক অধ্যক্ষ,চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শায়খুল হাদীস পদে নিয়োজিত ছিলেন।)'র বড় মেয়ে মোছাম্মৎ নুরুন নাহার পারভীনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার শ্বাশুড়ির   নাম ফাতেমা বতুল। তাঁর নানা শ্বশুর আল্লামা আব্দুন নূর সিদ্দিকী (রহ)ও  একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন এবং অলীয়ে কামেল ছিলেন। মাওলানা আমিনুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স শেষ করার পর মাদীনা ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপে সুযোগ পায়। কিন্তু   তিনি তাঁর দাদা মুফতি শফিউর রহমানের নির্দেশে সেখানে না গিয়ে তাঁর দাদার প্রতিষ্ঠিত জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তিনি একজন আলা হযরত গবেষক,রেযা প্রেমিক, রেজভী সাহিত্যচর্চার একনিষ্ঠ সেবক, কাদেরিয়া রেজভীয়া তরিকতের বিশিষ্ট খাদেম হিসেবে মাযহাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রচার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
তিনি ছাত্রজীবন থেকে  লেখালেখি শুরু করেন।বিভিন্ন ম্যাগাজিন,  মাসিক পত্রিকা  সহ  আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকায় তার প্রবন্ধ-নিবন্ধ,  গবেষণা ধর্মী লেখা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি অসংখ্য কিতাব অনুবাদ ও রচনা করেন। বিশিষ্ট লেখক,অনুবাদক ও গবেষক অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুর রহমান এর অনুদিত ও লিখিত বইসমূহ-প্রকাশিত: ইসলাম ও খৃষ্টবাদ, ত্রি-রত্ন সেমিনার: প্রতিবেদক, রেফাঈয়া তরীকতের মূলনীতি, গাউছুল আযম খুলনবী (রহ), চারজন বরেণ্য রেজভী গবেষক, মুহাদ্দিসে আযমে পাকিস্তান(রহ), দাওয়াতে খাচ, খন্দানে রেজভীয়া: পরিচিতি, প্রাচ্যবিদগণের নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতিত্ব, তরীকতের বিধানাবলীরর মর্মকথা, মাতা-পিতার হক গ্রন্থ  পরিচিতি ও লেখক পরিচিতি, হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস, জশনে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, মুফতী সৈয়দ আমীমুল ইহছান (রহ)'র গ্রন্থবলী, অনুবাদ: আল অজীফাতুল কারীমাহ (মূল: ইমাম আহমদ রেযা খান), মি'রাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, মাশায়েখে কাদেরীয়া রেজভীয়া:পরিচিতি, মুফতী সৈয়দ আমীমুল ইহছান (রহ) আধ্যাত্মিক জীবন, সংক্ষেপে সীরাতে রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, ফরয নামাজান্তে মুনাজাতের বিধান, মৃত্যুর পর ঘরে আত্মার আগমন, স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, নবীগণের জন্য আলায়হিমুছ ছালাম বলা প্রসঙ্গে, আদবে শায়খ ও মুরীদান, মাযারে গম্বুজ নির্মাণে ফায়সালা, বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুম্বনের বিধান, ইসলাম, বিজ্ঞান ও ইমাম আহমদ রেযা, সিরাজুম মুনীর, তাওসীফে মিল্লাত এর স্বরণীয় সফরে হজ্ব, মুফতীয়ে আযমে হিন্দ ও তাঁর খোলাফাত, মুফতী আহমদে খান নঈমী : জীবন ও কর্ম, তাজাল্লিয়াতে কুতুবে মাদীনা : জীবন ও কর্ম, সৈয়্যদ আহমদ সাঈদ  কাজেমী : জীবন ও কর্ম।
অপ্রকাশিত : গাজ্জালিয়ে জামান, জিয়া এ মাদীনা : জীবন ও কর্ম, ইউসুফ বিন ঈসমাইল নাবহানী:জীবন ও কর্ম, মুফতী সৈয়্যদ আমীমুল ইহসান (রহ):জীবন ও কর্ম, আল্লামা সদরুল আফাজিল: জীবন ও কর্ম, সবুজ গম্বুজ : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
উল্লেখ্য তিনি গত ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ রাত ০৮.৩০ ঘটিকায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজি'উন।  ০৭ ডিসেম্বর বাদে আসর জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ময়দানে তাঁর জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের একমাত্র  ছেলে আতাউর রহমান রাফির ইমামতিতে উক্ত জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়। 

মুফতি পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শিক্ষকতার সাথে জড়িত। মুফতি পরিবারের  কাছে যারা পড়েছেন কুরআন হাদীসের দরস নিয়েছেন তাদের সংখ্যা এত বেশি যে তাদেরকে সংখ্যায়িত করা এখানে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে যে প্রতিষ্ঠানে খেদমত হচ্ছে, সেখানেই তাঁদের ছাত্র আছে। বিভিন্ন মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ মুহাদ্দিস, প্রফেসর হিসেবে অনেক ছাত্রই আজ নিয়োজিত। মুফতি পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে সঠিক সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপুল সংখ্যক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সহ আরো অনেক কর্মীবাহিনী। আর অসংখ্য শিষ্য বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়া দেশের বাইরেও অনেক ভাল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত। তাছাড়া  দেশের প্রশাসনিক লোকদের মধ্যে মুফতি পরিবারের সদস্যরা নিয়োজিত আছে। তারা নানাভাবে ধর্মীয় ও সামজিক ও রাষ্ট্রীয় নানাক্ষেত্রে খেদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন । 



লেখক : কলামিস্ট। 
সদস্য, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র। 
প্রচার ও প্রকাশনা সচিব, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি। 
Tag
আরও খবর